আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
১. আমার হাজবেন্ড তার দ্বিতীয় বিয়ের পর পোশাকের বিজনেস শুরু করে। শুরুতে তার ওয়াইফ ৮০ হাজার ইনভেস্ট করে, আর আমার ছিল পরিশ্রম। আমি দীর্ঘ এক বছর আমার স্বামীর বিজনেসে বিনামূল্যে পোশাক বানিয়ে দিয়েছি। শুরুতে সে টাকা দিচ্ছে আমি দিতে পারছি না বলে মন খারাপ করায় বলে এক বউয়ের টাকা, আরেক বউয়ের পরিশ্রম। বিজনেসের ফাউন্ডারও তিনি আমাদের তিনজনকে ধরেন।
২. আমি ইনভেস্ট না করলেও বিজনেসের শুরুতে ২৯ হাজার কর্জ এনে দিই, এবং এই ২৯ এর মধ্যে ১৬ হাজার টাকা আমি পরিশোধ করি।
৩. উক্ত ২৯ হাজার দিয়ে সে মেশিন কিনবে জানায়। মেশিন কেনার পর এই মেশিনকে সে আমার মোহর বলে উল্লেখ করে কয়েকবার। ঝামেলার পর যখন মেশিন নিয়ে বাসায় গিয়ে বিজনেস করতে চাইলাম তখন থেকে সে বলতে লাগলো মেশিন আমার মোহর না। কিন্তু অলরেডি কয়েকবার বলেছে। এর কয়েকমাস পর আমি খোলা নিলে আমাকে পূর্বে থেকে দেওয়া মেশিন বা কোনোপ্রকার দেনমোহর আমি পাই না। পরে ১৫ হাজার ধরে বিয়ে হয়। উল্লেখ্য, সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর দেনমোহর অর্ধেক পরিশোধ করে বিয়ে করেছে। কিন্তু আমার সাথে এরূপ করেছে। প্রথমবার বললো টাকার বদলে ল্যাপটপ, কিন্তু ল্যাপটপ কাজের থাকায় আমি টাকা চাই। পরে বললো মেশিন আমার মোহর। কিন্তু সুযোগ বুঝে সে মেশিন নিজের দাবী করতে থাকে (খোলা তালাকের আগে)
৪. তার বিজনেস অফ হয়ে গেলে আমি অল্প অল্প করে ২১ হাজার ইনভেস্ট এনে ওনাকে দিই বিজনেস শুরুর জন্য। আর আমিও পরিশ্রম করতে থাকি। আমার ঘুম হয় না এই কয়েকমাস একসাথে বিজনেস ও সংসার সামলাতে
৫. আজকে আমার স্বামী জানাচ্ছেন তার এই বিজনেস তিনি বেঁচে থাকাকালে তার, আর মরার পরে পুরো বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীর। একথা শুনে আমি আমার পরিশ্রমের মজুরি দাবী করি। সে বলে আমি তো তার সাথে আছি। ওস্তাদ, স্বামীর সাথে থাকলে কি আয় রোজগারে শামিল হতে হবে এমন শর্ত আছে স্ত্রীদের প্রতি শরীয়াহ অনুযায়ী? একারণে তিনি আমাকে স্বার্থপর সাব্যস্ত করেছেন। অথচ এই বিজনেসের জন্য আমার নিজের পেইজ পরে ছিলো টানা এক বছর। আমার আইওএমের লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়েছে ৫ম সেমিস্টারে এসে। বলছে আমার পেইজটা আমার। কিন্তু সেখানে তো আমি তার বিজনেসের জন্য তেমন সময় দিতে পারি না, তাহলে বিষয়টা কি ইনসাফভিত্তিক হলো?
৬. উনি মাসিক ১৩,০০০ বাসাভাড়া দেন, এইটা ওনার দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু এর জন্য কি অর্থ সংকুলানের জন্য তিনি আমাকে কাজ করতে বলতে পারেন? যেখানে তার সাড়ে ২৩,০০০ টাকা বেতনের জব রয়েছে এবং বিজনেসও রয়েছে?
