ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হাজত দুই প্রকারঃ- যথাঃ-
(ক)হাজতে শরঈ তথা যে সমস্ত জিনিষকে শরীয়ত কারো উপর ফরয বা ওয়াজিব করেছে সেগুলো হাজতে শরঈ বলে।
(খ)হাজতে তবয়ী:প্রস্রাব পায়খানা।এই দুই প্রকার হাজতকে এ'তেক্বাফকারী পূর্ণ করতে পারবে।স্বাভাবত মানুষের যে সমস্ত প্রয়োজন থাকে সেসব প্রয়োজনের স্বার্থে তিনি এ'তেক্বাফ থেকে বের হতে পারবেন।প্রস্রাব পায়খানা,ওজু ফরয গোসল ইত্যাদির জন্য।তবে শীতিলতা অর্জনের নিমিত্তে উনি গোসলে যেতে পারবেন না।খানা পাকানোর জন্য মহিলা পাকঘরে যেতে পারবেন না।তবে প্রয়োজনে তিনি এ'তেক্বাফ স্থলে খানাকে রান্না করে নিতে পারবেন।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-১০/২৫১)
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
প্রাকৃতিক চাহিদা তথা প্রস্রাব পায়খানা এবং খানা পিনা ইত্যাদির জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয রয়েছে। সুতরাং আপনি ইতিকাফ রত অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে খাবার নিয়ে আসতে পারবেন। তবে রাস্তায় কারো সাথে কথা বলতে পারবেন না। বাড়িতে যাতায়তের রাস্তায় দাড়িয়ে কারো সাথে কথা বললে, ইতিকাফ তৎক্ষণাৎ ফাসিদ হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-
https://www.ifatwa.info/1795
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যদি বাসায় খাবার দিয়ে আসার মতো পুরুষ থাকে, তাহলে ইতিকাফকারীর জন্য বাসায় গিয়ে খাবার ভক্ষণ করা জায়েয হবে না। এরপরও যদি কেউ বাসায় যায়, তাহলে তার ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে।
وقیل: یخرج بعد الغروب للاکل والشرب۔ قال فی البحر: ینبغی حملہ علی ما إذا لم یجد من یاتی لہٗ فحینئذ یکون من الحوائج الضروریۃ۔ (طحطاوی علی المراقی ۳۸۴، البحر الرائق ۲؍۳۰۳، شامی زکریا ۳؍۴۴۰، تاتارخانیۃ زکریا ۳؍۴۴۵)
(২) শেষ ১০ দিন বাদে বাকি যতদিনই ইতিকাফ করা হোক, সেটা নফল ইতিকাফ হিসেবেই বিবেচিত হবে।ইতিকাফে বসে সাধারণ গোসলের জন্য বের হওয়া যাবে না।
(৩) নফল ইতিকাফে ইস্তিঞ্জা করার জন্য বের হলে গোসলখানার দরজা বন্ধ করতে যদি কিছুটা ধীরস্থিরে বন্ধ করা হয়, তাহলে এজন্য ইতিকাফ ফাসিদ হবে না। ঠিকতেমনি ধীরস্থিরে ঘরের দরজা বন্ধ করলে এদ্বারাও ইতিকাফ ফাসিদ হবে না।
(৪) কারো হায়েযের আগের অভ্যাস ৯ দিন ছিলো, কিন্তু এখন তার হায়েয ১০ দিন পার হয়ে যায়, তাহলে সে ৯ দিন হায়েয গণনা করবে। এই বার ৭ দিনের দিন হায়েয বন্ধ হলে গোসল করে নামাজ রোযা শুরু করতে হবে। ১০ দিনের ভিতর আবার রক্তস্রাব আসলে সেটাকে হায়েয বিবেচনা করা হবে। কিন্তু ১০ দিন পর আসলে সেটাকে ইস্তেহাযা বিবেচনা করা হবে।
(৫) ৭ দিন পর রক্তস্রাব শুরু হয়ে ৯ম দিন রক্তস্রাব বন্ধ হলে ৯ দিনই হায়েয গণনা করা হবে।