আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
82 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
অনেকে সরাসরি একটা সংখ্যা ধরায় দেয়, আয়েশা (রা) এর বয়স নাকি ৯ ছিল। তারপর এইটাকে পুজি কইরা শুরু করে অপবাদ দেওয়া মিথ্যা। আয়েশা (রা) বিবাহ বয়সন্ধিকালের পরেই সম্পন্ন হয়েছে প্রকৃত ৯ বছরে না।
প্রথমেই একটা জিনিস বুঝা দরকার, আরবদের বয়স গণনার ধরন আমাদের মতো ছিল না সবসময়। ইতিহাসবিদ Musah উল্লেখ করেন, অভিজাত পরিবারে মেয়েদের বয়স অনেক সময় জন্ম থেইকা না বরং বয়ঃসন্ধির পর থেইকা গণনা করা হইতো। (referenced in Hatun, p. 81)
Mu’ay নামে একটা অনুষ্ঠান থাকতো যেটা বয়ঃসন্ধির সূচক এবং এর পর থেকেই বয়স গনণা শুরু হতো।
এইটা যদি ধরা হয়, তাহলে “নয় বছর” মানে জন্মের পর ৯ বছর না বরং বয়ঃসন্ধির পর ৯ বছর। বয়স্টা ১৫-১৭ হয়।

আরেকটা শক্ত রেফারেন্স আসে আসমা (রা) থেইকা। আয়েশা (রা) এর বড় বোন।

ইতিহাসে পাওয়া যায়, আসমা (রা) ৭৩ হিজরিতে মারা যান, বয়স ছিল ১০০ বছর। এই হিসাবে হিজরতের সময় তার বয়স ছিল ২৭।

আবার জানা যায়, আসমা (রা) আয়েশা (রা) এর চেয়ে ১০ বছর বড়।
তাহলে হিসাব অনুযায়ী হিজরতের সময় আয়েশা (রা) এর বয়স দাঁড়ায় প্রায় ১৭।

আর বিয়েটা হইছে হিজরতের পর, মদিনায় আসার পরে।
মানে তখন বয়স ১৭ বা ১৮ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

[Sources:
Hayat al-Sahaba by Hikmet Burki, p. 21
Asr-e-Saadat by Maulana Shibli (Volume 2, p. 9)]

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ হাদিস আছে। সহিহ বুখারিতে আয়েশা (রা) নিজেই বলেন, Surah Al-Qamar ৪৬ নম্বর আয়াত যখন নাজিল হইছিল তখন তিনি খেলাধুলা করা ছোট মেয়ে ছিলেন।

এই আয়াতটা নাজিল হইছে হিজরতের প্রায় ৯ বছর আগে, ৬১৩ সালের দিকে।

এইটা যদি ধরি, তখন তার বয়স অন্তত ৫ বা ৬ হইতে হবে।
তাহলে জন্ম ৬০৫ থেকে ৬০৮ সালের মধ্যে।

এই হিসাবে হিজরতের সময় বয়স ১৫ থেকে ১৮ এর মধ্যে আসা স্বাভাবিক।

হযরত আয়িশা (রা.)-এর উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কে সহিহ বুখারিতে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যা হলো:

“হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, উহুদের দিনে মানুষ মহানবী (সা.)-এর আশেপাশে স্থির থাকতে পারেনি। সেদিন আমি আয়িশা (রা.) এবং উম্মে সুলাইম (রা.)-কে দেখেছি, তারা চলাফেরায় কোনো বাধা না পাওয়ার জন্য তাদের কাপড় পায়ের কাছ থেকে উঠিয়ে নিয়েছিলেন।”

একই যুদ্ধে অল্প বয়সের কারণে মহানবী (সা.) হযরত ইবনে উমর (রা.)-কে অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি। এ বিষয়ে বর্ণিত আছে:

“ইবনে উমর (রা.) বলেন, উহুদের যুদ্ধে আমাকে অংশ নিতে মহানবী (সা.) অনুমতি দেননি, কারণ তখন আমার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। কিন্তু খন্দকের দিনে, যখন আমার বয়স পনেরো বছর হয়েছিল, তখন মহানবী (সা.) আমাকে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেন।”

অতএব, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হতো না অথচ হযরত আয়িশা (রা.) এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে তখন তার বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর বা তার বেশি ছিল এবং মহানবী (সা.)-এর গৃহে প্রবেশের সময় তার বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর বা তার বেশি ছিল।

Bukhari, Kitab al-Jihad wal-Sayr (Book on Jihad)
Bukhari, Kitab al-Maghazi (Book on Expeditions)

মানে ব্যাপারটা এক লাইনের না। অবশ্য কিছু ভন্ড আলেম আর শাহবাগীদের কাছে এক লাইনের। কারণ এটা দিয়ে স্বার্থ হাসিল হয়।

এটা একটা ফেসবুক পোস্ট থেকে পেলাম। সত্যিই কি মা আয়েশার বিয়ের সময় বয়স ১৬/১৭ ছিল?? যদি সত্যিই হয় তাহলে আজ পর্যন্ত কেনো কোনো হুজুরকে তা বলতে শুনলাম না??

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
একাদশ নববী বর্ষের শাওয়াল মাসে অর্থাৎ হযরত সওদা বিনতে যাম‘আর সাথে বিয়ের ঠিক এক বছরের মাথায় ওছমান বিন মায‘ঊন (রাঃ)-এর স্ত্রী খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ)-এর প্রস্তাবক্রমে হযরত আবুবকরের নাবালিকা কন্যা আয়েশাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিবাহ করেন। (আহমাদ হা/২৫৮১০; হাকেম হা/২৭০৪, সনদ হাসান)

 বিয়ের তিন বছর পরে সাবালিকা হ’লে নয় বছর বয়সে মদীনায় ১ম হিজরী সনের শাওয়াল মাসে তিনি নবীগৃহে গমন করেন।[বুখারী হা/৩৮৯৬, মুসলিম হা/১৪২২, মিশকাত হা/৩১২৯]


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি কি জানতে চান? কেন জানতে চান? তা আমাদের বোধগম্য নয়। আপনি সরাসরি কোনো দারুল ইফতায় যোগাযোগ করে নিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...