আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ, আমি সৌদিতে একটা মোয়াছাছা(কোম্পানিতে) বেতনে চাকুরি করি, ড্রাইভিং এবং কাজ দুইটাই করি। ৬ বছরের উপরে এখানে কাজ করছি আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সর্বমোট এখন ৭ জন লোক এর মধ্যে ৪ জন আমি এখানে কাজে আসার আগ থেকেই সৌদি যে কফিল আছেন উনার কাছ থেকে দোকান বা মোয়াছাছা চুক্তিতে নিয়ে নিছেন আর বিনিময়ে কফিল মাসে মাসে একটা এমাউন্ট টাকা উনাদের ৪ জনের কাছ থেকে নেন, শায়েখ আজকে আমি গাড়ি চালাচ্চিলাম গাড়িতে মোট ৪ জন ছিলাম এর মধ্যে ২ জন হইল অই ৪ জনের যারা দোকান নিয়েছেন কফিলের কাছ থেক। আজকে গাড়ি চালানো অবস্থায় ট্রাফিক সিগনাল সামনে আসলে গাড়ি স্লো করার প্রয়জন পরলে যেহেতু সিগনালে লাল বাতি জলছিল ব্রেকে পা দেই এবং ব্রেক দরতেছিল না, আমি মুখে তখন বলি আরবিতে আমার সামনে থাকা সুদানি লোককে যে দেখ দেখ ব্রেক দরতেছে না, ব্রেক পারা দেওয়া অবস্থায় হাতে টানার যে ব্রেক আছে অইটাও টানি, এরপরেও না থামলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে ফেলি এবং গাড়ির গিয়ার শিফট করি, সামনে অন্য গাড়ি সিগনালে দারানো ছিল আমি যে গাড়ি চালাচ্চিলাম সোজাই চলছিল, গাড়ি ডানে টার্ন করি এবং রাস্তার ডিভাইডার পার হয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি গিয়ে ধাক্কা লেগে গাড়ি থামে। আল্লাহর রহমতে গাড়ি থামে, গাড়ি অনেক ক্ষতি হয়, আমি ইস্তেগফার পরি, সুদানি আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে ব্রেক দরি নাই নাকি আমি তখন ওকে শুধু বলি মুখ দিয়ে যে দেখ হাতের ব্রেক এখনো টানাই আছে হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাই। আর কোন কথাই আমি কারো সাথে বলিনা, এরপর কোম্পানির আরেক গাড়ি একজন নিয়ে আসে উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন হাতের ব্রেক দরেছিলাম কিনা আমি কোন উত্তর দেইনা উনাকে, কারন মনে আল্লাহর ভয় যে মুখ দিয়ে এমন কোন কথা বের না হয় যেন যা শিরযুক্ত। শায়েখ আমার জানার বিসয় হইল:-
১,গাড়ির যা ক্ষতি হয়েছে এর জন্য সব টাকা আমাকে দিতে হবে কিনা?
২,আমার গাড়ির যখন ব্রেক দরতেছিল না তখন আমার মুখে বলা যে দেখ দেখ ব্রেক দরতেছে না, এইটা আমি বলেছি এই বলাতে আমার ভয় যে শিরক হয়ে গেল কিনা, আমার মাথা কাজ করতেছিল না অই সময়ে, আল্লাহর রহমতে শরিরে কোন ব্যথা পাইনি আল্লাহ অনেক মেহেরবানি করেছেন আমার এবং গাড়িতে থাকা বাকিদের উপর আলহামদুলিল্লাহ।
৩,আমার ক্ষতিপুরনের টাকা দিতে হলে এই মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারব না, তাই বাড়িতে আমাকে সত্যটাই বলতে হবে যে এখানে গাড়ির ক্ষতি হয়েছে আর সেখানে টাকা লেগেছে, এখন আমি কিভাবে বাড়িতে বললে ভাল হয় এই পরামর্শ চাচ্চি শায়েখ।

শায়েখ একটা কথা গাড়ির ব্রেকে সমস্যা আগে থেকে ছিল এইটা যাদের গাড়ি তারা জানত এইটা, আমি তাদের বলেছিলাম যে ব্রেকে সমস্যা আছে।

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

পবিত্র কোরআনে ওয়াদার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ হয়েছে, 
يا ايها الذين امنوا اوفوا بالعقود
'হে ইমানদারগণ! তোমরা অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ করবে।' (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত : ১)
الا الذين عاهدتم من المشركين.....

