আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (62 points)
১।একটি অ্যাপস ব্যাবহার করে আমি আমার বউয়ের এবং তাদের ঘরের মোবাইল ফোন হ্যাক করি একটা বড় কারন সে তার আগের প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে ধরার জন্য তাকে চাপে রাখার জন্য। তাকে ধরছি সে কথা বলার সময় এরপর অনেকদিন কথা বলে না। তাকে কয়েকদিন পর পর কিছু নমুনা দেখাই যে হ্যাক করছি । সেটা দিয়ে অন্য কোনো গায়রে মাহরাম এর কথা শোনা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যাবে। মোট কথা গোনাহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি হ্যাক করার উদ্দেশ্য ছিল বউকে ধরা এবং চাপে রাখা । চেষ্টা করবো গোনাহ না করার জন্য যদি তারপরও  হয়ে যায় তাহলে কি এখন  গোনাহ না করে  হ্যাক করা এবং  ব্যাবহার করার কারনে কি গোনাহ হবে?
২।আমার বউ শশুর বাড়িতে আছে সেখানে আমি মোরগ পোলাও নিয়ে যাই সে পেকেটে বিসমিল্লাহ লেখা আছে। আমি আমার বউকে বলছি যে পুকুরে যেনো ফেলায় সে বলছে ঠিক আছে। কিন্তু সে সেটা ফালায় নাই ফালাইছে আমার শাশুড়ী পরে আমার বউকে দুইদিন দুইবার জিজ্ঞেস করছি সে বলছে জানেনা কই ফেলাইছে জিজ্ঞেস করতে বলছি আবার বৃষ্টি হইছে দুয়ে চলে যেতে পারে ।  একারনে কি আমার গোনাহ হবে কি ইমানে সমস্যা হবে কি?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا تَحَاسَدُوْا، وَلَا تَنَاجَشُوْا، وَلَا تَبَاغَضُوْا، وَلَا تَدَابَرُوْا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا، الْـمُسْلِمُ أَخُـوْ الـْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ، التَّقْوَى هَاهُنَا، وَيُشِيْرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، بِحَسْبِ امْرِئٍ مِّنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْـمُسْلِمَ، كُلُّ الْـمُسْلِمِ عَلَى الْـمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ.

‘‘তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ করো না। ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করো না। একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। কেউ অন্যের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করবে না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা‘আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। সত্যিই এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। তাই কোন মুসলিম ভাইয়ের উপর যুলুম করা যাবে না, তাকে বিপদে ফেলে রাখা যাবে না। তাকে কোন ভাবেই হীন মনে করা যাবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বুকের দিকে তিন বার ইঙ্গিত করে বললেন: আল্লাহ্ ভীরুতার স্থান তো এটিই। কারোর খারাপ হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে অন্য মুসলিম ভাইকে হীন মনে করবে। এক মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত হারাম’’। (মুসলিম ২৫৬৪)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّـنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيْثِ، وَلَا تَحَسَّسُوْا، وَلَا تَجَسَّسُوْا، وَلَا تَنَافَسُوْا، وَلَا تَحَاسَدُوْا، وَلَا تَبَاغَضُـوْا، وَلَا تَقَاطَعُوْا، وَلَا تَدَابَـرُوْا، وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا.

‘‘তোমরা কারোর ব্যাপারে অমূলক ধারণা করো না। কারণ, অমূলক ধারণা মিথ্যা কথারই অন্তর্ভুক্ত। তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না। (দুনিয়ার ব্যাপারে) কারোর সাথে প্রতিযোগিতা করো না। হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা করো না। কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা‘আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও’’। (মুসলিম ২৫৬৩)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে আপনার দ্বারা গুনাহের কাজ হলে সেক্ষেত্রে আপনার গুনাহ হবে।

(০২)
ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা  কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক। এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন।  যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। 

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য ক্লিক করুন

রুকইয়াহ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন এবং ফ্রি সেশনের জন্য নিচের গ্রুপে জয়েন করুন 
⤵ গ্রুপ লিংক:
✅ শুধুমাত্র ভাইয়েরা এই গ্রুপে জয়েন করবেন:
(এই গ্রুপটি শুধুমাত্র ভাইদের জন্য। মেয়ে আইডি দিয়ে কেউ জয়েন করলে তাকে রিমুভ করা হবে।)
✅ শুধুমাত্র বোনেরা এই গ্রুপে জয়েন করবেন:
(এই গ্রুপটি শুধুমাত্র বোনদের জন্য। পুরুষ আইডি দিয়ে কেউ জয়েন করলে তাকে রিমুভ করা হবে।)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...