আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
64 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল:

১.আজকাল অনেকেই জমি কিনে শেয়ার ছেড়ে বিল্ডিং করে থাকেন। সেক্ষেত্রে প্রথমে যারা মূল উদ্যোক্তা তারা মূল মালিক থেকে জমি কিনেন অনেক কমদামে।জমির মালিককে প্রথমে কিছু টাকা বায়না করেন এবং একটা নির্দিষ্ট সময় নেন রেজিষ্ট্রি করার জন্য।উক্ত সময়ের মধ্যে তারা মাঠিভরাট,রাস্তা ইত্যাদি কিছু উন্নয়ন মূলল কাজ করেন এবং একটা বড় অংকের লাভ ধরে পুরো জমিটাকে কয়েকটা প্লটে ভাগ করে প্লট আকারে বিক্রির জন্য গ্রাহক তালাশ করেন।এবার এই সমস্ত প্লটগুলোর ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাভ করে মালিককে তার টাকা বুঝিয়ে দেন এবং তার থেকে রেজিষ্ট্রি নিয়ে দেন।এবার যারা প্লটগুলো নিচ্ছেন তারা আবার এগুলোকে কয়েকটি শেয়ারে ভাগ করেন এবং গ্রাহক খুজেন।গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা আবার লাভ করেন এবং টাকা নিয়ে মালিক থেকে রেজিষ্ট্রি নিয়ে দেন।আবার ঐ সমস্ত গ্রাহক যারা শেয়ার কিনেন তারা আবার এগুলোকে আরো কিছু ফ্লাট পজিশন  আকারে ভাগ করে বিক্রি করেন।বিষয়টি বুঝার জন্য উদাহরণ স্বরুপ ১ম  পর্যায়ে এই যে ১ম,২য়,৩য় পর্যায়ে এভাবে সবাই লাভ করছেন এটা কি ব্যবসা হিসেবে লাভ করে আয় করা হালাল হবে কিনা?

২.এই যে ১ম, ২য়,৩য় পর্যায়ে যারা উদ্যোক্তা তারা এটাকে কেনাবেচা করছেন এবং লাভ করছেন কিন্তু তাদের নামে সরাসরি রেজিষ্ট্রি নিচ্ছেন না।এতে কোন সমস্যা হবে কিনা।অবশ্য প্রত্যেকবার রেজিষ্ট্রি নিয়ে কেনাবেচা করতে গেলে রেজিষ্ট্রি খরচ, দলিল,সময় ইত্যাদি জঠিলতা আছে।এজন্য শুধু কিছু বায়না করলে নিজেদের মালিকানা সাব্যস্ত হবে কিনা এবং কেনাবেচা জায়েজ হবে কিনা?

৩.ধরুন ১ম পক্ষ যারা মূল মালিক থেকে ১৩  কাঠা জমি কিনল বা চুক্তি করল ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে।এবার তারা  জমিটাতে ১২ তলা বিল্ডিং করবে বলে এটাকে ২২ টি শেয়ারে ভাগ করল।এবার জমির দাম কাটা প্রতি ১৪ লাখ ধরে অরতি শেয়ারের মূল্য ধরল ৮ লাখ ২৭ হাজার।এবার আমি তাদের কাছ থেকে ৬ টি শেয়ার নিলাম এবং ৫/১০ লাখ টাকা বা কিছু বায়না করলাম।এবার আমি ঐ শেয়ারগুলো ১২/১৩ লাখ টাকা ধরে ৫/৬ জনের কাছে বিক্রি করলাম।এবং তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মূল্য পরিশোধ করে লাভ করলাম।এবার তারা আবারভামার কাছ থেকে কিনে অন্যদের কাছে লাভ করল।এই যে কেনা বেচা এটা জায়েয হবে কিনা।আজকাল অনেক আলেমও এই ব্যবসা করে টাকা ইনকাম করছেন।

1 Answer

0 votes
by (807,390 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلَا يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন খাদ্যবস্তু ক্রয় করে, যেন তা কবজা করার আগে বিক্রয় না করে(সুনানু নাসায়ী-৪৫৯৬)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/60300

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ফ্ল্যাট ক্রয়বিক্রয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/135298

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
জমি করার পর পরিপূর্ণ হস্তগত করার পর উক্ত জমিকে বিক্রয় করা যাবে। তবে পরিপূর্ণ হস্তগত করার পূর্বে উক্ত জমিকে অন্যত্র বিক্রয় করা যাবে না। জমি ক্রয় করার পর সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হোক বা বায়না করা হোক, উক্ত জমিকে হস্তগত করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
reshown
এখানে হস্তগত করা বলতে কি বুঝিয়েছেন আরেকটু পরিস্কার করে বললে ভাল হয়।ধরুন একজন মূল মালিক থেকে জমিটি বায়না করে তা হস্তগত করেছে।তিনি সীমানা পিলার সহ মাঠি ভরাট করেছেন।এখন তিনি আবার কাঠাপ্রতি একটা মূল্য নির্ধারণ করে আমাদের নিকট বিক্রির প্রস্তাব করেছেন।এখন আমরা তার থেকে কিছু অংশ ক্রয় করতে সম্মত হয়ে তাকে আংশিক কিছু টাকা বায়না করেছি।এবং তিনি নির্দিষ্ট সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করার শর্তে আমাদেরকে মালিকানা দিতে সম্মত হয়েছেন এবং আমরা এটা অন্য জায়গায় বিক্রি করতে পারব বলে অনুমতি দিয়েছেন।অর্থাৎ বায়না করে আমরা মালিকানা নিয়েছি যদিও রেজিষ্ট্রি হয় নি।কিন্তু তিনি তা জেনেশুনেই আমাদের এই মালিকানা এবং অনুমতি দিয়েছেন এবং আমরা যাদের বিক্রি করব তাদেরকে রেজিষ্ট্রি দিতেও সম্মত হয়েছেন।এতে হস্তগত বা মালিকানা সাব্যস্ত হবে কিনা? এবং আমরা এখন তা অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারব কিনা?এখন আমরা মালিকানা সুত্রে অন্যদের কাছে লাভে বিক্রয় করে মুনাফা করলাম এবং  ক্রেতাকে রেজিস্ট্রি করে দিলাম। এখানে একটা বিষয় হল যেহেতু রেজিষ্ট্রি আমাদের নামে নিই নি কারণ রেজিষ্ট্রি নিতে গেলে টাকা,সময়,খারিজ ইত্যাদি জঠিলতা আছে।অতএব আমাদের থেকে যারা কিনল তাদেরকে সরাসরি তার কাছ থেকেই রেজিষ্ট্রি করে দিলাম।এতে কোন সমস্যা আছে কিনা? বা এরকম কেনাবেচা করে মুনাফা অর্জন করা হালাল হবে কিনা?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...