আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (20 points)
আমি অনলাইনে ক্লাস ৫ এর বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করি, আমার প্ল্যাটফর্ম আছে, ফেসবুক প্রোফাইল আছে।


এখন,
ঘটনা ১:


..যখন অন্য কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টার যখন fb তে ad, বিজ্ঞাপন হিসেবে (Post/Video) দেয়, তখন সেই বিজ্ঞাপনের নিচে যারা আগ্রহী তারা কিন্তু কমেন্ট করে, অথবা বোঝা যায় যে এরা বৃত্তি পরীক্ষা দিবে। তবে যারা এড চালাচ্ছে তারা অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ।


আমার প্লাটফর্ম অনেক ছোট & নতুন


প্রশ্ন ১:


আমি যদি তাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই,সেটা কি হারাম বা তাদের হক নস্ট হবে??


ঘটনা ২:
যেহেতু আমিও বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করি,
যারা কমেন্ট করে ওদের ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দেয়ার উদ্দ্যেশ হলো,
আমি যে বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করি, এটা যেন তারাও জানতে পারে।


তারা যেন আমার প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জানতে পারে, তাই আমি শুধু ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিই।


প্রশ্ন ২:
এটি কি অন্যের ব্যবসার হক নষ্ট বা রিজিক নষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে?
এমন টা করা কি আমার ঠিক হবে?
ঘটনা ৩:
আবার কখনো,
উন্মুক্ত পাবলিক ফেসবুক গ্রুপে (বৃত্তি রিলেটেড গ্রুপ) , যেখানে মূলত সবাই বৃত্তি পরীক্ষা রিলেটেড নোট, তথ্য দেয় বা অনেক সময় এমন পোস্ট করে যে,

 "কারা কারা বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে আগ্রহী",
তখন সেই পোস্টেই অনেকে কমেন্ট করে।


এখন, যারা কমেন্ট করতেছে ওদের রিকুয়েষ্ট পাঠালে, যিনি পোস্ট করেছে,
প্রশ্ন ৩:


তার কি হক্ব নস্ট হচ্ছে?

 কারন তার পোস্টেই কিন্তু সবাই কমেন্ট করতেছে।


ঘটনা ৪:


আবার ফেসবুক গ্রুপ গুলোয়
এখানে কয়েক ধরনের মানুষ পোস্ট করে,


এক.
যাদের পেজ আছে, অনলাইনে পড়ায়, বা তারা নোট বিক্রি করবে তাই আগ্রহী যারা আছে তাদের অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য।


দুই.
সাধারন পাবলিক যারা বিভিন্ন তথ্য বা নিয়ম কানুন জানতে চায়।


আমার উদ্যেশ্য আমি আগেই বলেছি,& অন্যের ক্ষতি কামনা বা তাদের চেয়ে যেন আমার কোর্সে বেশি স্টুডেন্ট ভর্তি হয়, এমন কোনো উদ্যেশ্য আমার নেই।


ঘটনা ৫ -


আরেকটা ব্যাপার বলি, ক্লাস ৫ নিয়েই কাজ করে এমন একটা পেজ গ্রুপে পোস্ট দিছে, সাজেশন বিক্রির উদ্দ্যেশ্য নিয়ে, কিন্তু আমি ক্লাস ৫ এর এক্সাম নিব৷


আবার অনেক সময় এমন পেজ পোস্ট করে যারা ক্লাস ৫ এর সব কিছু নিয়েই কাজ করে,ক্লাস, এক্সাম সব।


প্রশ্ন ৪,৫-


এক্ষেত্রে, যেহেতু কার্যক্রম ভিন্ন তাহলে কি ওদের করা পোস্টে যারা কমেন্ট করবে৷ তাদের ফ্রেন্ড পাঠানো ঠিক আছে? আবার যারা সব কিছুই নিয়েই কাজ করে তাদের পোস্টের কমেন্ট থেকে রিকুয়েষ্ট দেয়া টা?


ঘটনা ৬-


আবার অনেকেই মিমস বা ফানি কোনো ঘটনা বা তথ্য শেয়ার করে, বা এমন ধরনের কিছু পোস্ট করে, যেগুলা স্বাভাবিক, তবে সেখান থেকেও বুঝা যায়, কারা ক্লাস ৫ নিয়ে আগ্রহী।
প্রশ্ন ৬ :
এক্ষেত্রে তাদের রিকুয়েষ্ট পাঠানো কি ঠিক হবে?


ঘটনা & প্রশ্ন খুবই রিলেটেড, তাই আমাকে ক্লিয়ার করে উত্তর দিবেন দয়া করে।


এক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য এটা না যে, ওদের থেকে যেন আমার কোর্সে বেশি স্টুডেন্ট ভর্তি হয়,  আমার উদ্দ্যেশ্য যারা ক্লাস ৫ নিয়ে আগ্রহী তারা যেন আমার সম্পর্কে জানে।।


আমি শুধু আমার প্লাটফর্ম সম্পর্কে অন্যদের জানাতে চাই।


এক্ষেত্রে আমি যে ভাবে, অন্যের পোস্টে যারা কমেন্ট করতেছে,তাদের রিকুয়েষ্ট পাঠানো কি ইসলামিক দিক থেকে বা হকের দিক থেকে ঠিক আছে?


যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমার করনীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (764,940 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ  

ওয়াবিসা ইবনে মা'বাদ রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻭﻋﻦ ﻭﺍﺑﺼﺔَ ﺑﻦِ ﻣَﻌْﺒِﺪٍ  ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﻴْﺖُ ﺭﺳﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪ ﷺ ﻓَﻘَﺎﻝَ : « ﺟِﺌْﺖَ ﺗﺴﺄَﻝُ ﻋﻦِ ﺍﻟﺒِﺮِّ؟ » ﻗُﻠْﺖُ : ﻧَﻌَﻢْ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : « ﺍﺳْﺘَﻔْﺖِ ﻗَﻠْﺒَﻚَ، ﺍﻟﺒِﺮُّ : ﻣَﺎ ﺍﻃْﻤَﺄَﻧَّﺖْ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟﻨَّﻔْﺲُ، ﻭﺍﻃْﻤَﺄَﻥَّ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟﻘَﻠْﺐُ، ﻭﺍﻹِﺛﻢُ : ﻣَﺎ ﺣﺎﻙَ ﻓﻲ ﺍﻟﻨَّﻔْﺲِ، ﻭﺗَﺮَﺩَّﺩَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﺪْﺭِ، ﻭﺇِﻥْ ﺃَﻓْﺘَﺎﻙَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻭَﺃَﻓْﺘَﻮﻙَ » ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ، ﺭﻭﺍﻩُ ﺃﺣﻤﺪُ ﻭﺍﻟﺪَّﺍﺭﻣِﻲُّ ﻓﻲ " ﻣُﺴْﻨَﺪَﻳْﻬِﻤﺎ ."

তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট গেলাম।রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে বললেন,তুমি কি নেকীর কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য এসেছ?আমি বললাম জ্বী হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ!

তখন তিনি আমাকে বললেন,তুমি তোমার অন্তরের নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করো।নেকি হল সেটা যার উপর অন্তর প্রশান্তিবোধ করে,এবং যে জিনিষের উপর অন্তর শান্ত থাকে।আর গোনাহ হল সেটা,যা অন্তরে অশান্তি সৃষ্টি করে নাড়িয়ে দেয়,এবং অন্তরকে দ্বিধান্বিত করে ফেলে।যদিও উক্ত কাজ সম্পর্কে মুফতিগণ বৈধতার ফাতাওয়া প্রদাণ করুক না কেন।(মুসনাদে আহমদ-১৭৫৪৫)

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الزُّبَيْرِ أَبِي عَبْدِ السَّلَامِ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مِكْرَزٍ الْفِهْرِيِّ عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ الْأَسَدِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِوَابِصَةَ جِئْتَ تَسْأَلُ عَنْ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَجَمَعَ أَصَابِعَهُ فَضَرَبَ بِهَا صَدْرَهُ وَقَالَ اسْتَفْتِ نَفْسَكَ اسْتَفْتِ قَلْبَكَ يَا وَابِصَةُ ثَلَاثًا الْبِرُّ مَا اطْمَأَنَّتْ إِلَيْهِ النَّفْسُ وَاطْمَأَنَّ إِلَيْهِ الْقَلْبُ وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي النَّفْسِ وَتَرَدَّدَ فِي الصَّدْرِ وَإِنْ أَفْتَاكَ النَّاسُ وَأَفْتَوْكَ 

ওয়াবিসা ইবনু মা’বাদ আল আসাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াবিসাকে বলেন, “তুমি আমাকে পাপ ও পুণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছ?” তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তখন তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলি মুষ্টিবদ্ধ করে তা দ্বারা তার বুকে আঘাত করে বললেন: “হে ওয়াবিসা! তুমি তোমার নাফসকে জিজ্ঞেস কর, তোমার অন্তরকে জিজ্ঞেস কর।”- একথা তিনি তিনবার বললেন। “তোমার নাফস বা মন যে বিষয়ে প্রশান্তি বা নিশ্চিন্ততা লাভ করে, তোমার অন্তর যে বিষয়ের প্রতি প্রশান্ত- নিশ্চিন্ত হয়-তা-ই হলো পূণ্য। আর তোমার মন যে বিষয়ে চিন্তিত হয়, তোমার অন্তরে যা ইতস্ততবোধ বা দ্বিধা সঞ্চার করে-তা-ই হলো পাপ। লোকেরা যদি তোমাকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তুমি তা গ্রহণ করবে।”

(সুনানে আদ দারেমী ২৫৭১)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(১-৬)
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি যে ভাবে, অন্যের পোস্টে যারা কমেন্ট করতেছে,তাদের রিকুয়েষ্ট পাঠাচ্ছেন,এটি জায়েজ আছে।

এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর দরুন অন্যের হক নষ্ট হবেনা।
কেননা এক্ষেত্রে সেই রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করার অধিকার তাদের রয়েছে, এমন নয় যে আপনি বাধ্য করে তাদেরকে একসেপ্ট করিয়ে নিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...