আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
71 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (1 point)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

সম্মানিত হুজুরের নিকট একটি মাসআলা জানার জন্য আবেদন করছি।

মনে করুন, আবদুল্লাহ নামের একজন ব্যক্তি নিজের থাকার জন্য একটি জমি কিনতে চায়, যার মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু তার কাছে বর্তমানে কোনো অর্থ নেই।

এ অবস্থায় আহসান নামের আরেকজন ব্যক্তি প্রস্তাব দেয় যে, সে নিজে ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে জমিটি কিনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করবে। এরপর সে সেই জমিটি আবদুল্লাহর কাছে ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করবে, যা আবদুল্লাহ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করবে।

শর্তগুলো নিম্নরূপ—

  1. আহসান প্রথমে জমিটি নিজের নামে ক্রয় ও রেজিস্ট্রি করবে।
  2. এরপর ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রির চুক্তি হবে, যা কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।
  3. শুরুতেই আহসান মৌখিকভাবে জমিটি আবদুল্লাহকে বুঝিয়ে দিবে এবং আবদুল্লাহ তা ব্যবহার করবে।
  4. সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ হলে জমিটি আবদুল্লাহর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে।

এ প্রেক্ষিতে জানতে চাই—

১) এই পদ্ধতিতে লেনদেন করা শরীয়তসম্মত হবে কি না? এতে কোনো সুদ (রিবা) বা নিষিদ্ধ বিষয় আছে কি?

২) যদি জায়েজ হয়, তাহলে কি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ১০ বছর) নির্ধারণ করা যাবে?

৩) মাসিক কিস্তির একটি ন্যূনতম পরিমাণ (যেমন ১৫,০০০ বা ২০,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা শরীয়তসম্মত হবে কি?

৪) যদি এই পদ্ধতিতে কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে শরীয়তসম্মত বিকল্প পদ্ধতি কী হতে পারে?

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

বাই মুয়াজ্জাল (বাকিতে বিক্রি)। এর মানে হলো, নির্ধারিত সময়ে দাম পরিশোধ করার শর্তে বাকিতে বিক্রি। অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে একসঙ্গে বা কিস্তিতে সম্মত মূল্য পরিশোধের শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ শরিয়ত অনুমোদিত পণ্য বিক্রি করাকে বাই মুয়াজ্জাল বলা হয়।

বাই মুয়াজ্জালের বৈশিষ্ট্য হলো, নির্ধারিত দামে বাকিতে বিক্রি করা হয়। পণ্য ক্রয় করে মালিকানা লাভ করে বিক্রি করতে হবে। বাই মুয়াজ্জাল চুক্তির সময় পণ্যের অস্তিত্ব থাকতে হবে এবং তা ক্রয়যোগ্য হতে হবে। 

বাকিতে বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই মূল্য পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
নতুবা এটি বৈধ হবেনা।
এটি ধোকার দিকে নিয়ে যাবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৩১৪৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৫৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২২২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৯০৫}

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মুসলমানগণ তার শর্তের উপর থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২৮৯০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪০৩৯}

: یلزم أن تکون المدة معلومة في البیع بالتأجیل والتقسیط (مجلة الأحکام العدلیة مع شرحہا :درر الحکام لعلي حیدر، ۱:۲۲۷، ۲۲۸۔ط: دار عالم الکتب الریاض)، 
সারমর্মঃ
কিস্তি ও বাকিতে বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের সময়সীমা জানা থাকতে হবে।

أما الأئمة الأربعة وجمہور الفقہاء والمحدثین فقد أجازوا البیع الموٴجل بأکثر من سعر النقد بشرط أن یبتّ العاقدان بأنہ بیع موٴجل بأجل معلوم بثمن متفق علیہ عند العقد (بحوث فی قضایا فقہیة معاصرة، ص:۷)، 
সারমর্মঃ
কিস্তির ক্রয় বিক্রয় চার মাযহাব মতে জায়েজ আছে,তবে মূল্য নির্দিষ্ট করতে হবে, মূল্য পরিশোধের সময়সীমা নির্দিষ্ট করতে হবে।

وصح بثمن حال وھو الأصل وموٴجل إلی معلوم؛ لئلا یفضي إلی النزاع (الدر المختار مع رد المحتار، کتاب البیوع، ۷: ۵۲، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔
সারমর্মঃ
নগদ ক্রয় বিক্রয় জায়েজ,আর বাকিতে ক্রয় বিক্রয় মূল্য পরিশোধের সময়সীমা নির্দিষ্ট করার শর্তে জায়েজ,যাতে করে ঝগড়াঝাটিতে না পৌছে। 

