আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
68 views
in সালাত(Prayer) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম হজরত,

আজকে গ্রামের পঞ্জেগানা মসজিদে এশার সালাতে আমার ইমামতি করা হয় নির্দিষ্ট ইমাম না থাকায়।

দ্বিতীয় রাকাতের কিরাতে সুরা গশিয়ার শুরু থেকে তিলাওয়াত করি। তবে নিন্মোক্ত আয়াত দুটি ভুলে উল্টে ফেলি:

وَإِلَى ٱلۡجِبَالِ كَيۡفَ نُصِبَتۡ

وَإِلَى ٱلۡأَرۡضِ كَيۡفَ سُطِحَتۡ

এর স্থানে
وَإِلَى ٱلۡجِبَالِ كَيۡفَ سُطِحَتۡ

وَإِلَى ٱلۡأَرۡضِ كَيۡفَ نُصِبَتۡ

তিলাওয়াত করেছিলাম।
পরে আবার ঠিক করেছি, এবং সালাত শেষ করেছি। কিন্তু সালাত শেষে আমার সন্দেহ হচ্ছিল, আমি কি আবারও একই ভুল করলাম কিনা। সাহু সিজদাহ দেওয়া হয় নি। পরে সন্দেহটা প্রকট হলো, কিন্তু ততক্ষণে মুসল্লি প্রায় অনেকেই চলে গিয়েছিল।

এক্ষেত্রে আমার ও মুসল্লিদের করণীয় কী, যদি জানাতেন। আমার এখন খুবই অনুতাপ হচ্ছে। ভয় হচ্ছে, যেহেতু অর্থ উল্টে যায়।

জাযাকাল্লাহু খাইর।
by (4 points)
সালাত শেষের আগেই আমার সন্দেহ হচ্ছিল, আমি কি আবারও একই ভুল করলাম কিনা। সাহু সিজদাহ দেওয়া হয় নি, নিজের ওয়াসওয়াসা ভেবে (আমার ওয়াসওয়াসা রোগ নেই যদিও)। পরে সালাত শেষ সময় নিয়ে ভাবতে থাকায় সন্দেহটা প্রকট হলো, কিন্তু ততক্ষণে মুসল্লি প্রায় অনেকেই চলে গিয়েছিল।
এক্ষেত্রে আমার ও মুসল্লিদের করণীয় কী,

যদি জানাতেন। আমার এখন খুবই অনুতাপ হচ্ছে, মুসলিমদের সাথে গাদ্দারি ও চরম নিফকির গাফিলতির জন্য। ভয় হচ্ছে, যেহেতু অর্থ পাল্টে যায়। উত্তম নাছিহা চাচ্ছি হজরত।

জাযাকাল্লাহু খাইর।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/35007 নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
নামাযে যেকোনো ভুলের কারণে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয়ে যায় না। বরং ভুলে নামাযের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে কিংবা কোনো ফরয বা ওয়াজিব বিলম্বিত হলে ওয়াজিব হয়। আর যদি ভুলে কোনো ফরয ছুটে যায়, তবে সেজদা সাহু করা যথেষ্ট নয়, বরং পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। আর কোনো সুন্নত বা মুস্তাহাব ছুটে গেলে সেজদা সাহু করার বিধান নেই। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك بن أنس، عن ابن شهاب، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبد الله بن بحينة رضي الله عنه، أنه قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين من بعض الصلوات، ثم قام فلم يجلس، فقام الناس معه، فلما قضى صلاته ونظرنا تسليمه كبر قبل التسليم، فسجد سجدتين وهو جالس، ثم سلم.

আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নামায আমাদের দুই রাকাত পড়ান। তারপর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুকতাদীরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। যখন তিনি নামায পূর্ণ করলেন এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম তখন সালাম ফিরানোর আগে তাকবীর দিলেন এবং বসা অবস্থায় দুটি সেজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। 
(সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৪ সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭০)

فتاوی عالمگیری  :
"ذكر في الفوائد: لو قرأ في الصلاة بخطأ فاحش، ثم رجع وقرأ صحيحاً، قال: عندي صلاته جائزة وكذلك الإعراب".  (1 / 82، الفصل الخامس فی زلۃ القاری، ط؛رشیدیہ)
সারমর্মঃ
কেহ যদি নামাজে স্পষ্ট ভুল কিরাআত পড়ে,অতঃপর পুনরায় সেই আয়াতে ফিরে আসে, এবং শুদ্ধ ভাবে কিরাআত পড়ে,তাহলে তার নামাজ সহীহ হয়ে যাবে। 

حاشیۃ الطحطاوی علی الدر  :
"وفي المضمرات  : قرأ في الصلاة بخطأٍ فاحش ثم أعاد وقرأ صحیحاً فصلاته جائزة". (1/267، باب مایفسد الصلاۃ، کتاب الصلاۃ)
সারমর্মঃ
কেহ যদি নামাজে স্পষ্ট ভুল কিরাআত পড়ে,অতঃপর পুনরায় ফিরে আসে, এবং শুদ্ধ ভাবে কিরাআত পড়ে,তাহলে তার নামাজ সহীহ হয়ে যাবে। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
নামাজে কিরাআতে ভুল হওয়ার পর সেটি পুনরায়  সহীহ করে পড়লে তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়।
এতে কোনো সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়না।
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত নামাজ শুদ্ধ হয়েছে।
সেজদায়ে সাহু দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই।       
এক্ষেত্রে আপনার ও আপনার মুসল্লিদের জন্য কোন করণীয় নেই।
তবে ভবিষ্যতে সতর্কতা অবলম্বন করে নামাজে তিলাওয়াত করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...