ওস্তাদ, আমি যদি একা হতাম, অথবা বিজনেসটা দুজন স্ত্রীর হতো তাহলে আমার পরিশ্রম করতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু শুরুতে বললেন হোল্ডার তিনজন, এখন বলছেন বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীর, আর আমি বিজনেস থেকে সরতে চাইলে আমাকে বলছেন স্বার্থপর। এমনকি মেশিনটাও আমার না বলছে। তার যুক্তি আমি তার সাথে আছি, তাই কাজ করতে বললে আমাকে কাজ করতে হবে! উল্লেখ্য, তার দ্বিতীয় বিয়ের আগে আমাকে এভাবে ইনকাম করতে হয়নি। বিয়ের পর পর তারা দুজন প্ল্যান করে বিজনেসের। আমি ওই মানসিক অবস্থায় কাজ করতে পারবো না, প্রফেশনালি কাজ জানি না বলার পরও তারা আমার উপর ভরসা করে কাজ শুরু করে।
আমি আমার জীবনে প্রচন্ড ক্লান্ত ওস্তাদগণ। আপনারা বিষয়টি স্পষ্ট করুন শরীয়াহর ভিত্তিতে, যেন আমার জন্য কল্যানকর সিদ্ধান্ত আসে।
১. দুই স্ত্রী এক বাসাতেই থাকতাম। সে সতীন নিয়ে থাকবে না চলে গেছে। আমি আমার স্বামীর সাথে আছি। এখন স্বামীর সাথে থাকতে হলে কি আমাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিজনেস সামলাতে হবে? স্বামীর বিজনেস হলে সমস্যা ছিল না৷, কিন্তু নিজের পরিশ্রমে সতীনের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কি আমি বাধ্য? আমি যদি বসে বসে খেতে চাই আগের মতো তাহলে এটার দ্বারা আমি স্বার্থপর হবো কি?
২. স্বামী জীবিত থাকাবস্থায় বিজনেস ওনার হলে, আল্লাহ না করুন ওনার মৃত্যুর পর তার ওয়াইফ ও সন্তানগণ স্বামীর সম্পদের সমান ভাগ পাবে কিনা?
৩. স্বামীর মৃত্যুর পর পুরো বিজনেস তার দ্বিতীয় স্ত্রীর। মিরাসে না হলেও তিনি যদি হেবা করে দেন, অথচ ওনার দ্বিতীয় স্ত্রীর চেয়ে আমার বেশি পরিশ্রম রয়েছে, তাহলে এখানে তিনি আমার সাথে বেইনসাফি করছেন কিনা?
৪. আমি একা থাকাবস্থায় তিনি ৬০,০০০ টাকা ঋণ ছিলেন। সেগুলো এখনও আছে। উনি আমাকে যথেষ্ট ভালো চালাতে পারতেন ২০,০০০ টাকা ইনকামে, বাসাভাড়া সমেত। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই আমাকে পোশাক বানাতে হচ্ছে। এবং খাওয়াদাওয়া খরচাপাতিতেও আমি যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি, দিচ্ছি। ওনার আয়ে একজনই যথেষ্ট ছিলো। আমাকে বিয়ের 'নয়মাস' পরই কোনো প্রকার আর্জেন্সী ছাড়া চার বিয়ের মিশন ভিশন পূরণের জন্য ৬০ হাজার ঋণ রেখে বিয়ে করা, আমার সংসার হওয়ার আগেই সতীন এনে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হয়েছে কিনা? তদুপরি তার বিয়ের পর থেকেই বিজনেসে চলে এসেছি যা আমি চাইনি। আমার সাথে কি এটা ঠিক হয়েছে?
