আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
107 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (31 points)
১. কন্ঠে পর্দায় কি পোশাকের পর্দার মতো ফরজ কিনা ?

২. যদি ফরজ হয় তাহলে কণ্ঠের পর্দা কিভাবে করবে ?

৩. আমি যতটুক জানি পর্দা ফরজ এবং গাইরে মাহরামদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা নিষেধ, যদি কোন জরুরত এ কথা বলে তাহযলে কন্ঠকে কঠোর করে বা কন্ঠের শুর বিকৃত করে কথা বলতে হবে। আর মেয়েদের স্বাভাবিক কণ্ঠই নাকি কোমল কন্ঠ।
তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে:

মেয়েদের বাহিরে অনেক সময় চলাচলের সময় যেমন: গাড়িতে, মার্কেটে বা কোন দোকান থেকে কিছু কিনতে হলে গাইরে মাহরামদের সাথে কথা বলার সময় কি কঠোর কণ্ঠে কথা বলতে হবে কিনা? কারণ তাদের স্বাভাবিক কণ্ঠই যেহেতু কোমল কন্ঠ, তো এখানে তো স্বাভাবিক কণ্ঠে কথা বলা যাবে না কঠোর বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলতে হবে। তো এক্ষেত্রে কিভাবে করবে?

আরেকটা বিষয় হচ্ছে অনেক মাদ্রাসয় দেখা যায় ছাত্রীরা ওস্তাদের কাছে পড়াশোনায় পর্দার আড়াল থেকে। কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে হলেও তারা তো স্বাভাবিক কন্ঠে উস্তাদের কাছে পড়া শোনায়। এক্ষেত্রে তো কন্ঠের পর্দা রক্ষা হচ্ছে না। এটা কি অন্যায় হচ্ছে না??

৪. চতুর্থ নম্বর প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মেয়ে এমন এক জায়গায় অবস্থান করছে সেটা যৌথ ফ্যামিলিতে বাসা বাড়ি হোক, বা গাড়িতে, কোন দোকানপাটে, বা রেস্টুরেন্টে যে কোন অবস্থানেই হোক সেখানে কোন একজন গায়রে মাহরাম উপস্থিত আছে। এখন সেই গায়রে মাহরাম তার সামনেও নাই, কথা বলার কোন প্রয়োজনও নাই। কিন্তু মেয়ে অন্যান্য মহিলা বা তার অন্য মাহরামদের সাথে কথা বলবে, এখন মাহারামদের সাথে কথা বললে তো স্বাভাবিক কন্ঠেই কথা বলবে। এখন যেহেতু মেয়েদের স্বাভাবিক কণ্ঠই হচ্ছে কোমল কন্ঠ। তো এখন গাইরে মাহরামের উপস্থিতির কারণে সে অন্য মাহরামদের সাথে কিভাবে কথা বলবে? সে যদি স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলে মাহরামদের সাথে এবং সেটা যদি গাইরে মাহরাম শুনে তাহলে এটা কি তার কন্ঠে পর্দার লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা? তার কি গুনাহ হবে কিনা??

যদি বিষয়টা আরেকটু সহজ করে বলি, একটা মেয়ে যৌথ ফ্যামিলিতে থাকে। সেখানে সে পর্দার সাথেই থাকে। কিন্তু যেহেতু যৌথ ফ্যামিলি, পাশাপাশি সবার রুম। সেহেতু গাইরে মাহরামও একই জায়গায় অবস্থান করে। তো সেই মেয়ের স্বাভাবিক কথাবার্তা, কাজের সময় কথাবার্তা, নিজের রুমে স্বাভাবিক কথাবার্তা বা অন্য মাহারামদের সাথে স্বাভাবিক কথোপকথন। এগুলো তো স্বাভাবিকভাবেই গাইরে মাহরাম শুনতে পাবে। এখন যৌথ ফ্যামিলিতে একই ফ্ল্যাটে থাকার কারণে যদি নিজের স্বাভাবিক কথাবার্তা গুলোও কোন গাইরে মাহারাম শুনতে পায়, তাহলে এখানে কন্ঠের পর্দা কিভাবে করবে? বা কন্ঠের পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা, গুনাহ হচ্ছে কিনা??

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

 হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে বিনম্র হয়ে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে পৌরষত্ব আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে। {সূরা আহযাব-৩২}
লক্ষণীয় বিষয় হল, কন্ঠস্বরের কোমলতা পরিহারের নির্দেশ সরাসরি নবীযুগের নারীদেরকে দেয়া হয়েছে।
সুতরাং আমাদের যুগের মহিলাদের আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
,
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ السَّمْعَ وَالبَصَرَ وَالفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.
...নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৬

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُزِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ;১৯/১৯৩ এ নারীদের আওয়াজ সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার (মারজুহ) রেওয়াতকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার দিয়ে বলা হয়েছে যে,পর-পুরুষের সামনে মহিলা বক্তৃতা দিতে পারবে না।বক্তৃতা প্রদান জায়েয হবে না।

★নারীকন্ঠ সতরের অন্তর্ভুক্ত কি না? 
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ

★পরপুরুষের (গায়রে মাহরামের) সঙ্গে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবে, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

হযরত আয়েশা (রা) এর নিকট মাসয়ালা বা হাদিসের প্রয়োজনে অন্যান্য সাহাবীগণ আসলে, তিনি মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন যেন কারো অন্তর ব্যাধিগ্রস্থ না হয়। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(১-৩)
কন্ঠে পর্দা আবশ্যক কিনা,এই ব্যাপারে ইসলামী স্কলারদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। 
সুতরাং এটি শরীরের পর্দার মতো নয়।

নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলতে গিয়ে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলা সবচেয়ে ভালো। 
সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

তবে এক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবে।

(০৪)
সে যদি স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলে মাহরামদের সাথে এবং সেটা যদি গাইরে মাহরাম শুনে তাহলে তার কন্ঠে পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে। এতে তার গুনাহ হবে।

এক্ষেত্রে এমন আস্তে স্বরে কথা বলতে হবে,যাতে গায়রে মাহরাম না শুনতে পায়।

হ্যাঁ যদি বিষয়টি এমন হয় যে আস্তে বললেও গায়রে মাহরাম শুনবেই,সেক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিতে কথা বলতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...