আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
1. অনেক মানুষকে দিতে গেলে 5/10 টাকা করে সালামি, সুন্দর ঈদ কার্ড বা চিঠিসহ দেওয়া যায় বিকাশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়রদের এভাবে সালামি দেওয়া যাবে?

2. টাকার জন্য না, সালামি একটা আনন্দ আর সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্ক মজবুত করতে এভাবে চিঠিসহ সালামি দেওয়া, সেসব আবার facebook story/ post এ মেনশন দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানো, এসব কি 'সময় নষ্ট' বা 'অতিরঞ্জিত' বা 'শোঅফ' কিছুর মধ্যে পড়বে? বা অনুচিত কিনা?

3. ইদানিং পোস্ট দেখা যায়, কার জন্য কী কী দুআ করতে হবে বলার জন্য। নাম ধরে সবার জন্য দুআ করবে। যেহেতু অন্যদের জন্য দুআ করতে ফেরেশতারা নিজের দুআ করবে, আবার দুআ চাওয়াও সুন্নাহ, তাই। আর বান্ধবীরা দুআর কথা বলতে গিয়ে নিজেরাও দুআ করবে, সেই উদ্দেশ্যে। এভাবে লিস্ট করে নাম ধরে দুআ করা কি জায়েজ? অনেকে এভাবে দুআ লিস্ট জানতে চাওয়াকে বিদআত বলছে। এটা কি বিদআত হবে? (যদি অল্প কিছু -5/10 জনের জন্য এভাবে দুআ করা হয়)

1 Answer

0 votes
by (765,300 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

হাদিয়ার ফযিলত সম্পর্কে হযরত আয়েশা রাযিঃ থেকে বর্ণিত রয়েছে
ﻭﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : « ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘﺒﻞُ ﺍﻟﻬﺪﻳﺔ ﻭﻳُﺜﻴﺐُ ﻋﻠﻴﻬﺎ »

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ হাদিয়া গ্রহণ করতেন।এবং তার বিনিময়/প্রতিদান ও দিতেন।(সহীহ বুখারী-২৪৪৫)

ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﻟﻮ ﺃُﻫـﺪﻳـﺖ ﺇﻟـﻲَّ ﺫﺭﺍﻉٌ ﻟﻘﺒـﻠﺖُ، ﻭﻟﻮ ﺩُﻋﻴﺖُ ﺇﻟﻰ ﻛُﺮﺍﻉٍ ﻷَﺟﺒﺖُ »

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি কেউ আমার নিকট জন্তুর বাহু হাদিয়া পাঠায়,তাহলে আমি তা কবুল করব।আর যদি কেউ আমাকে পায়ের খুরা রেঁধেও দাওয়াত দেয়, তাহলেও আমি জবাব দিবো।(সহীহ বুখারী-৪৮৮৩)

ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﺗﻬﺎﺩﻭﺍ ﺗﺤﺎﺑﻮﺍ »

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তোমরা পরস্পর হাদিয়া দাও তবে তোমাদের পরস্পর মহব্বত সৃষ্টি হবে।(আল-আদাবুল মুফরাদ)ইরওয়াউল গালিল-৬/৪৪

আরো জানুনঃ- 

শরীয়তের বিধান মতে আমাদের সমাজে যেটাকে ঈদ সেলামী বলা হয়,যদি এটা চাপ প্রয়োগে না দিয়ে সন্তুষ্টি চিত্তে দেওয়া হয়,তাহলে কোনো সমস্যা নেই। 

যদি ঈদ সালামি দিতে চাপ প্রয়োগ না করা হয়,কোনো প্রথার কারনেও না দেয়া হয়,বরং সন্তুষ্টি চিত্তে কেউ যদি ঈদ সালামি দেয়,সেক্ষেত্রে তাহা দেয়া বা গ্রহন করা জায়েজ হবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(১-২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি ঈদ সালামি দিতে চাপ প্রয়োগ না করা হয়,কোনো প্রথার কারনেও না দেয়া হয়,বরং সন্তুষ্টি চিত্তে দেয়া হয়,কোনো কিছু পাওয়ার আশায় না দেয়া হয়,সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়রদের এভাবে সালামি দেওয়া যাবে।

উল্লেখ্য গায়রে মাহরামদেরকে ঈদ সালামী বা হাদিয়া দেয়া যাবেনা।

(০৩)
এভাবে লিস্ট করে নাম ধরে দুআ করা জায়েজ আছে। 

তবে উত্তম হল এভাবে দোয়া করা যে আমার কাছে যারা যারা দোয়া চাইছেন হে আল্লাহ আপনি তাদের দোয়া ও মনের নেক উদ্দেশ্যগুলিকে কবুল করে নেন।
এ ধরনের দোয়ায় একাগ্রতা থাকে।

উলামায়ে কেরামগন বলেন যে লিস্ট দেখে দেখে দোয়া করাতে দোয়ার প্রতি একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...