৫. পূর্বে মেশিনকে দেনমোহর বলার পর মেশিন তার নিজের দাবী করা যাবে? আমার খোলা তালাক নেওয়ার দ্বারা মেশিন তার মালিকানায় এখন? খোলা তালাকের পূর্বে নিজের বলে দাবী করতো এটা শরীয়তসম্মত ছিল কিনা?
৬. কিছু একটা হলেই খারাপ আচরণ করে প্রচন্ড। আর আমার গায়ে হাত তোলে। আমার কানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলেছে মেরে। কখনও জখম করেছে, কখনও ঠোঁট কেটে রক্তাক্ত করেছে। এইসব কিছুর দায় তিনি আমাকে দেন। অথচ এমন না যে তিনি অনেকক্ষণ সবর করে তারপর মারে। কিছু একটা হলেই তার গায়ে হাত ওঠে আর এভাবে নির্দয়ভাবে প্রহার করে। এগুলো কি শরীয়তসম্মত?
৭. আমার স্বামী কি এযাবৎ সবকিছু ঠিক করে এসেছেন আমার সাথে? আমাকে তিনি ঠকালেন কিনা তার এসবের দ্বারা!
৮. আজ সারাদিন লো প্রেসারে ঠিক অবস্থায় ছিলাম না। এমন শরীর খারাপ থাকাবস্থায় তিনি আমাকে মেরেছেন, মানসিক আঘাত করেছেন। এধরণের অশান্তির জন্য তিনি আমার প্রতি চরম বিরক্ত, এবং বেশ কয়েকদিন আগে থেকে কিছু হলেই থাকতে পারলে থাকো, না পারলে চলে যাও, বিজনেস না করলে বাসা থেকে চলে যাও, তোমার আব্বুে ডেকে বাসা থেকে চলে যাও, কালই চলে যাও ইত্যাদি কথা বলে। কিন্তু স্ত্রীকে রেখে দেওয়ার জন্য তিনি তার মারমুখো আচরণ, ধমকপ্রবণতা, দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতি ঝুঁকে পরাজাতীয় আচরণ শুধরে নিচ্ছেন না। ওনার এসব আচরণসহই থাকতে পারলে থাকবো, না পারলে না। এটা কি ঠিক করছেন তিনি?
আমি নিজেও দেড়বছর সইতে সইতে লড়তে লড়তে ক্লান্ত। আমি কি তার কথামতো চলে যাবো ওস্তাদ? ঝামেলা দুইদিন পর পর হয়। কখনও আমার তরফ থেকে, কখনও তার তরফ থেকে। আমি তার হক ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো ওস্তাদ? রাগারাগি করলেই এমন বের করে দেয়, পরে ঠান্ডা হলে যেতে দেয় না। বাট এমন আচরণ + বেইনসাফি সিদ্ধান্ত চলতেই থাকে।
মানসিক প্রেসারে আমি অনেক অসুস্থ হয়ে গেছি। আমার ব্রেইন ইদানীং স্বাভাবিক কথাও বুঝতে অনুধাবন করতে অনেক পেইন ফিল করছে। রোজ রোজ এসব ঝামেলা, কয়দিন পর পর গায়ে হাত তোলা আমি না মরে বেঁচে থাকা লাশ হয়ে গেছি। মানুষের স্ট্রেস সহ্য করার ক্ষমতা থাকে মিনিমাম ২ থেকে সর্বোচ্চ ২৫, সেখানে আমার ৩১। আমি কি করবো পরামর্শ দিন।
(উল্লেখ্য, অতীতে আমাকে তালাকের বিষয়ে বলা হয়েছিলো এখান থেকে। উনার সাথে আমার সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশায় আমি তালাক নিইনি। এখনও চাচ্ছি না। কিন্তু আমার কি ওনাকে ছেড়ে কিছুদিন বা কয়েকমাস সেপারেশনে থাকা উচিত যেখানে নিজেই চলে যেতে বলে? উপরন্তু তার দেখভাল করার মতো সুস্থ স্ত্রীও রয়েছে।
অনুগ্রহ করে সবগুলো উত্তর দিবেন।