আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
299 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (35 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।


১. আমার হাজবেন্ড তার দ্বিতীয় বিয়ের পর পোশাকের বিজনেস শুরু করে। শুরুতে তার ওয়াইফ ৮০ হাজার ইনভেস্ট করে, আর আমার ছিল পরিশ্রম। আমি দীর্ঘ এক বছর আমার স্বামীর বিজনেসে বিনামূল্যে পোশাক বানিয়ে দিয়েছি। শুরুতে সে টাকা দিচ্ছে আমি দিতে পারছি না বলে মন খারাপ করায় বলে এক বউয়ের টাকা, আরেক বউয়ের পরিশ্রম। বিজনেসের ফাউন্ডারও তিনি আমাদের তিনজনকে ধরেন।
২. আমি ইনভেস্ট না করলেও বিজনেসের শুরুতে ২৯ হাজার কর্জ এনে দিই, এবং এই ২৯ এর মধ্যে ১৬ হাজার টাকা আমি পরিশোধ করি।
৩. উক্ত ২৯ হাজার দিয়ে সে মেশিন কিনবে জানায়। মেশিন কেনার পর এই মেশিনকে সে আমার মোহর বলে উল্লেখ করে কয়েকবার। ঝামেলার পর যখন মেশিন নিয়ে বাসায় গিয়ে বিজনেস করতে চাইলাম তখন থেকে সে বলতে লাগলো মেশিন আমার মোহর না। কিন্তু অলরেডি কয়েকবার বলেছে। এর কয়েকমাস পর আমি খোলা নিলে আমাকে পূর্বে থেকে দেওয়া মেশিন বা কোনোপ্রকার দেনমোহর আমি পাই না। পরে ১৫ হাজার ধরে বিয়ে হয়। উল্লেখ্য, সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর দেনমোহর অর্ধেক পরিশোধ করে বিয়ে করেছে। কিন্তু আমার সাথে এরূপ করেছে। প্রথমবার বললো টাকার বদলে ল্যাপটপ, কিন্তু ল্যাপটপ কাজের থাকায় আমি টাকা চাই। পরে বললো মেশিন আমার মোহর। কিন্তু সুযোগ বুঝে সে মেশিন নিজের দাবী করতে থাকে (খোলা তালাকের আগে)


৪. তার বিজনেস অফ হয়ে গেলে আমি অল্প অল্প করে ২১ হাজার ইনভেস্ট এনে ওনাকে দিই বিজনেস শুরুর জন্য। আর আমিও পরিশ্রম করতে থাকি। আমার ঘুম হয় না এই কয়েকমাস একসাথে বিজনেস ও সংসার সামলাতে


৫. আজকে আমার স্বামী জানাচ্ছেন তার এই বিজনেস তিনি বেঁচে থাকাকালে তার, আর মরার পরে পুরো বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীর। একথা শুনে আমি আমার পরিশ্রমের মজুরি দাবী করি। সে বলে আমি তো তার সাথে আছি। ওস্তাদ, স্বামীর সাথে থাকলে কি আয় রোজগারে শামিল হতে হবে এমন শর্ত আছে স্ত্রীদের প্রতি শরীয়াহ অনুযায়ী? একারণে তিনি আমাকে স্বার্থপর সাব্যস্ত করেছেন। অথচ এই বিজনেসের জন্য আমার নিজের  পেইজ পরে ছিলো টানা এক বছর। আমার আইওএমের লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়েছে ৫ম সেমিস্টারে এসে। বলছে আমার পেইজটা আমার। কিন্তু সেখানে তো আমি তার বিজনেসের জন্য তেমন সময় দিতে পারি না, তাহলে বিষয়টা কি ইনসাফভিত্তিক হলো?
৬. উনি মাসিক ১৩,০০০ বাসাভাড়া দেন, এইটা ওনার দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু এর জন্য কি অর্থ সংকুলানের জন্য তিনি আমাকে কাজ করতে বলতে পারেন? যেখানে তার সাড়ে ২৩,০০০ টাকা বেতনের জব রয়েছে এবং বিজনেসও রয়েছে?
ওস্তাদ, আমি যদি একা হতাম, অথবা বিজনেসটা দুজন স্ত্রীর হতো তাহলে আমার পরিশ্রম করতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু শুরুতে বললেন হোল্ডার তিনজন, এখন বলছেন বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীর, আর আমি বিজনেস থেকে সরতে চাইলে আমাকে বলছেন স্বার্থপর। এমনকি মেশিনটাও আমার না বলছে। তার যুক্তি আমি তার সাথে আছি, তাই কাজ করতে বললে আমাকে কাজ করতে হবে! উল্লেখ্য, তার দ্বিতীয় বিয়ের আগে আমাকে এভাবে ইনকাম করতে হয়নি। বিয়ের পর পর তারা দুজন প্ল্যান করে বিজনেসের। আমি ওই মানসিক অবস্থায় কাজ করতে পারবো না, প্রফেশনালি কাজ জানি না বলার পরও তারা আমার উপর ভরসা করে কাজ শুরু করে।
আমি আমার জীবনে প্রচন্ড ক্লান্ত ওস্তাদগণ। আপনারা বিষয়টি স্পষ্ট করুন শরীয়াহর ভিত্তিতে, যেন আমার জন্য কল্যানকর সিদ্ধান্ত আসে।
১. দুই স্ত্রী এক বাসাতেই থাকতাম। সে সতীন নিয়ে থাকবে না চলে গেছে। আমি আমার স্বামীর সাথে আছি। এখন স্বামীর সাথে থাকতে হলে কি আমাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিজনেস সামলাতে হবে? স্বামীর বিজনেস হলে সমস্যা ছিল না৷, কিন্তু নিজের পরিশ্রমে সতীনের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কি আমি বাধ্য? আমি যদি বসে বসে খেতে চাই আগের মতো তাহলে এটার দ্বারা আমি স্বার্থপর হবো কি?
২. স্বামী জীবিত থাকাবস্থায় বিজনেস ওনার হলে, আল্লাহ না করুন ওনার মৃত্যুর পর তার ওয়াইফ ও সন্তানগণ স্বামীর সম্পদের সমান ভাগ পাবে কিনা?
৩. স্বামীর মৃত্যুর পর পুরো বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীর। মিরাসে না হলেও তিনি যদি হেবা করে দেন, অথচ ওনার দ্বিতীয় স্ত্রীর চেয়ে আমার বেশি পরিশ্রম রয়েছে, তাহলে এখানে তিনি আমার সাথে বেইনসাফি করছেন কিনা?


