আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
103 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (15 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছেন, যারা জীবিকার তাগিদে রাস্তা ও ফুটপাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে থাকেন। তারা সাধারণত ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবনযাপন করেন।

সরকারি কর্তৃপক্ষ যখন রাস্তা ও ফুটপাত যানজটমুক্ত এবং দখলমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন, তখন অনেক সময় দেখা যায় অভিযানকালে যাকে হাতের কাছে পাওয়া যায়, তার পণ্য শাস্তিস্বরূপ জোরপূর্বক জব্দ বা নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ঐ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চরম আর্থিক সংকটে পড়েন; অনেক ক্ষেত্রে তার পরিবারের ন্যূনতম ভরণপোষণও কঠিন হয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে সম্মানিত উলামায়ে কেরামের কাছে বিনীতভাবে জানতে চাই—

১) রাস্তা বা ফুটপাত দখলের অপরাধে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্য এভাবে জব্দ করা বা নিয়ে যাওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ?

২) শাস্তির ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা, ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা ও জীবিকার বাস্তবতা বিবেচনা করা কি শরীয়তের দাবি নয়?

৩) জনস্বার্থ রক্ষা ও ব্যক্তিগত সম্পদের হেফাজতের মাঝে শরীয়ত কীভাবে ভারসাম্য নির্ধারণ করেছে?

এই বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের জন্য উপকৃত হওয়া যাবে।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (763,620 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(১-২)
ফুটপাতে ব্যবসার বৈধতার জন্য ইসলামিক স্কলাররা দুটি শর্তের কথা তুলে ধরেছেন। তাহলো-

প্রথমত : পথচারীর চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে
রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতে বেচা-কেনা করা জায়েজ। 

এজন্য প্রথম শর্ত হলো- ফুটপাতের এ ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে পথচারী বা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। যদি মানুষের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে, তবে ফুটপাতে বসে ব্যবসা-বাণিজ্য করা বৈধ।

রাস্তার অন্যতম হক হলো, চলাচলের ক্ষেত্রে মানুষকে কোনোভাবেই কষ্ট না দেয়া। এমনকি কেউ যদি প্রয়োজনে রাস্তায় বসে, তাতেও রাস্তার হক আদায় করা জরুরি। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
«إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ»
قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا لَنَا بُدٌّ مِنْ مَجَالِسِنَا نَتَحَدَّثُ فِيهَا.
قَالَ: «فَإِذَا أَبَيْتُمْ إِلَّا الْمَجْلِسَ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ»
قَالُوا: وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟
قَالَ:
«غَضُّ الْبَصَرِ، وَكَفُّ الْأَذَى، وَرَدُّ السَّلَامِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ»

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমরা রাস্তার পাশে বসা থেকে বিরত থাকো।”
সাহাবীগণ বললেন,
“হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের তো সেখানে বসা ছাড়া উপায় নেই, আমরা সেখানে কথা বলি।”
তখন তিনি বললেন,
“যদি বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করো।”
তারা জিজ্ঞেস করলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কী?”
তিনি বললেন,
“দৃষ্টি নত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা।”
(সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম)

সুতরাং রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতে বসে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা বেচা-কেনা করা তখনই বৈধ হবে; যখন মানুষের চলাচলে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। 

দ্বিতীয়ত : ব্যবসা করার অনুমোদন গ্রহণ করা
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে কোনো ব্যবসা করতে হলে রাষ্ট্র ঘোষিত ট্রেড লাইসেন্স তথা ব্যবসার অনুমোদন নেয়া। কেননা ট্রেড লাইসেন্স তথা ব্যবসার অনুমোদন নেয়া ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য করা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অপরাধ।

কেননা সব ব্যবসা ও স্বাধীন পেশার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসার অনুমোদন নিতে হয়। এমনকি ফুটপাতে বসে যদি ফল কিংবা টঙ দোকানে চা বিক্রি করা হয়; তার জন্যও লাইসেন্স জরুরি। ফুটপাত বা রাস্তার পাশে যে ব্যবসাই করা হোক না কেন, ট্রেড লাইসেন্স তথা ব্যবসার অনুমোদন অবশ্যই নিতে হবে।

সুতরাং উল্লেখিত দুটি শর্ত মেনে নেয়া সাপেক্ষে রাস্তার দুই পাশে তথা ফুটপাতে ব্যবসা করায় ইসলামি শরিয়তের ব্যবসায়িক নীতিমালা মেনে ব্যবসা করায় কোনো বাধা নেই। আর তা না জায়েজও নয় বরং বৈধ।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
“নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সম্মান একে অপরের ওপর হারাম।”
(সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম)

সুতরাং কারও মালিকানাধীন পণ্য বিনা হক্বে জব্দ করা বা নিয়ে যাওয়া মূলত হারাম। রাস্তা বা ফুটপাত দখল করা যদি আইনগত বা শরীয়তগতভাবে অপরাধও হয়, তবুও শাস্তি অপরাধের সীমার ভেতরেই হতে হবে,শাস্তি হিসেবে সম্পদ আত্মসাৎ করা বৈধ নয়।

তবে যদি শরীয়তসম্মত আদালতের রায় থাকে এবং তা জনস্বার্থে ন্যায্য ও সীমিত হয়।

সুতরাং প্রশ্নের বিবরন মতে বিনা বিচারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পণ্য জব্দ বা নিয়ে যাওয়া শরীয়তসম্মত নয়।

শাস্তিতে অপরাধের মাত্রা ও জীবিকার বাস্তবতা বিবেচনা করা শরীয়তের আবশ্যিক দাবি।

জনস্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ব্যক্তির জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করা শরীয়তের ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

(০৩) জনস্বার্থ রক্ষা ও ব্যক্তিগত সম্পদের হেফাজতের মাঝে শরীয়ত এভাবে ভারসাম্য নির্ধারণ করেছেঃ-

এক, তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দিতে হবে।

দুই, তাদের জন্য লাইসেন্স বা সময়ভিত্তিক অনুমতি দিতে হবে।

তিন, সতর্কতা জারী করে ধাপে ধাপে তাদের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

চার, তাদের পন্য জব্দ করলে তা হতে হবে অস্থায়ী এবং ফেরতযোগ্য।

(শরীয়তসম্মত) আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে তাদের পন্য কেড়ে নিলে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (15 points)
আলহামদুলিল্লাহ, রব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আমাদের জিজ্ঞাসিত সকল গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্নের সুস্পষ্ট, দলিলভিত্তিক ও বিবেক জাগ্রতকারী জবাব পেয়েছি সম্মানিত মুফতি সাহেবের কাছ থেকে।
এই বিভ্রান্তির যুগে, যখন হালাল–হারামের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তখন উনার ইলমি দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য বাতিঘরের মতো পথ দেখিয়েছে। সত্য বলতে—এই জবাবগুলো শুধু প্রশ্নের উত্তর নয়, বরং আমাদের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনার এক নসীহত।
আল্লাহ তাআলা যেন উনাকে ইখলাসে ভরপুর হায়াত দান করেন, ইলমে নাফে দ্বারা উম্মাহকে আজীবন উপকৃত করার তাওফিক দেন। উনার কলম ও কণ্ঠকে হকের পক্ষে দৃঢ় রাখুন, সুস্থতা ও নিরাপত্তায় রাখুন, এবং এই খেদমতকে কিয়ামত পর্যন্ত সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন—আমিন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...