আপনার নিকটতম আত্মীয়-স্বজন যদি আপনাকে দাওয়াত দেয়, সেক্ষেত্রে সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণ জরুরী হলে মাহরাম পুরুষ সহকারে আপনি সে দাওয়াতে অংশগ্রহণ করবেন।
মাহরাম পুরুষ ছাড়া এভাবে সেই দাওয়াতে যাবেননা।
দাওয়াতে যাওয়ার আগে আপনি শর্ত দিবেন আপনার খানাপিনা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় যেন আলাদা পর্দা ঘেরা রুমে ব্যবস্থা করা হয়।
কোনভাবেই গায়েরে মাহরামদের সামনে আপনাকে খানাপিনা করতে বা আপনাকে যেতে ও কথা বলতে যেন তারা বাধ্য না করে।
এক্ষেত্রে সেখানে আপনি খানাপিনা যাবতীয় বিষয় আলাদা রুমেই করবেন।
মাহরামদের সাথে কথা বলতে হলে সেক্ষেত্রে এমন স্থানে থেকে কথা বলবেন, যাতে গায়রে মাহরাম কেউ শুনতে না পায়।
যদি সেখানে গায়রে মাহরাম কেউ উপস্থিত থাকে, সে ক্ষেত্রে কণ্ঠ বিকৃত করে বা মুখের উপর হাত রেখে পর্দার আড়াল হতে কথা বলবেন।
যদি আপনার মাহরাম পুরুষ (স্বামী,বাবা,ভাই,ছেলে ইত্যাদি) না থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে দাওয়াতে যেতে হলে,এমতাবস্থায় যদি কোন ফিতনার শংকা না থাকে,রাস্তা ও দাওয়াতের স্থান নিরাপদ থাকে, এবং সফরের দূরত্ব না হয়,সেক্ষেত্রে মাহরাম পুরুষ এর অনুমতি স্বাপেক্ষে দিনের বেলা চেহারা হাত পা সহ পরিপূর্ণ পর্দা করে যেতে হবে।
গায়রে মাহরাম দের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলার দরুন আপনার গুনাহ হবে।
এক্ষেত্রে কন্ঠ বিকৃত করার চেষ্টা করা অথবা মুখের উপর হাত রেখে কথা বলার চেষ্টা করা উত্তম।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে আকর্ষণধর্মী ভঙ্গিতে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে যৌনলিপ্সা আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে, জাহেলী যুগের মেয়েদের মত নিজেদের প্রকাশ করো না। {সূরা আহযাব-৩২}
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ
অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩}