আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in সালাত(Prayer) by (13 points)
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ।  কারো হায়েজের অভ্যাস ৭দিন। এমতাবস্থায় উক্ত ব্যাক্তি ৭ম দিনে সাদা স্রাব দেখে পবিত্র হয়ে ৩ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছে। পরবর্তী ওয়াক্তে সালাতের পূর্বে উক্ত ব্যাক্তি লালচে স্রাব দেখতে পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে-

১.এমতাবস্থায় ওই ব্যাক্তি কি ১০ম দিনের জন্য অপেক্ষা করবে? ২.তার আদায়কৃত সেই ৩ ওয়াক্ত সালাতের কি কাযা আদায় করতে হবে?
৩. সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছে কিন্তু কোনো ব্যাক্তি সালাত আদায় করেনি।এমতাবস্থায় যদি তার হায়েজ চলে আসে তাহলে ওই ব্যাক্তির উক্ত ওয়াক্তের সালাতের কাযা আদায় করতে হবে কিনা? যেহেতু তখন ওয়াক্ত চলমান ছিলো সে কোনোভাবে হয়তো সালাত আদায় করেনি! হয়তো দেরি না করলে সালাত আদায় করতে পারতো&সালাতের পর হয়তো নোটিস করতে পারতো তার হায়েজ! সালাত আদায় না করে থাকলে কি তা কাযা করবে পবিত্র হয়ে যাবে যখন?

৪. রমাদ্বানের সিয়ামগুলো ফরজ। এমতাবস্থায় রমাদ্বানের সিয়াম আদায় করতে গেলে শাওয়ালের সিয়াম হয়তো শেষ করা যাবে না। যে দিনগুলো অবশিষ্ট আছে উক্ত দিন সমূহে যদি  শাওয়ালের ৬টা রোজা রাখা সম্ভব না হয় তাহলে যতটুকু রাখার সময় পাওয়া গেলো(উদাহরণস্বরুপ:৩/৪টা সিয়াম) এইগুলোর জন্য কি নেকী পাওয়া যাবে না শাওয়ালের সিয়ামের? আসলে  রমাদ্বানের সিয়ামের ব্যাপারেই প্রাধান্য বেশি দেয়া হচ্ছে যেহেতু এটা ফরজ ছিলো& জানা নেই মৃত্যু কখন চলে আসে। করণীয় কি জানাবেন মিন ফাদ্বলিক।

৫. একজন ব্যাক্তি স্বপ্ন দেখেছেন তার পরিচিত কেউ তাকে জিজ্ঞেস করছে -" বলতো তোর মৃত্যু কেমন হবে?"

স্বপ্ন দেখা ব্যাক্তি উত্তর দিয়েছেন- আমার শাহাদাতের মৃত্যু হবে।

এই স্বপ্নের কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে?  ওই ব্যাক্তি কি আমাল করলে কাংখিত মৃত্যু পেতে পারে?

জাযাকুমুল্লহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ১০ দিনের জন্য অপেক্ষা করবে না। বরং ব্লিডিং পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে।

(০২)
না,কাজা আদায় করতে হবেনা।

(০৩)
এমতাবস্থায় ওই ব্যাক্তির উক্ত ওয়াক্তের সালাতের কাযা আদায় করতে হবেনা।

(০৪)
আপনি রমজানের কাজা রোযার নিয়ত করলে শাওয়ালের রোজার ফজিলত পাবেন না।

আবার শাওয়ালের রোজার নিয়ত করলে রমজানের কাজা রোজা আদায় হবে না।

এক্ষেত্রে রমজানের কাজা রোজা আদায়ের পরামর্শ থাকবে।

(০৫)
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

ঐ ব্যাক্তির জন্য করনীয় আমল সম্পর্কে জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...