শরীয়তের বিধান হলো  কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করলে নগদের চেয়ে বেশি মূল্য নেওয়া জায়েয। 
তবে কিস্তির বিক্রির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে-
১. পণ্যের মূল্য ও আদায়ের তারিখ সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
২. চুক্তির সময় পণ্যের মূল্য চূড়ান্ত হওয়ার পর কিস্তি আদায়ে বিলম্ব বা পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না।
৩. কিস্তি আদায়ের জন্য পণ্য আটকে রাখা যাবে না; বরং চুক্তির পরই পণ্য ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

(মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী জিদ্দা ৭/২/৩২-৩৬; বাইউত তাকসীত ওয়া আহকামুহু, সুলাইমান আততুরকী পৃষ্ঠা : ২২৮; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা, আল্লামা তাকী উসমানী ১/৭)
,
কিস্তির মেয়াদ কম বেশি হওয়ার কারণে পণ্যের মূল্য কম বেশি করা জায়েয। তবে শর্ত হল, কেনা বেচার সময় মেয়াদ অনুযায়ী একটা মূল্য চূড়ান্ত করে দিতে হবে। অর্থাৎ গ্রাহক যদি পণ্যটি কিস্তিতে নেয় তবে তা কত মাসে পরিশোধ করবে এবং মোট কত টাকা পরিশোধ করবে তা চুক্তির সময়ই নির্ধারণ করে নিতে হবে। বেচাকেনা সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কিস্তি আদায়ে বিলম্ব হলেও মূল্য বাড়ানো যাবে না। অথাৎ পূর্ব নির্ধারিত মূল্য অপরিবর্তীত থাকবে। তাই গ্রাহকের দায়িত্ব হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিস্তি আদায় করে দেয়া। যেন বিলম্বের কারণে বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

(জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩১; আলমাবসূত, সারাখসী ১৩/৭; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/৩৭; রদ্দুল মুহতার ৫/৯৯,মাবসূত ১৩/৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১৪২; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/৭-৮)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,

১) প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে লেনদেন করা শরীয়তসম্মত হবে।

তবে এখানে শর্ত হল আহসান প্রথমে সে জমিটি ক্রয় করে প্রকৃত মালিকানা অর্জন করে তার দখলে নিতে হবে।

এরপরে সে আব্দুল্লাহ এর সাথে ক্রয় বিক্রয় চুক্তি করতে পারে।

এক্ষেত্রে সে পরবর্তী তে আব্দুল্লাহর কাছে যে বিক্রি করছে, আব্দুল্লাহ যদি কিস্তি পরিশোধ করতে দেরি করে বা নির্দিষ্ট ১০ বছরের মধ্যে যদি সে টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম না হয়, তাহলে মূল্য বাড়ানো যাবে না।

এক্ষেত্রে তাদের মাঝে যদি পূর্ব হতেই এ ধরনের চুক্তি হয়, যে সে এটা কিনে তাকে দিয়ে দিবে, বা এভাবে চুক্তি করে যে এটা আমি তোমাকে কিনে দিয়ে দিব, পরে তুমি বেশি দামে পড়ে আমাকে দেবে, তাহলে এটি সুদের সাদৃশ্য হওয়ায় অবৈধ হবে।

আহসান যদি জমিটি নিজের দখলে না নিয়ে সরাসরি আব্দুল্লাহকে দিয়ে দেয়, অথবা এক্ষেত্রে আহসান আবদুল্লাহ এর সাথে ক্রয় বিক্রয় চুক্তি যদি না করে,তাহলে এটি জায়েজ হবেনা

২) এক্ষেত্রে টাকা পরিশোধ এর নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ১০ বছর) নির্ধারণ করতে হবে।

৩) মাসিক কিস্তির একটি ন্যূনতম পরিমাণ (যেমন ১৫,০০০ বা ২০,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা শরীয়তসম্মত হবে। 

৪) এক্ষেত্রে লক্ষ্য করতে হবে যে বেচাকেনা সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কিস্তি আদায়ে বিলম্ব হলেও মূল্য বাড়ানো যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (1 point)
"এক্ষেত্রে তাদের মাঝে যদি পূর্ব হতেই এ ধরনের চুক্তি হয়, যে সে এটা কিনে তাকে দিয়ে দিবে, বা এভাবে চুক্তি করে যে এটা আমি তোমাকে কিনে দিয়ে দিব, পরে তুমি বেশি দামে পড়ে আমাকে দেবে, তাহলে এটি সুদের সাদৃশ্য হওয়ায় অবৈধ হবে।"

এখানে কিভাবে প্রস্তাব দেওয়া যায়?
by (763,590 points)
পূর্ব হতে চুক্তি না হলে কোন সমস্যা নেই।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...