আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি
১.আমার জাওজ ব্যবসার জন্য সুদের ভয়াবহতা না জেনেই একজনের কাছ থেকে সুদে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিল পরবর্তীতে ব্যবসায় লস হবার কারনে সেই সুদের টাকা বেড়ে ৭ লাখ টাকা হয়ে যায়,আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য যথাসম্ভব সকল হালাল মাধ্যম থেকে ঋন,ধার নেয়ার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি পরবর্তীতে এই ৭ লাখ সুদের টাকা পরিশোধ করার জন্য ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা লোন নিয়ে সুদের টাকা পরিশোধ করা হয়, এখন ব্যাংকের লোন পরিশোধসহ আরো বিভিন্ন পাওনাদার বিভিন্ন সময় এসে মানসিকভাবে সামাজিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির করে,এবং আর্থিক সংকট এখন এতটাই চরম পর্যায়ে যে এখন বাকি শুধু সবকিছু ছেড়েছুড়ে কোথাও নিরুদ্দেশ হওয়া। বর্তমান যামানায় আপন আত্মীয় স্বজনরা আর্থিক সাহায্য তো দূরের কথা কিছুদিনের জন্য টাকা ধারও দিতে চায়না অথচ তাদের টাকা বিভিন্ন হারাম খাতে,অপ্রয়োজনীয় কাজে বিনা কারনেই তারা খরচ করে। আমার স্বামী তওবা করেছে সুদের ধারে কাছেও আর কোনদিন যাবেনা কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন দাড়িয়েছে যে কোথাও আর্থিক সাহায্য পাচ্ছি না একমাত্র সুদ ছাড়া। তারপরও আল্লাহর ভয়ে ঐ পথে যাবে না আমার জাওজ। এখন আমার এক নিকট আত্মীয়ের কাছে প্রায় ৬ লাখ টাকা জমা আছে কিন্তু সে সেই জমানো টাকাটা অসাধু আর হারাম ভাবে অর্জন করেছে,তার এই জমানো টাকা সম্পূর্ণভাবে হারাম টাকা,অন্যের টাকা সে অন্যায়ভাবে নিজের কাছে জমিয়ে রেখেছে। এখন আমরা যেহেতু এতটাই ঋনগ্রস্থ যে বিষ কিনে খাওয়ার মত টাকাও নেই পকেটে সেই হিসেবে আমরা কি আত্মীয়ের জমানো হারাম টাকাটা ধার হিসেবে নিতে পারবো? যদি এই হারাম টাকা ধার হিসেবে নিয়ে মুদি ব্যবসায়ের বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করে,লোন পরিশোধ করে তাহলে কি সেটা হালাল হবে?
২.আল্লাহ তাআলা বাবা মায়ের দোয়া এবং বদদোয়া ২ টাই কবুল করেন। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে তাই কোন মানুষই আসলে ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নয়,রাগের সময় দেখা যায় বাবা মা তাদের সন্তানেরকে বিনা দোষে অভিশাপ বদদোয়া করেন এতে করে সেই সন্তান তো বিনা দোষে বদদোয়ার শিকার হচ্ছেন এক্ষেত্রে কি সেই সন্তানের সাথে অবিচার করা হলো না? আল্লাহ তাআলা যেই শ্রেষ্ঠ ক্ষমতাটা বাবা মাকে দিয়েছেন সেটা তো বেশির ভাগ মা বাবারাই অসৎ ভাবে কাজে লাগায় সেই হিসেবে আল্লাহ কি সন্তানদের সাথে সঠিক ন্যায়বিচার করলেন? আমি আমার সারাটা জীবন আমার বাবা মার জন্য ত্যাগ স্বীকার করলাম,অথচ দিনশেষে আমার স্বামী আমার মার কাছ থেকে ২৭০ টাকা ধার হিসেবে নিয়েছে এখনকার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধারের টাকা একসাথে পরিশোধ একদমই সম্ভব না আমাদের দ্বারা তাই আমার জাওজ টাকাটা পাঁচ হাজার, দশ হাজার করে পরিশোধ করার চেষ্টা করছে কিন্তু তাতে আমার মা রাজি না উল্টো আমার মা জাওজের দোকানের সামনে এসে মহল্লার মানুষদের জড়ো করে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা বলে,চিল্লাচিল্লি করে,জাওজের বাবা মা তুলে গালি দেয়,জাওজ যতই ভালো ব্যবহার করে ততই আমার মা জাওজের সাথে অকথ্য ভাষায় কথা বলে। আমাকে সবসময় অভিশাপ দেয়,বদদোয়া দেয়,আমার উপর অসন্তুষ্ট। আমার রক্তের ভাই বোনগুলোর সাথেও আমাকে যোগাযোগ করতে দেয় না,আমার মার কথা সে বেচে থাকতে চায়না তাদের সন্তানদের মধ্যে মিল থাকুক। এখন এই টাকাটা দিতে না পারার কারনে আমার মা যে আমাকে দিনরাত বদদোয়া দিচ্ছে,বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছে,আমার জাওজের সাথে আমার সংসার ভেঙে দেয়া হুমকি দিচ্ছে, মায়ের বদদোয়া যদি আল্লাহ কবুল করে তাহলে আমি আল্লাহর কাছে কিভাবে ন্যায়বিচার চাইবো? আমি তো বিনাদোষে বাবা মার আক্রোশের শিকার হচ্ছি। আমি তো আল্লাহর ভয়ে বাবা মার শত অন্যায়ের পরও চুপ করে আছি আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন এই আশায়।