আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
57 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (32 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ মোহতারাম
১,  কোনো লোক মসজিদে ইতিকাফে বসছে  ইফতার করার জন্য উনি বাসায় আসে এবং ইফতার করে তারপর আবার মসজিদে যায়।যদিও ওনার বাসায় খাবার দিয়ে আসার মতো পুরুষ আছে। উনি জামেলা কমানোর জন্য বাসায় এসে ইফতার করে যায়।এরকম করলে কি ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায় না?

২,  শেষ ১০ দিন বাদে বাকি যতদিনই ইতিকাফ করলে সেটা তো নফল ইতিকাফ।তখন কি সাধারণ গোসলের জন্য বের হওয়া যাবে?

৩, নফল ইতিকাফে ইস্তিন্জা করার জন্য বের হলে  গোসলখানা দরজা বন্ধ করতে হলে  কিছুটা স্থির হয়ে  বন্ধ করতে হয় আবার ঘরের দরজাও বন্ধ করার সময় স্থির হয়ে বন্ধ করতে হয়।এর জন্য কি ইতিকাফ ফাসিদ হবে?

৪,কারো হায়েজের  আগের অভ্যাস ৯ দিন কিন্তু তার হায়েয ১০ দিন পার হয়ে যায় তাই সে ৯ দিন পর গোসল করে নামাজ শুরু করে   ।এবার তার ৭ দিনের দিন হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে তাই গোসল করে নামাজ রোযা শুরু করছে। কিন্তু ৯ দিন পার হওয়ার পর তার আবার হায়েয শুরু হয়েছে।এখন ৭ দিনের দিন যেই গোসল করেছে  সেটা দিয়েই নামাজ শুরু করা যাবে?

৫, এক্ষেত্রে তো ৯ দিনই হায়েয ধরবে তাই না?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হাজত দুই প্রকারঃ- যথাঃ- 
(ক)হাজতে শরঈ তথা যে সমস্ত জিনিষকে শরীয়ত কারো উপর ফরয বা ওয়াজিব করেছে সেগুলো হাজতে শরঈ বলে।
(খ)হাজতে তবয়ী:প্রস্রাব পায়খানা।এই দুই প্রকার হাজতকে এ'তেক্বাফকারী পূর্ণ করতে পারবে।স্বাভাবত মানুষের যে সমস্ত প্রয়োজন থাকে সেসব প্রয়োজনের স্বার্থে তিনি এ'তেক্বাফ থেকে বের হতে পারবেন।প্রস্রাব পায়খানা,ওজু ফরয গোসল ইত্যাদির জন্য।তবে শীতিলতা অর্জনের নিমিত্তে উনি গোসলে যেতে পারবেন না।খানা পাকানোর জন্য মহিলা পাকঘরে যেতে পারবেন না।তবে প্রয়োজনে তিনি এ'তেক্বাফ স্থলে খানাকে রান্না করে নিতে পারবেন।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-১০/২৫১)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
প্রাকৃতিক চাহিদা তথা প্রস্রাব পায়খানা এবং খানা পিনা  ইত্যাদির জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয রয়েছে। সুতরাং আপনি ইতিকাফ রত অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে খাবার নিয়ে আসতে পারবেন। তবে রাস্তায় কারো সাথে কথা বলতে পারবেন না। বাড়িতে যাতায়তের রাস্তায় দাড়িয়ে কারো সাথে কথা বললে, ইতিকাফ তৎক্ষণাৎ ফাসিদ হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1795


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যদি বাসায় খাবার দিয়ে আসার মতো পুরুষ থাকে, তাহলে ইতিকাফকারীর জন্য বাসায় গিয়ে খাবার ভক্ষণ করা জায়েয হবে না। এরপরও যদি কেউ বাসায় যায়, তাহলে তার ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে।

وقیل: یخرج بعد الغروب للاکل والشرب۔ قال فی البحر: ینبغی حملہ علی ما إذا لم یجد من یاتی لہٗ فحینئذ یکون من الحوائج الضروریۃ۔ (طحطاوی علی المراقی ۳۸۴، البحر الرائق ۲؍۳۰۳، شامی زکریا ۳؍۴۴۰، تاتارخانیۃ زکریا ۳؍۴۴۵)

(২) শেষ ১০ দিন বাদে বাকি যতদিনই ইতিকাফ করা হোক, সেটা নফল ইতিকাফ হিসেবেই বিবেচিত হবে।ইতিকাফে বসে সাধারণ গোসলের জন্য বের হওয়া যাবে না।

(৩) নফল ইতিকাফে ইস্তিঞ্জা করার জন্য বের হলে  গোসলখানার দরজা বন্ধ করতে যদি কিছুটা ধীরস্থিরে বন্ধ করা হয়, তাহলে এজন্য ইতিকাফ ফাসিদ হবে না। ঠিকতেমনি ধীরস্থিরে ঘরের দরজা বন্ধ করলে এদ্বারাও ইতিকাফ ফাসিদ হবে না। 

(৪) কারো হায়েযের আগের অভ্যাস ৯ দিন ছিলো, কিন্তু এখন তার হায়েয ১০ দিন পার হয়ে যায়, তাহলে সে ৯ দিন হায়েয গণনা করবে। এই বার ৭ দিনের দিন হায়েয বন্ধ হলে গোসল করে নামাজ রোযা শুরু করতে হবে। ১০ দিনের ভিতর আবার রক্তস্রাব আসলে সেটাকে হায়েয বিবেচনা করা হবে। কিন্তু ১০ দিন পর আসলে সেটাকে ইস্তেহাযা বিবেচনা করা হবে। 

(৫) ৭ দিন পর রক্তস্রাব শুরু হয়ে ৯ম দিন রক্তস্রাব বন্ধ হলে ৯ দিনই হায়েয গণনা করা হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...