আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
72 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্ উস্তাদজি,

১। ২৯ রমাদানের দিন এবং ৩০ রমাদানের রাত ও দিন -এ নফল ইতিকাফের নিয়তে ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করার পর যদি ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করে বাইরে যেতে হয়, তাহলে রমাদানের পর কি ১দিন ও ১রাত কাযা ইতিকাফ করতে হবে?

২। গত বছর শেষ দশক নফল ইতিকাফের নিয়তে বসেছিলাম (সূর্যাস্তের পূর্বে ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ না করার ফলে)। কিন্তু পারিবারিক দায়িত্বের কারণে আমাকে বারবার স্থান ত্যাগ করে বাইরে যেতে হচ্ছিলো। ফিরে এসে বাকি দিনগুলোর নিয়তে বসলেও আবার ভাঙতে হচ্ছিল। এভাবে কয়বার ভাঙতে হয়েছে মনে নেই। এখন আমাকে কি এর কাযা আদায় করতে হবে?

ইতিকাফ কাযা করতে হলে কয়দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে তাহলে?

৩। আমাকে তো ইতিকাফে বসার পরও ২-৩মিনিটের জন্য রোজ স্থান ত্যাগ করতে হয়। পরিবারের সদস্যরা সারা রমাদান জুড়ে নানান কাজে বাইরে বের হয়। বিদায় দেওয়ার জন্য একদম বাসার গেইট পর্যন্ত যেতে হয়। এক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে আমার কি টানা একদিন একরাতের জন্য নফল ইতিকাফ এবং সুন্নাত ইতিকাফে বসা অথবা বসার নিয়ত করা ঠিক হবে?

৪। হায়েয আসার সম্ভাবনা থাকলে কি সুন্নাত ইতিকাফ অথবা ১ দিন ও ১ রাতের নফল ইতিকাফের নিয়তে বসা উচিৎ হবে? নাকি ইতিকাফ কাযা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ইতিকাফের নিয়ত না করা উত্তম? এরূপ সম্ভাবনা নিয়ে ইতিকাফে বসলে কি গুনাহ্ হবে?

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বর্ণিত রয়েছে,
«وَيَنْقَسِمُ إلَى وَاجِبٍ، وَهُوَ الْمَنْذُورُ تَنْجِيزًا أَوْ تَعْلِيقًا، وَإِلَى سُنَّةٍ مُؤَكَّدَةٍ، وَهُوَ فِي الْعَشْرِ الْأَخِيرِ مِنْ رَمَضَانَ، وَإِلَى مُسْتَحَبٍّ، وَهُوَ مَا سِوَاهُمَا هَكَذَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ.» 
- «الفتاوى الهندية» (1/ 211)
ইতিকাফ তিন প্রকার যথা- (১) ওয়াজিব ইতিকাফ, যা নযর বা মান্নতের জন্য কারো উপর ওয়াজিব হয়েছে। (২) সুন্নতে মুআক্কাদা ইতিকাফ, তা হল রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ।(৯) মুস্তাহব ইতিকাফ, এছাড়া সকল ইতিকাফকে মুস্তাহব ইতিকাফ বলা হয়। 

ইতিকাফ হলো দুনিয়াবি সকল প্রকার বাজে চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে মসজিদে অবস্থান করা।
ইতিকাফ তিন প্রকার।যথা :
১. ওয়াজিব,
২. সুন্নাত,
৩. মুস্তাহাব। 
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1274

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) ২৯ রমাদানের দিন এবং ৩০ রমাদানের রাত ও দিন নফল ইতিকাফের নিয়তে ইতিকাফে বসার পর ভঙ্গ করলে কাযা করা লাগবে না। 
(২) নফল ইবাদত ভঙ্গ হওয়ার কারণে কাযা কাফফারা কিছুই আসবে না। 
(৩) আপনি সুন্নত ইতিকাফে বসার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। সম্ভব না হলে তখন নফল ইতিকাফ করার চেষ্টা করবেন।
(৪) হায়েয আসার সম্ভাবনা থাকলে নফল ইতিকাফের নিয়তে বসা উচিৎ হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...