৪. আমি একা থাকাবস্থায় তিনি ৬০,০০০ টাকা ঋণ ছিলেন। সেগুলো এখনও আছে। উনি আমাকে যথেষ্ট ভালো চালাতে পারতেন ২০,০০০ টাকা ইনকামে, বাসাভাড়া সমেত। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই আমাকে পোশাক বানাতে হচ্ছে। এবং খাওয়াদাওয়া খরচাপাতিতেও আমি যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি, দিচ্ছি।  ওনার আয়ে একজনই যথেষ্ট ছিলো। আমাকে বিয়ের 'নয়মাস' পরই কোনো প্রকার আর্জেন্সী ছাড়া চার বিয়ের মিশন ভিশন পূরণের জন্য ৬০ হাজার ঋণ রেখে বিয়ে করা, আমার সংসার হওয়ার আগেই সতীন এনে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হয়েছে কিনা? তদুপরি তার বিয়ের পর থেকেই বিজনেসে চলে এসেছি যা আমি চাইনি। আমার সাথে কি এটা ঠিক হয়েছে?
৫. পূর্বে মেশিনকে দেনমোহর বলার পর মেশিন তার নিজের দাবী করা যাবে? আমার খোলা তালাক নেওয়ার দ্বারা মেশিন তার মালিকানায় এখন? খোলা তালাকের পূর্বে নিজের বলে দাবী করতো এটা শরীয়তসম্মত ছিল কিনা?


৬. কিছু একটা হলেই খারাপ আচরণ করে প্রচন্ড। আর আমার গায়ে হাত তোলে। আমার কানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলেছে মেরে। কখনও জখম করেছে, কখনও ঠোঁট কেটে রক্তাক্ত করেছে। এইসব কিছুর দায় তিনি আমাকে দেন। অথচ এমন না যে তিনি অনেকক্ষণ সবর করে তারপর মারে। কিছু একটা হলেই তার গায়ে হাত ওঠে আর এভাবে নির্দয়ভাবে প্রহার করে। এগুলো কি শরীয়তসম্মত?
৭. আমার স্বামী কি এযাবৎ সবকিছু ঠিক করে এসেছেন আমার সাথে? আমাকে তিনি ঠকালেন কিনা তার এসবের দ্বারা!