তবে যেসব মুশরিকের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছ, পরে তারা চুক্তি রক্ষার ব্যাপারে কোনো ত্রুটি করেনি, আর তারা তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সেই চুক্তি তোমরা মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ করবে। অবশ্যই আল্লাহ দায়িত্বনিষ্ঠদের ভালোবাসেন। (সুরা তাওবা, আয়াত ৪)
,
ওয়াদা (চুক্তি) পালনকারীকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। যেমন তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ওয়াদা পূর্ণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে তার জানা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা তাকওয়াবানদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আলে ইমরান : ৭৬)। 
.
ইসলামে অমুসলিমদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করা থেকেও নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, '(অমুহাজির মুসলমানরা) তোমাদের সাহায্য চাইলে তাদের সাহায্য করা তোমাদের অবশ্যকর্তব্য, তবে সে সাহায্য যদি এমন কোনো (অমুসলিম) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়, যাদের সঙ্গে তোমাদের কোনো চুক্তি আছে, তবে নয়।' (সুরা আনফাল, আয়াত : ৭২)
.
চুক্তি মোতাবেক কাজ করা ইমানের একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি কখনো তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তাঁরা ওয়াদা রক্ষা করেন। নবীজি (সা.) ওয়াদা করলে যেকোনো মূল্যে তা পালন করতেন। ইসলামে ওয়াদা পালনের ব্যাপারে শত্রু-মিত্র, মুসলিম-অমুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হুদায়বিয়ার সন্ধি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও কুরাইশদের মধ্যে এ সন্ধিচুক্তি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু কুরাইশরা যখন এ সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে, তখন মহানবী (সা.) অগত্যা এ সন্ধি নাকচ করে দেন। এ ছাড়া কাফিরদের সঙ্গে আরো বহু চুক্তি হয়েছে। যেসব কাফির চুক্তি ভঙ্গ করেনি, এই আয়াতে তাদের সঙ্গে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
.
ওয়াদা,চুক্তি ভঙ্গ কারীকে হাদীস শরীফে মুনাফিক বলা হয়েছেঃ  
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ "

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত বা নিদর্শন তিনটি। সে (১) কথা বললে মিথ্যা বলে; (২) ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৩) তার নিকট আমানাত রাখা হলে সে তার খিয়ানাত করে।
(তিরমিজি ২৬৩১)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের টাকা আপনাকে দিতে হবে না, গাড়ির মালিক ক্ষতিপূরণ দিবে।

তবে যদি গাড়ির মালিকের সাথে আপনার চুক্তি এরকম হয়ে থাকে যে, গাড়ি চালাতে গিয়ে যেকোনো ধরনের এক্সিডেন্ট বা ক্ষতি হলে সে ক্ষতিপূরণ আপনাকেই দিতে হবে, তাহলে প্রশ্নোক্ত ছুরতে আপনাকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

(০২)
শিরক হবেনা।

(০৩)
আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা।

গাড়ি নেওয়ার সময় আপনি যদি তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন যে, যে কোন ক্ষতি হলে আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তাহলে এমতাবস্থায় "গাড়ির ব্রেকে সমস্যা আগে থেকে ছিল" যেটি সম্পর্কে আপনি তাদেরকে আগে হতে অব্যাহত করেছেন তারপরও তারা সেটা সারেনি,সুতরাং এমতাবস্থাতেও আপনার থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া জুলুমের অন্তর্ভুক্ত।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ,আমার উপরের প্রশ্নে আমি আর কয়েকটি বিসয় যোগ করতে চাই আমি প্রায় এই গাড়িটা ৬.৫ বছর যাবত চালাচ্চি। ব্রেক যখন কিছুটা খারাপ হয় আমি যখনি উনাদের বলি যে ঠিক করে দিতে উনারা তেমন কোন গুরুত দেয়না, আমি উনাদের বেতনে চাকুরি করি সেই হিসাবে আমি অত বাড়াবাড়ি করিনা যে কেন ব্রেক ঠিক করে দেন না। কিছুদিন আগে এক চাকার ব্রেক খুলে পরেই গেছিল সেই অবস্থাতেই গাড়ি চালাতে হয়েছে আমাকে আল্লাহর রহমতে কিছু হয়নি। গাড়ির তেল ৫ হাজার কিলোমিটার হলে চেঞ্জ করতে হয় ৮-৯ হাজার হলে এরপরে চেঞ্জ করে দেয় আমি আগেভাগে বলার পররেও। আমার এবং উনাদের কফিল মানে সৌদি যে লোক সে আমাকে মুখে বা উনারা ৪ জন কেউ স্পস্ট ভাবে কখনো বলেননি যে গাড়ি এক্সিডেন্ট হলে বা ট্রাফিক পুলিশ দরে জরিমানা করলে কোন কারনে চাই আমার অবহেলা বা দোস থাকুক বা না থাকুক আমাকে ক্ষতিপুরন দিতেই হবে।  শুধু এই ৪ জন বাদে সৌদি কফিল আমাকে কয়েকবার শুধু আরবিতে একটা কথা বলেছিল" ইন্তা মাসুল ছাইয়ারা" মানে গাড়ি দায়িত বুজিয়েছেন না কি বুজিয়েছেন উনি ভাল বলতে পারবেন।  শায়েখ আমার আল্লাহর ভয় হচ্চে, আমি উনাদের নিজে থেকেই বলি যে যদি তারা ৪ জন এবং কফিলকেও বলি যে চাইলে আমার কাছ থেকে ক্ষতিপুরন নিতে পারে যাই ক্ষতি হয়েছে।  আর সামনে গাড়ি ঠিক হবার পরে আমি তাদের জিজ্ঞাসা করে নিব যে এক্সিডেন্ট বা আমার ভুল বা অবহেলা যেখানে নেই সেখানেও আমাকে ক্ষতি হইলে সেই ক্ষতি দিতে হবে কিনা। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...