আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
127 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

১. আজ থেকে ৮-৯ বছর আগে আমাদের ঘরে সবাই আজান চলমান অবস্থায়ও পানি খেত। আমিও খেতাম এইরকম অনেক বছর ধরে করেছি ছোট থেকে। যখন দ্বীনের বুঝ হয়েছে সাহরীর শেষ সময় সম্পর্কে জানতে পেরেছি তারপর থেকে এইরকম আর হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমি জানতে চাচ্ছি আগের রোযাগুলো কি কাউন্ট হয়েছে?
২. রোযা অবস্থায় সাদাস্রাব পরিষ্কার করার জন্য যোনিপথে আঙুল ঢুকালে রোযা যে ভেঙ্গে যায় এই বিষয়ে আগে জানতাম না। এইরকম অনেক বার হয়েছে ঠিক কত বার এই রকম হয়েছে বলতে পারছি না। এই বিষয়ে না জানার কারণে স্বাভাবিকভাবে সাদাস্রাব আঙুল ভেতরে ঢুকিয়ে পরিষ্কার করতাম। এখন আমার রোযাগুলো কি কাজা হয়ে গেছে?
৩. নামাযের ভিতরে ৩ বার এর বেশি চুলকালে নামাজ ভেঙ্গে যায় এই বিষয়ে জানা ছিলো না। অজ্ঞতা বশত এইরকম অনেক বার করেছি ইবাদত এর সঠিক জ্ঞান না থাকায়। আগের ফরয, সুন্নত, নফল নামাজ গুলো কি কাউন্ট হয়েছে?
৪. আমার এক বোনের একটি প্রশ্ন ছিলো। আজ থেকে ১০ বছর আগে বোনটার ইসলামিক কোনো জ্ঞান, আল্লাহ্ এর প্রতি ভয় ছিলো না। সে দ্বীনদার ছিলো না, তার পরিবারও দ্বীনদার না। সে হারাম সম্পর্কে থেকে রোযা অবস্থায় সহবাস করে ফেলে এক বার এবং বোনটি সেদিন রোযা অবস্থায় ছিলো, কিন্তু ভাইটি রোযা ছিলো না। সে সময় তার সাথে যার সম্পর্ক ছিল তারও দ্বীনের বুঝ ছিলনা। দুইজনই গাফেল ছিলো। দুই জনেরই রোযা অবস্থায় সহবাস হারাম এই বিষয়ই জানা ছিলো না।
বর্তমানে দুইজনই স্বামী স্ত্রী। তারা হেদায়াত পাওয়ার পর থেকে তওবা করে আসছে। এখন তাদের কি রোযাটার কাফফারা আদায় করে দিতে হবে? বর্তমান তাদের কাফফারা আদায় করার সামর্থ্য নেই। তারা এই বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিত। তারা হেদায়াত পাওয়ার পর আজকে অনেক বছর ধরে লজ্জিত আর আল্লাহ্ এর কাছে এইটার জন্য অনেক বার মাফ চেয়েছেন।
৫. আমি ফরজ গোসল সম্পর্কে জানতাম না। ২০২০ সালের আগে কখনো ফরজ গোসল করা হয় নি। এই বিষয়ে না জানার কারনে। যখন থেকে জানতে পারি তখন থেকে ফরজ গোসল করে আসছি এবং আল্লাহ্ এর কাছে তওবা করে আসছি আমার এই অজ্ঞতার কারণে। আমার আগের কোনো ইবাদত কি আল্লাহ্ এর কাছে কবুল হয় নি?
উত্তরগুলো দিয়ে একটু সাহায্য করিয়েন ইন শা আল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। সূরা বাকারা,১৮৭


★চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বে সেহরীর শেষ টাইম লিখে দেয়া থাকে, সুতরাং নিজ ইবাদতকে হেফাজত করার স্বার্থে  সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বেই খাবারদাবার শেষ করা ও উচিৎ ও  জরুরী।তবে যদি সঙ্গত কোনো কারণে দু-তিন মিনিট দেড়ী হয়ে যায়,তাহলেও রোযা হবে।কেননা ৩ মিনিট তো রিজার্ভ রয়েছে।যা প্রয়োজনের মূহুর্তে ব্যবহার করা হবে।কিন্তু ৩ মিনিট থেকে একটি মূহুর্তও আর ক্ষমাযোগ্য হবে না। 


আরো জানুনঃ- 

https://www.ifatwa.info/1959


★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম ( ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রণীত আপনার জেলার সাহরীর শেষ টাইম) অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর মধ্যেই যদি আপনি পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হয়ে যাবে।

আর যদি আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ৩ মিনিট পর পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হবেনা।

এ রোযা পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে হবে।

এক্ষেত্রে সময় সম্পর্কে কিছুই জানা না থাকলে আপনি মসজিদের মুয়ায্যিন সাহেবের থেকে জেনে নিবেন যে তিনি আসলে সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার কয় মিনিট পর আযান দিয়েছেন।

সব কিছু বিবেচনা করে আপনি যদি আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর মধ্যেই যদি আপনি পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হয়ে যাবে।
নতুবা এ রোযা হবেনা।

পরবর্তীতে এই রোযার কাজা আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে দিনের বেলা খাবার খেলে গুনাহ হবেনা। তবে রোযাদারদের সামনে খাবার খাওয়া যাবেনা।

★ প্রশ্নে উল্লেখিত সূরাতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এভাবে রোজা রেখে থাকলে সে রোজা গুলির কাজা আদায় করে নেওয়ার পরামর্শ থাকবে।

(০২)
ভেজা আঙ্গুল ভেতরে প্রবেশ করে থাকলে সে রোজাগুলি ভেঙ্গে যাবে।

এমতাবস্থায় প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সে রোজাগুলির সংখ্যা নির্ধারণ করে তার কাজা আদায় করে নিবেন।

(০৩)
একই রুকনে তিনবার চুলকালে সেক্ষেত্রে আমলের কাছির হওয়ায় নামাজ ভেঙ্গে যাবে। এরকম কতবার হয়েছে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করে সে নামাজগুলির কাজ আদায় করে নিবেন।

(০৪)
এক্ষেত্রে সে মহিলাটি রোজা রাখা অবস্থায় যেহেতু সহবাস করেছিল, তখন যদি সে বালেগাহ হয়ে থাকে, তাহলে তার কাফফারা আদায় করতে হবে, লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখার সামর্থ না থাকলে ৬০ টি সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে।

এক্ষেত্রে সে পুরুষ যেহেতু রোজা অবস্থায় ছিল না, তাই তার ওপর কাফফারা আবশ্যক হবে না। শুধুমাত্র অনাদায়ী রোযার কাজা আবশ্যক হবে।

(০৫)
ফরজ গোসল না করার দরুন পরবর্তী নামাজগুলি গ্রহণযোগ্য হবে না।

এক্ষেত্রে ফরজ গোসলের ফরজ গুলি যদি কোন না কোন ভাবে অন্য কোনো সময় (সাধারণ গোসলে) আদায় হয়ে থাকে, তাহলে সেই গোসল পরবর্তী নামাজগুলো আপনার আদায় হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...