৮. আজ সারাদিন লো প্রেসারে ঠিক অবস্থায় ছিলাম না। এমন শরীর খারাপ থাকাবস্থায় তিনি আমাকে মেরেছেন, মানসিক আঘাত করেছেন। এধরণের অশান্তির জন্য তিনি আমার প্রতি চরম বিরক্ত, এবং বেশ কয়েকদিন আগে থেকে কিছু হলেই থাকতে পারলে থাকো, না পারলে চলে যাও, বিজনেস না করলে বাসা থেকে চলে যাও, তোমার আব্বুে ডেকে বাসা থেকে চলে যাও, কালই চলে যাও ইত্যাদি কথা বলে। কিন্তু স্ত্রীকে রেখে দেওয়ার জন্য তিনি তার মারমুখো আচরণ, ধমকপ্রবণতা, দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতি ঝুঁকে পরাজাতীয় আচরণ শুধরে নিচ্ছেন না। ওনার এসব আচরণসহই থাকতে পারলে থাকবো, না পারলে না। এটা কি ঠিক করছেন তিনি?
আমি নিজেও দেড়বছর সইতে সইতে লড়তে লড়তে ক্লান্ত। আমি কি তার কথামতো চলে যাবো ওস্তাদ? ঝামেলা দুইদিন পর পর হয়। কখনও আমার তরফ থেকে, কখনও তার তরফ থেকে। আমি তার হক ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো ওস্তাদ? রাগারাগি করলেই এমন বের করে দেয়, পরে ঠান্ডা হলে যেতে দেয় না। বাট এমন আচরণ + বেইনসাফি সিদ্ধান্ত চলতেই থাকে।
মানসিক প্রেসারে আমি অনেক অসুস্থ হয়ে গেছি। আমার ব্রেইন ইদানীং স্বাভাবিক কথাও বুঝতে অনুধাবন করতে অনেক পেইন ফিল করছে। রোজ রোজ এসব ঝামেলা, কয়দিন পর পর গায়ে হাত তোলা আমি না মরে বেঁচে থাকা লাশ হয়ে গেছি। মানুষের স্ট্রেস সহ্য করার ক্ষমতা থাকে মিনিমাম ২ থেকে সর্বোচ্চ ২৫, সেখানে আমার ৩১। আমি কি করবো পরামর্শ দিন।
(উল্লেখ্য, অতীতে আমাকে তালাকের বিষয়ে বলা হয়েছিলো এখান থেকে। উনার সাথে আমার সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশায় আমি তালাক নিইনি। এখনও চাচ্ছি না। কিন্তু আমার কি ওনাকে ছেড়ে কিছুদিন বা কয়েকমাস সেপারেশনে থাকা উচিত যেখানে নিজেই চলে যেতে বলে? উপরন্তু তার দেখভাল করার মতো সুস্থ স্ত্রীও রয়েছে।
অনুগ্রহ করে সবগুলো উত্তর দিবেন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো, স্ত্রী গরিব হোক বা ধনী। অসুস্থ হোক সুস্থ। বৃদ্ধা হোক বা যুবতী,সর্বাবস্থায় স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর। এমনকি স্বামীর অনুমতিক্রমে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি থাকলেও ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে।

তবে স্বামীর অবাধ্য হয়ে স্ত্রী পিত্রালয়ে বা অন্য কোথাও চলে গেলে ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

، اتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ، وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ، أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ،

তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো।
‘তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। তোমরা তা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৯০৫)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিজনেস সামলাতে বাধ্য নন। নিজের পরিশ্রমে সতীনের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আপনি বাধ্য নন। আপনি যদি বসে বসে খেতে চান আগের মতো, তাহলে এটার দ্বারা আপনি স্বার্থপর হবেননা।

শরীয়ত আপনার উপর এ ধরনের কোনো কাজ চাপিয়ে দেয়নি।
বিবাহ হওয়া মাত্র আপনার যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আপনার স্বামীর ওপর। 

(০৩)
এক্ষেত্রে তিনি যদি মৃত্যুর আগেই উক্ত বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে যায়, তাহলে তো দ্বিতীয় স্ত্রী সেটির মালিক হবে।

কিন্তু এটি যদি তিনি শুধু ওসিয়ত করে বরং জীবিত অবস্থায় স্ত্রীর নামে পুরোপুরি ভাবে না দিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে উত্তরাধিকারের সম্পত্তি হিসেবে তাহা সমস্ত ওয়ারিশদের মাঝে বন্টিত হবে।

তবে এক্ষেত্রে তৃতীয় স্ত্রী যে টাকা সে ব্যবসায় ইনভেস্ট করেছিল,এবং আপনি যে টাকা দিয়েছিলেন, সে টাকা পুরোপুরি ভাবে মাইয়্যিতের ঋণ পরিশোধ হিসেবে দেওয়া হবে।

(০৩)
এখানে তিনি আপনার সাথে বেইনসাফি করছেন।

(০৪)
প্রশ্নের বিবরণ মতে তার কাজ যুক্তিসঙ্গত হয়নি।

(০৫)
পূর্বে মেশিনকে দেনমোহর বলে পরিশোধ করার পর মেশিন তার নিজের দাবী করা যাবে। আপনার খোলা তালাক কিসের ভিত্তিতে নিয়েছিলেন,সেটি কমেন্ট বক্সে স্পষ্ট  করলে সে মেশিনের মালিকানা বিষয়ে জানানো যাবে।

