আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
আসসালামু আলাইকুম
ওস্তাদ,  আমার স্কুল লাইফের একজন জুনিয়র ভাই আমার সাথে বন্ধুর মত বা সমবয়সী সহপাঠীর মতো আচরণ করতে চায়! কিন্তু এটা আমার পছন্দ না। তো অনেকদিন পরে আজ ওর সাথে দেখা হওয়ার পর ওই একই রকম ভাবে কথা বলার চেষ্টা করতেছিল এবং একপর্যায়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেছিল যে, আমাকে কি চিনছো কিনা? আমি চেনার পরেও আমতা - আমতা করে বলেছি যে নাহ! চিনি নাই।

ওস্তাদ এখানে তো নিঃসন্দেহে অহংকার এবং মিথ্যা প্রকাশ পেয়েছে!  এখন ভয়ংকর লেভেলের খারাপ লাগতাছে।
আমার এখন করনীয় কি?  আমার কি এখন ওই জুনিয়র ভাইয়ের সাথে দেখা করে কথা বলা জরুরী নাকি আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে হবে?

1 Answer

0 votes
by (807,300 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আবুল ফরয ইবনুল জাওযী রাহ বলেনঃ
ﻭﺿﺎﺑﻄﻪ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﻘﺼﻮﺩ ﻣﺤﻤﻮﺩ ﻻ ﻳﻤﻜﻦ ﺍﻟﺘﻮﺻﻞ ﺇﻟﻴﻪ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ، ﻓﻬﻮ ﻣﺒﺎﺡ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﻣﺒﺎﺣﺎ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻭﺍﺟﺒﺎ، ﻓﻬﻮ ﻭﺍﺟﺐ
প্রত্যেক ঐ ভালো উদ্দেশ্য যে পর্যন্ত মিথ্যার আশ্রয় ব্যতীত পৌছা  প্রায় অসম্ভব, সেখানে মিথ্যা বলা বৈধ।মাকসাদ(উদ্দেশ্য) মুবাহ হলে,মিথ্যা বলা মুবাহ।মাকসাদ ওয়াজিব হলে মিথ্যা বলা ওয়াজিব
(ফাতাওয়া দারাল ইফতা আল-মিচরিয়্যাহ)

আল্লামা ইবনূল কাইয়ূম রাহ বলেনঃ
ﻳﺠﻮﺯ ﻛﺬﺏ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻧﻔﺴﻪ، ﻭﻋﻠﻰ ﻏﻴﺮﻩ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﺘﻀﻤﻦ ﺿﺮﺭ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻐﻴﺮ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﻮﺻﻞ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ ﺇﻟﻰ ﺣﻘﻪ،
একমাত্র মিথ্যার মাধ্যমে হক্ব(অধিকার রক্ষা)পর্যন্ত পৌছা নির্দিষ্ট হলে নিজের উপর বা অন্যর উপর মিথ্যা বলা জায়েয যখন এতে অন্যর কোনোপ্রকার ক্ষতি হয় হবে না।(যাদুল মা'আদ-২/১৪৫)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/644

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মিথ্যা বলা কবিরা গোনাহ। মিথ্যা বলা থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যখন মিথ্যা বলা ব্যতিত অন্য কোনো উপায়ই থাকবে না, তখন মিথ্যা বলার রুখসত থাকবে। তবে এক্ষেত্রেও মিথ্যা না বলে বরং তাওরিয়াহ করতে হবে। তাওরিয়াহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/5050

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ভবিষ্যতে আর কখনো কারো সাথে এমন আচরণ করবেন না। বরং সবার সাথে সর্বদা সত্য বলার চেষ্টা করবেন। যেমন ঐ ভাইকে বলতে পারতেন, আমি আপনাকে চিনি। আপনার সাথে এই মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না বলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। এইভাবে দুয়েকদিন করে নিলে মিথ্যা বলা না বরং সে নিজ পক্ষ থেকে এমনিতেই সরে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...