আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতউল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।আমি দ্বীনের বুঝ পাওয়ার পর পর্দা মেনে চলার চেষ্টা করছি।বাবা মা বোঝে আবার মাঝে মাঝে এগুলো তাদের অতিরিক্ত মনে হয়।বিয়ের কথা বার্তা হলে বাবা মায়ের সাথে মনোমালিন্য হয় পাত্রপক্ষ কে ছবি দেওয়া নিয়ে।তারা আমার প্রতি নারাজ হয়, উচ্চস্বরে কথা হয়ে যায়।আমি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছি আমি বাবা মায়ের বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।তারা নারাজ মানে আমার আমল সব নষ্ট।আল্লাহও নারাজ হয়ে যাবেন মনে হয়।

আবারও একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, পাত্রর পরিবার হজ্জ করছে,তারা নামাজি মেয়ে চায় আর আমার পরিবারের ধারণা এই পরিবার আমার জন্য ভালো হবে আমি যেমন চাই।এখন প্রাথমিক ভাবে ছবি দিতে হবে, আমি বলেছি তাদের সরাসরি দেখে যেতে কিংবা পাত্র আর তার মা ছবি দেখুক।এসব এর কোন কিছুই তারা মানতে চায় না।আর এমন এক আত্মীয়র পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে আমি ছবি দিতে বিলম্ব করার আমার বাবা মা অসম্মানিত বোধ করছেন।এটা নিয়ে প্রতিদিন ঝামেলা হচ্ছে।তাদের কথা তারা আমার ছবি নিয়ে কি করবে আমি কেন অনিরাপত্তা বোধ করছি।কিন্তু এটা বুঝাতে পারছি না অনিরাপত্তা না, মানছি সেই পরিবার খুব ভালো কিন্তু আমি আল্লাহর বিধান ভঙ্গ করতেও পারছিনা।যতবার বলি ততবার তারা রেগে যায় নয়ত নিজেকে খুঁজে নিতে বলে।এখন এই পর্যায়ে তাদের ছবি না দিলে আমার বাবা মা লজ্জিত হবে, এখন আমার কি করা উচিত?আমি কি ছবি একবার ক্লিক করলে নিজে নিজে ডিলিট হয়ে যায় এই অপশন দিয়ে ছবি দিব?এটা দিলে কি গুনাহগার হয়ে যাব?তবুও মন সায় দিচ্ছে না।এবারের মতো কিভাবে ম্যানেজ করব?পরের বার ভেবেছি আমাকে আরও ভালো করে বাবা মা কে বুঝাতে হবে যখন তারা একটু আমার প্রতি মন নরম করবে।এই মুহূর্তে আমি বুঝিয়েও পারছি না।

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো বিবাহের পূর্বে পাত্রিকে দেখা জায়েজ আছে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ     

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ : إِنِّىْ 
تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ : «فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِى اعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا».

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল যে, আমি জনৈকা আনসারী নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছি (আপনার কী অভিমত?)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (বিয়ের পূর্বে) তাকে দেখে নাও। কেননা, আনসারী নারীদের চক্ষুতে কিছু দোষ থাকে।
(মুসলিম ১৪২৪, নাসায়ী ৩২৪৬, আহমাদ ৭৮৪২, সহীহাহ্ ৯৫ মিশকাত ৩০৯৮।)

عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلٰى مَا يَدْعُوهُ إِلٰى نِكَاحِهَا فَلْيفْعَلْ»

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে, আর যদি তার পক্ষে এমন কোনো অঙ্গ দেখা সম্ভব হয় যা বিবাহের পক্ষে যথেষ্ট, তখন তা যেন দেখে নেয়। 

(আবূ দাঊদ ২০৮২, সহীহাহ্ ৯৯, আহমাদ ১৪৫৮৬, ইরওয়া ১৭৯১, সহীহ আল জামি‘ ৫০৬।)

★ইসলামে পাত্র-পাত্রীর সরাসরি দেখার অনুমতি দেয়া হয়েছে,ছবির মাধ্যমে নয় ।
কারণ- একেতো বিনা প্রয়োজনে ছবি তোলা, ব্যবহার ও
আদান-প্রদান শরীয়তে নিষিদ্ধ ।
তাছাড়া ছবিতে বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি যাচাই সম্ভব নয় ।
অধিকন্তু পাত্রের নিকট ছবি পাঠানোর দ্বারা বারবার তার জন্য বেগানা নারীকে দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়।
যেটি নাজায়েজ। 
 
অথচ বিবাহের উদ্দেশ্যে পাত্র পাত্রীকে বারবার
দেখার বৈধতা নেই ।
তাছাড়াও এ ছবি পাত্র ব্যতীত অন্যকোন পুরুষও দেখতে পারে ।
অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে তা জায়িয নয় । এ সকল কারণে ছবির মাধ্যমে পাত্রী দেখা বা
পাত্রীর ছবি পাত্রের নিকট পাঠানো ইসলামের
দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ।
{সূত্রঃ রদ্দুল মুখতার, ৬ : ৩৭০}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এই ছবি গায়রে মাহরাম পুরুষ দেখার প্রবল আশংকা রয়েছে,তাই ছবি দেয়া জায়েজ হবেনা।

সুতরাং এমতাবস্থায় বাধ্য হয়ে ছবি দেয়ার পর গায়রে মাহরাম কেউ ছবি দেখলে সেক্ষেত্রে আপনার এবং যারা যারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...