আসসালামু আ'লাইকুম। আমি একজন মেয়ে, জীবনে প্রথমবার আম্মুর অনুমতি নিয়ে সুন্নত ইতেকাফ করছি বাসায় একটা রুমে।এর আগে নফল ইতেকাফ করতাম।এই প্রথম ১০ দিনের নিয়তে বাসায় একটা পুরো রুম এ ইতেকাফ করি যেখানে বাথরুম সহ এটাচ।আজকে একটা ঘটনা ঘটে এখন বুঝতে পারছিনা আমার ইতেকাফ ফাসিদ হয়ে গেছে কিনা।
১)আমি যে রুমে বসি সেখানে ভাইয়া আম্মু ভাবি এসে আমার সাথে একই থালে ইফতার করে যায় এতে কি ইতেকাফ ফাসিদ হবে?
২)আমার ভাইয়ের ছেলে ৮ মাস বাসায় আম্মু আর ভাবী কাজের বেশি জরুরত হলে বাবুকে আমার কোলে দিয়ে যায়,আমি দোয়া যিকির করার পাশাপাশি বাবুকে কোলে রাখি,ঘুম পারায়,মাঝে মাঝে আদর করি এ কারণে কি ইতেকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে?
৩)আমি ৩ দিন সাধারণ গোসল করিনাই যেহেতু এটা বারণ। আমি ইস্তেঞ্জা করার সময় কাপড় নিয়ে যায় একটু গায়ে পানি ঢেলে আসি এতে কি ইতেকাফ ফাসিদ হবে?
৪)যখন বিশ্রাম নেয়,মোবাইল এ বিভিন্ন স্কলারের ইসলামিক পোস্ট পড়ি,তাদের ওয়াজ শুনি এতে কি ইতেকাফ নষ্ট হবে?
৫)আজকে যে ঘটনা টা ঘটেছে সেটা বলছি,আজকে ভাইয়ার ঢাকার শশুড়বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম এ আমাদের বাসায় ইফতার এর ডালা পাঠানো হয়েছে এর আগে আমরা পাঠিয়েছিলাম।তো আজকে আমাদের বাসায় ডালা পাঠানোর পর ভাইয়ারা ডালা আমার রুমে নিয়ে আসে একসাথে ইফতার করবে বলে।আমি তখনো কোনো কথা বলিনি জাস্ট ছবি তুলে দিতে হয়েছিলো তাই দিয়েছি এতে কি ইতেকাফ ভেংগে গেছে?
৬)বিপত্তি বাধলো তারপরে,ডালা যে পেইজ থেকে পাঠিয়েছে সে পেইজ থেকে ভুলে অন্যডালা পাঠিয়ে দিয়েছে মানে আমাদের এখানে ৪ জন এর ডালার জায়গায় ৮ জন এর ডালা পাঠানো হয়েছে।এগুলা নিয়ে ঝামেলা হয়।আমি মাঝে ২ এক লাইন কথা বলি জাস্ট এর মধ্যে ভাইয়ারা বার বার আসা যাওয়া করে। আর অন্যদিকে ডালা টা আবার ফেরত পাঠানোর জন্য পেকেজিং করতে হয় এখন পেকেজিং করার সময় আমার হেল্প লাগছিলো,আমি মুখে কোনো কথা না বলে পেকেট করতে লাগলাম, পেকেট করা শেষে,পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে দুই তিন লাইন কথা হয় যে,"থাক বাদ দেন ভাইয়াকেও গরম হতে বারণ করেন,খাবার আমাদের টা আসলে এটা ফেরত দিয়ে দিব" এও টাইপ্সের।এরপর আমি ইফতার করি আর আর নামাজ দোয়া কোরআন পড়ি, বাবুকে এর মধ্যে ঘুমও পাড়িয়ে দেয়।এসব এর কারণে কি আমার ইতেকাফ ভেংগে গেছে? সওয়াব পাবোনা?
৭) ঘটনা এখানেই শেষ হলেও হতো,হয়নি। অইদিকে যিনি পেইজ ওনার ভাইয়ার সাথে মিস বিহেভ করে,ওনার দোষ উনি শিকার করতে চাচ্ছেন না। আমার ভাইকে গজব দেয় অথচ ওনার সুবিধার জন্য আমরা পেকেজিং সহ করে দেয় কারণ রোযার দিন, অন্য মানুষ গুলোও ত ইফতার করার জন্য বসে আছে যদিও ঘটনা ঘটতে ঘটতে প্রায় ৬.৩০টা বেজে গেছে।অইদিকে পেইজ ওউনার ভাইয়াকে পুলিশ নিয়ে আসার হুমকি দেয় এসব কথা সব আমার রুম এর বাইরে হচ্ছে আমার এখান থেকে শোনা যাচ্ছে।আধা ঘন্টা পর ঝামেলা মিটলে।আমাদের জন্য যে ডালা আসার তা আসে,এবং আবার ভাইয়ারা আমার রুমে নিয়ে আসে একসাথে খায়।এসময় ভাবি আর ভাইয়া ঘটনা বলছিলো এখানে পুরো দোষটাই মহিলার,আমি বললাম,"বাদ দেন আজকে ক্বদ রের রাত ওর কথা না বলায় ভালো, আমরা কেমন এটা ওই মহিলা কে জাহির না করলেও হবে।আল্লাহ সব দেখছে আল্লাহর কাছে পরিষ্কার থাকলেই হলো!" এটুকুই বলেছি আর ডালার একটা ছবি তুলে রাখতে বলেছি।আর ওই মহিলা যেহেতু ভাইয়াকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছিলো wp এ আমি ঝগড়া এড়িয়ে ওনাকে কয়েকটা লাইন লিখেছি, আপনার যাকে আনার আনেন আমি তার সামনে এক্সপ্লেইন করবো আপনাকে জাহির করব না আমি কেমন।বাস এটুকুই মোট কথা সব আমার ইতেকাফ এর রুমে ঘটে আমি বের হয়নি যা বলার এখানেই বলেছি। এরপর সবাই খাওয়া দাওয়া শেষে আমার রুম থেকে চলে যায়,এখন আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে,এই যে দুনিয়াবি কাজে আমার অংশগ্রহণ,কথোপোকথন।আমার কি ইতেকাফ ভেংগ্র গেছে??? আমি কি সওয়াব থেকে বঞ্চিত হলাম?
৮)যদি ইতেকাফ ভেংগে যায়,আমি কাযা আদায় কখন করবো? একেবারে রমজান এর শেষে? নাকি কালকে অথবা পরশু এর কাযা আদায় করতে পারব?মানে রমজানের ভিতত কাযা আদায় করার নিয়ম আছে?
আর আরেকটা প্রশ্ন আমার ইতেকাফ এ ঢুকার পর থেকে খালি মনে হচ্ছে আমার আমল কিছুই হচ্ছেনা আমার এগুলা লোক দেখানো হচ্ছে কিছুই হচ্ছেনা অথচ আমি সব কিছু করার ট্রাই করে গেছি এমন্টা মনে হবার কারণ? এটা কি শয়তান এর ধোকা?খালি মনে আসতেসে,ইবাদাত করে কি হবে,আল্লাহর কাছে চেয়ে কি হবে?নাউযুবিল্লাহ।
বড় হয়ে যাওয়ার জন্য আফওয়ান।আমি বুঝতে পারিনি এমন কিছু হবে।