খোলা তালাকের পূর্বে নিজের বলে দাবী করতো, এটা শরীয়তসম্মত ছিলনা।

(০৬)
এগুলো কোনোক্রমেই শরীয়তসম্মত নয়।
এগুলো স্পষ্ট জুলুম।

(০৭)
আপনার স্বামী আপনার উপর জুলুম করেছেন। আপনাকে মারাত্মকভাবে ঠকিয়েছেন।

(০৮)
বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পরিবারের মুরুব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে স্বামীকে বুঝাতে পারেন। এতে সমাধান না হলে সেক্ষেত্রে তালাক গ্রহণ করতে পারেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আমার অলরেডি দুই তালাক হয়ে গেছে। প্রথম তালাক তিনি দিয়েছেন। এঘটনার তিনমাস পর মারধর, গালিগালাজ করলে আমি তাকে তালাক দিয়ে দিতে বলি। সে দেয় না, কিন্তু খোলা চাওয়ার সাথে সাথে বলে, "আচ্ছা যা।" বিজনেসের শুরুতে মেশিন আমার মোহর বলে সাব্যস্ত করেন। এবং দ্বিতীয় তালাকের  (খোলা) পূর্বে থেকেই মেশিন নিজের বলে দাবী করতেন। 

আমাকে তিনি পর্দা কিনে দিয়েছিলেন, ব্লেন্ডার কিনে দিয়েছিলেন। কেনার পর এগুলো সব আমার বলে সাব্যস্ত করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তিনি এসব জিনিসও নিজের বলে দাবী করেন। শরীয়তের বিষয়ে যতটুকু জানি, কোনো পোশাক বা জিনিস কাউকে কিনে দিলে তা গ্রহীতার সম্পদ বলে সাব্যস্ত হয়ে যায়। 

ওস্তাদ, আমার দুই বছরের সংসার। বাচ্চাকাচ্চা নাই। দুইবার মিসক্যারেজ। কবে হবে তা আল্লাহই ভালো জানেন। এমতাবস্থায় আমার স্বামীর আশ্রয়ই একমাত্র ছিলো। কিন্তু তিনি তার ওফাতের পর (আল্লাহ নেক হায়াত দান করুন) আমার কি হবে ভেবে দেখেনি, মায়া করেনি। 

 প্যারানরমালি সমস্যা আছে। আমি কতবার বলেছি আমাকে একটু সরাসরি রাকী দিয়ে রুকইয়াহ করে দেন না, উনি অতটা গুরুত্ব দেননি। গত দুই তিন সপ্তাহ আমার খুব বেশি খারাপ লাগে। আমি ভয় পাই একা থাকলে, পরশুদিনও বললাম বাসায় আসলে আমাকে একটু রুকইয়াহ করে দেন। তা হয়নি।

এতগুলো অপ্রয়োজনীয় কথা এজন্য লিখলাম য়ে, আমার সমস্যা নিয়ে বসে সমাধান করার মতো কেউ নেই। আপনারা যা বলেন তাও তিনি মানেন না, আর বাবার বাসার সবাইকে বস্তি, ফকিন্নি এসব তো বলেনই। 

উনি ওনার মতো করে আলেমদের ফতোয়া নেন যারা ওনাকে এরুপ ফতোয়া দেয় যে, 
যখন যে স্ত্রীর লগবে তা এনে দিলেই হবে। সমতা করতে হবে না। অথচ আমি এখান থেকে জেনেছি পোশাকেও সমতা করতে হয়, খাবারেও...

এখন আমার হয়ে ওনাকে বুঝানোর মতো কেউ নেই। তিনি যেহেতু আমার মায়া করছেন না। এবং তার লাগাতার অন্যায় সিদ্ধান্ত  ও কর্কশ আচরণ দ্বারা অসুস্থ হয়ে পরতেছি (আমি নিজেকে বহন করার শক্তিটুকুও হারিয়েছি, কথা বলার শক্তি নেই) সেহেতু আমি আব্বুর সাথে বাসায় চলে যাওয়া ঠিক সিদ্ধান্ত হবে? আব্বুর সাথে বাসায় যেতে চাইলে তিনি না করবেন না, যেতে দিবেন। আপাতত তালাক না নিয়ে সেপারেশনে থাকা শরীয়াহসম্মত হবে কিনা
by (770,460 points)
স্বামীর অনুমতিক্রমে সেপারেশনে থাকতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...