আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
86 views
in সাওম (Fasting) by (2 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।
১. ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী সুলভ কথাবার্তা বলে ফেললে কি ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে? ফাসিদ হলে কি দুজনেরটাই হবে?

২.আমার রুমে যদি আম্মু আসে বা আমিই রুমে থেকে আম্মুর সাথে জরুরতের বাহিরেও বেশ কথা বলি ইতিকাফের নির্ধারিত জায়গায় থেকেই।
শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ থাকায় কখনো কখনো মানসিকভাবে অনেক অস্থির, খারাপ লাগে। একটু কথা না বললে আরো খারাপ লাগে এসবের জন্য বলা হয়েছে গিয়েছে। বেশ কয়েকবার কয়েকদিন করে বলা হয়েছে৷ তাহলেও কি ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে?

৩.পুরো বড় রুম ইতিকাফের জন্য নির্ধারণ করা যাবে? বেলকনির অর্ধেকাংশসহ। অসুস্থতার জন্য যেন হাটাহাটি করতে পারি এজন্যই পুরো রুম নির্ধারণ করা হয়েছে৷ রাতে ক্বদরের রাতের আলামত দেখার জন্য বেলকনিতে যাওয়া পড়ে৷ এতে কি ইতিকাফে কোনো সমস্যা হবে?

৪.ইতিকাফের পুরোটা সময় কি মনে অন্য কোনো দুনিয়াবি চিন্তাভাবনা আনা যাবেনা? বা দাম্পত্য জীবনের কোনো ক্লোজ মেমোরিস মনে আনা যাবেনা? না চাইতেও মনে পড়ে গেলে এরপর ভাবলে কি ইতিকাফ ফাসিদ হবে?

৫.১০ দিনের সুন্নতী ইতিকাফ ফাসিদ হলে কাফফারা আদায় করতে হবে? ফাসিদ হলে এই রমাদ্বনেই ১ দিনের জন্য কাফফারা আদায় করে নেয়া যাবে? ভিন্ন কোনো নিয়ত বা নিয়ম থাকলে একটু বলে দিবেন প্লিজ৷

৬.স্বাভাবিকভাবেই কিছু বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হওয়ায় তৎক্ষণাৎ আমি রাগ করে হাসবেন্ডকে উদ্দেশ্য করে বলি- আপনার সাথে আমি থাকবনা, থাকবনা, থাকবইনা। তখন উনি বলছিলেন- আচ্ছা থেকো না। দেখা যাবে, ব্যবস্থা করব বা বাসায় কথা বলব এমন। উনার মনে নাকি সরাসরি তালাকের উদ্দেশ্য ছিলো না বা ফিউচারে দিবেন এমনও না। ফিউচারে দিলেও সেই নিয়তে নাকি মুখ থেকে কিছু বের করেন নি।
আচ্ছা থেকো না, এই বাক্য কি কেনায়া শব্দের মধ্যে পড়বে বা তালাক পতিত হবে কিনা? জানাবেন প্লিজ৷

1 Answer

0 votes
by (804,930 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) 
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اعْتَكَفَ أَدْنَى إِلَيَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ، وَكَانَ لَا يَدْخُلُ البَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ»: «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ» - «سنن الترمذي ت شاكر»
তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফে বসতেন, তিনি তাঁর মাথা আমার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। তিনি মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। -  ইবনু মাজাহ ৬৩৩, ১৭৭৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী] এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1795

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ইতিকাফ স্থল থেকে বের হলেই কেবল ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যায়। যদি কেউ ইতিকাফ স্থল থেকে বের না হয়, তবে স্ত্রীর সাথে মুবাইলে কথা বলে, এমনকি স্বামী স্ত্রী সূলভ কথাও হয়ে যায়, তাহলে এজন্য ইতিকাফ ফাসিদ হবে না। তবে ইতিকাফ বসে এভাবে কথা বলা সওয়াবকে কমিয়ে দিতে পারে। সুতরাং এত্থেকে বেচে থাকাই কাম্য।

(২) ইতিকাফ স্থলে বসেই কথা বলে থাকলে এজন্য ইতিকাফ ফাসিদ হবে না। তবে অযথা অনর্থক কথা বললে ইতিকাফের সওয়াব বিনষ্ট হবে।

(৩) পুরো রুম বলকনি সহ ইতিকাফ স্থল নির্ধারণ করা যাবে। তবে যেই স্থানকেই ইতিকাফ স্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হবে, সেই স্থানকে এই দশদিন যাবৎ মসজিদের সম্মান দিতে হবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1275

(৪) ইতিকাফে বসে দাম্পত্য জীবনের গোপন বিষয়াবলী মনে আনা যাবে না। তবে কখনো এসে পড়লে এজন্য ইতিকাফ ফাসিদ হবে না।

(৫) দশ দিনের সুন্নতী ইতিকাফ ফাসিদ হলে একদিন একরাত রোযা সহ ইতিকাফ কাযা করতে হবে। চায় রমজানে হোক বা রমজানের বাহিরে।

(৬) প্রশ্নের বিবরণমতে (দিয়ানাতান) তালাক হবে না। আপনারা সংসার চালিয়ে যেতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...