আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (18 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

সম্মানিত মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আশা করি আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আপনি সুস্থ ও ভালো আছেন। ইবাদত ও দৈনন্দিন কিছু মাসআলা সম্পর্কে আমার কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সহিহ দিকনির্দেশনা পেলে অত্যন্ত উপকৃত হবো, ইনশাআল্লাহ।

আমার প্রশ্নসমূহ:
১. জামাতে দেরিতে শরিক হলে করণীয়-
যে কোনো রাকাতে জামাত ধরলে, ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর আগেই অনেককে দেখা যায় দাঁড়িয়ে বাকি রাকাত আদায় করতে শুরু করেন। কিন্তু আমি ইমামের পূর্ণ দুই সালাম শেষ হওয়ার পর দাঁড়াই। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোনটি? শরিয়তের বিধান কী?

২. নামাজে হাঁচি এলে করণীয়-
নামাজরত অবস্থায় যদি হাঁচি আসে, তখন কি “আলহামদুলিল্লাহ” বলা যাবে? নাকি মনে মনে বলতে হবে, অথবা একেবারেই বলা যাবে না?

৩. ফজরের নামাজ কাজা হলে-
যদি ঘুমের কারণে ফজরের নামাজ আদায় করা না হয়, তাহলে পরে কখন এবং কীভাবে তা আদায় করতে হবে? এক্ষেত্রে ২ রাকাত সুন্নত ও ২ রাকাত ফরজ—দুটিই কি আদায় করতে হবে?

৪. ইবাদতে অলসতা দূর করার উপায়-
নামাজ, ইবাদত বা মসজিদে যেতে অনেক সময় আলসেমি বা একঘেয়েমি অনুভব হয়। এ ধরনের অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য কোনো সহিহ আমল, যিকির বা দোয়া থাকলে দয়া করে জানাবেন।

৫. গোসলের সময় অযুর বিধান-
গোসল করার সময় কি আলাদা করে পূর্ণ অযু করা জরুরি? নাকি শুধু তিনবার কুলি করা, তিনবার নাকে পানি দেওয়া এবং পুরো শরীর ধৌত করলেই গোসল ও অযু সম্পন্ন হয়ে যাবে? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

৬. গোসলের মাঝে অযু ভেঙে গেলে করণীয়-
গোসল চলাকালীন যদি অযু ভেঙে যায়, তাহলে কি পুনরায় পূর্ণ অযু করতে হবে? নাকি শুধু কুলি ও নাকে পানি দিয়ে শরীর ধৌত করলেই যথেষ্ট হবে?

৭. সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমল-
সকাল ও সন্ধ্যার মাসনুন আমল (যিকির-আজকার) যদি নির্দিষ্ট সময়ে করা না হয় এবং পরে মনে পড়ে, তাহলে কি তখনই আদায় করা যাবে? এগুলোর নির্দিষ্ট সময়সীমা কী? এছাড়া, শুয়ে, দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে এসব আমল করা যাবে কি?

৮. নফল রোজার নিয়ত একত্র হওয়া সম্পর্কে-
যদি সোমবার বা বৃহস্পতিবারের সুন্নত রোজা রাখি, আর তা যদি আইয়ামে বীজ (১৩, ১৪, ১৫ তারিখ) এর দিনগুলোর সাথে মিলে যায়, তাহলে কি একসাথে উভয় আমলের সওয়াব পাওয়া যাবে?

সম্মানিত হুজুর, বিষয়গুলো আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে শরিয়তের আলোকে সহিহ দিকনির্দেশনা প্রদান করলে আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আপনার ইলমে বরকত দান করুন এবং আমাদের সকলকে সহিহ বুঝ ও আমলের তাওফিক দান করুন। [আমিন]
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
০৫-এপ্রিল-২০২৬

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   

وَعَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ شُعْبَةَ اَنَّه غَزَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ غَزْوَةَ تَبُوْكَ قَالَ الْمُغِيْرَةُ فَتَبَرَّزَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قِبَلَ الْغَائِطِ فَحَمَلْتُ مَعَه اِدَوَاةً قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَمَّا رَجَعَ اَخَذْتُ اُهْرِيْقُ عَلى يَدَيْهِ مِنَ الاِدَاوَةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَه وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِّنْ صُوْفٍ ذَهَبَ يَحْسِرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ فَضَاقَ كُمُّ الْجُبَّةِ فَاَخْرَجَ يَدَيْهِ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ وَاَلْقَى الْجُبَّةَ عَلى مَنْكِبَيْهِ فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ مَسَحَ بِنَاصِيَتِه وَعَلَى الْعِمَامَةِ ثُمَّ اَهْوَيْتُ لَانْزِعَ خُفَّيْهِ فَقَالَ دَعْهُمَا فَاِنِّىْ اَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا ثُمَّ رَكِبَ وَرَكَبْتُ فَانْتَهَيْنَا اِلَى الْقَوْمِ وَقَدْ قَامُوْا اِلَى الصَّلَاةِ وَيُصَلِّىْ بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنِ عَوْفٍ وَّقَدْ رَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً فَلَمَّا اَحَسَّ بالنَّبِىِّ ﷺ ذَهَبَ يَتَاَخَّرُ فَاَوْمَا إِلَيْهِ فََاَدْرَكَ النَّبِىُّ ﷺ اِحْدَىِ الرَّكْعَتَيْنِ مَعَه فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِىُّ ﷺ وَقُمْتُ مَعَه فَرَكَعْنَا الرَّكْعَةَ الَّتِىْ سَبَقَتْنَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ 

মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবূক যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। মুগীরাহ্ বলেন, একদিন ফজরের (ফজরের) সলাতের আগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানার উদ্দেশে বের হলেন। আর আমি তাঁর পেছনে একটি পানির পাত্র বহন করে গেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে আসার পর আমি তাঁর দুই হাতের কব্জির উপর পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই হাত ও চেহারা ধুলেন। তখন তাঁর গায়ে একটি পশমের জুববাহ্ ছিল। তিনি তাঁর (জুববার আস্তিন গুটিয়ে) হাত দু’টি খুলতে চাইলেন। কিন্তু জুববার আস্তিন খুব চিকন ছিল। তাই জুববার ভেতর দিক দিয়েই তাঁর হাত দু’টি বের করে নিজের দুই কাঁধের উপর রেখে দিলেন এবং হাত দু’টি (কনুই পর্যন্ত) ধুলেন। অতঃপর মাথার সামনের দিক (কপাল) ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজাগুলো খুলতে চাইলাম। তিনি বললেন, এগুলো এভাবে থাকতে দাও, আমি এগুলো পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ- উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে) পরেছি। তিনি এগুলোর উপর মাসাহ করলেন। অতঃপর তিনি সওয়ারীর উপর আরোহণ করলেন, আমিও আরোহণ করলাম এবং আমরা একটা দলের কাছে পৌঁছে গেলাম। তখন তারা সলাতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, আর ‘আবদুর রহমান ইবন ‘আওফ (রাঃ) তাদের সলাতের ইমামাত করছিলেন এবং তাদের নিয়ে এক রাক্‘আত সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ও করে ফেলেছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন বুঝতে পেরে তিনি পেছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার স্থানে (স্থির থাকতে) ইশারা করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে দুই রাক্‘আতের মধ্যে এক রাক্‘আত সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) পেলেন। তিনি সালাম ফিরালে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর এক রাক্‘আত ছুটে যাওয়া সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আমরা আদায় করলাম।
(মুসলিম ২৭৪, নাসায়ী ১০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫১৪৩, ইবনু মাজাহ্ ১২৩৬।)

★শরীয়তের  বিধান  হলো ইমামের উভয় দিকে সালাম ফিরানোর পর মাসবুক ব্যাক্তি তার ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় করার জন্য উঠে যাবে।

 ক্বেরাতের ক্ষেত্রে প্রথম দিককার রাকাতের হুকুম আরোপিত হবে। অর্থাৎ যদি এক রাকাত না পায়, তাহলে দাঁড়িয়ে সানা পড়বে, তারপর ফাতিহা ও সূরা মিলাবে এভাবে বাকি নামায পূর্ণ করবে। আর যদি দুই রাকাত না পায়, তাহলে প্রথম রাকাতে, সানা, ফাতিহা, সূরা মিলিয়ে নিয়মমাফিক পূর্ণ করবে, তারপর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা মিলাবে। আর যদি তিন রাকাত না পায়, তাহলে প্রথমে দুই রাকাত পূর্বের মত পড়বে। আর তৃতীয় রাকাতে শুধু ফাতিহা পড়বে কিন্তু সুরা মিলাবে না।

মোটকথা, রাকাত হিসেবে প্রথম রাকাত আদায়কারীর মত নামায আদায় করবে। 

কিন্তু বৈঠক হিসেবে ধর্তব্য হবে শেষ। তথা এক রাকাত না পেলে, এক রাকাত পূর্ণ করেই শেষ বৈঠক আদায় করবে নিয়মমাফিক। আর দুই রাকাত না পেলে তা পূর্ণ করে শেষ বৈঠক আদায় করবে। এভাবে তিন রাকাত ও চার রাকাতের একই হুকুম।

মাসবুক ব্যাক্তির নামাজ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ   

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেমনটি করছেন, এটিই বিশুদ্ধ।

(০২)
নামাজে হাঁচি এলে আলহামদুলিল্লাহ বলা যাবেনা।

(০৩)
ফজরের নামাজ কাজা হলে সূর্য উদয়ের পর ইশরাকের ওয়াক্ত হতে কাজা আদায় করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে যদি সেদিন যোহরের ওয়াক্ত আসার আগেই কাজা আদায় করেন, তাহলে সুন্নতসহ কাজা আদায় করবেন।

আর যদি পরবর্তীতে কাজা আদায় করেন, সেক্ষেত্রে শুধু ফরজের কাজা আদায় করবেন।

(০৪)
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 
ফরজ গোসলের আগে ওযু করে নেওয়া সুন্নত। কিন্তু এমনিতেই অন্যান্য গোসলের সময় ওযু করার জরুরত নেই।

আরো জানুনঃ- 
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 
তাহলে তখন আদায় করা যাবে।
তবে এক্ষেত্রে বিষয়গুলি উদাহরণ আকারে সুস্পষ্ট না করলে ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যায় না, তাই কমেন্ট বক্সে উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করলে ভালো হয়।

এছাড়া, শুয়ে, দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে এসব আমল করা যাবে।

(০৮)
যদি সোমবার বা বৃহস্পতিবারের সুন্নত রোজা রাখেন, আর তা যদি আইয়ামে বীজ (১৩, ১৪, ১৫ তারিখ) এর দিনগুলোর সাথে মিলে যায়, তাহলে একসাথে উভয় আমলের নিয়ত করলে উভয় আমলের সওয়াব পাওয়া যাবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...