আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
41 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (46 points)
আসসালামু আলাইকুম

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আমার গত প্রশ্ন-(আমি ক্লাস সেভেনের একটা মেয়ে স্টুডেন্টকে পড়াই। সে নিজে তেমন পর্দা করে না। পোশাকের দিক থেকে ঠিক থাকলেও চুল খুলে রাখে। কিন্তু আমি তার দিকে কোন খারাপ নজরে তাকাই না। তাকে পড়ানো কি আমার জন্য জায়েজ হবে?

উল্লেখ্য তার সাথে তার বড় খালাতো ভাইকেও একসাথে নিয়ে পড়াই।)


প্রশ্ন-১: এই প্রশ্নের উত্তরে আপনারা বলেছিলেন মেয়েটিকে পড়ানো আমার জন্য জায়েজ হবে না কিন্তু মেয়েটির সাথে তার চেয়ে বড় তার খালাতো ভাই পড়ে, এই ছেলেকে কি পড়াতে পারবো ?
প্রশ্ন-২: ওই ছেলেমেয়ে দুইজনকে একসাথে পড়ালে দুইজনকে পড়ানোই কি নাজায়েজ হবে?
নাকি শুধু মেয়েটিকে পড়ানো নাজায়েজ হবে?
প্রশ্ন-৩: আমি তাদেরকে অনেক আগে থেকেই পড়াই। আগে তারা একই সোফায় পাশাপাশি বসতো, এখন তারা বেশ দূরত্বে বসে।

মেয়েটিকে পড়ানো তো নাজায়েজ। কিন্তু অতীতে তারা যখন একই সোফায় পাশাপাশি বসে পড়তো ওই সময় ছেলেটিকে পড়ানো কি জায়েজ হয়েছিলো ?

প্রশ্ন-৪: এতদিন তো এই বিষয় নিয়ে তেমন জ্ঞান ছিল না বা এটা নিয়ে সেভাবে জানার চেষ্টাও করিনি। তাহলে এতদিন মেয়েটিকে পড়িয়ে যে হাদিয়া নিয়েছি তা কি হারাম হয়েছে? আর হারাম হলে উক্ত টাকা দিয়ে যেসব জিনিস কিনেছি তা ব্যবহার করা কি  জায়েজ হবে?
প্রশ্ন-৫: যেহেতু আমি তাদের বাড়িতেই পড়াই এবং মেয়েটি ও মেয়েটির খালাতো ভাই একসাথেই পড়ে আমার কাছে। এই অবস্থায় একজনকে পড়িয়ে আর একজনকে পড়ানো বাদ দেওয়াটা তাদের দুজনের বাবা-মার সামনেই দৃষ্টিকটু ব্যাপার হয়ে দাঁড়াই। এক্ষেত্রে কিভাবে বিষয়টার সমাধানে আসা যায়?
প্রশ্ন-৬: আমার অন্য একটি ছেলে স্টুডেন্ট আছে। গত কয়েক মাস ধরে এই স্টুডেন্টকে পড়ানোর ক্ষেত্রে এমন হচ্ছে যে, স্টুডেন্ট মাঝেমধ্যেই পড়তে চাই না এবং এজন্য আমিও তাকে পড়াতে যাই না। আবার এমনও হয়েছে আমি ইচ্ছা করে পড়াতে যাইনি। আবার এমন হয়েছে আমি অন্য স্টুডেন্টকে পড়াতে যেয়ে এই স্টুডেন্টকে পড়াতে পারিনি। কিন্তু এই সবকিছুই স্টুডেন্ট এর বাবা মা কে না জানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে করেছি। অর্থাৎ স্টুডেন্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একরকম প্রতারণা করা হয়েছে অথচ বেতন ঠিকই নিয়েছি। এখন স্টুডেন্টের বাবা মাকে বিষয়গুলো জানালে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং তারা হয়তো অনেক রাগান্বিত হবে। আবার তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়াটা তাদের এবং আমার উভয় পক্ষের কাছেই লজ্জাজনক।
আমি এই রকমের গুনাহ থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছি। কিন্তু এতদিন যে বেতন নিয়েছি এবং সেই টাকাগুলো দিয়ে অনেক কিছু কেনাও হয়েছে। এসব জিনিস আমি বর্তমানে ব্যবহারও করছি। আবার তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়াটা তাদের এবং আমার উভয় পক্ষের কাছেই লজ্জাজনক। তাহলে এই সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিলে কি এসব জিনিস ব্যবহার করা আমার জন্য জায়েজ হবে? অথবা এ বিষয়ে আমার কি করনীয় দয়া করে জানাবেন। আমি এই গুনাহ থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছি।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
ছাত্রী পড়ানো সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/2542

মেয়েটির সাথে তার চেয়ে বড় তার খালাতো ভাইকে পড়াতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না।

(২) শুধুমাত্র মেয়েকে পড়ানো নাজায়েয। ছেলেকে পড়াতে পারবেন।

(৩) জ্বী, ছেলেকে সর্বদা পড়ানোই জায়েয।

(৪) মেয়ে পড়ানো নাজায়েয হওয়ার কারণ হল, পর্দা লঙ্গন। তবে পড়ানো বাবৎ যেই টাকা উপার্জন হয়েছে, সেটা হারাম হবে না।

(৫) ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে আলোকপাত করে তাদেরকে বুঝাবেন। সম্ভব হলে, ঐ মেয়েটির জন্য একজন নারী শিক্ষিকার ব্যবস্থা প্রথমেই করে দিবেন। অথবা মেয়েকে হেজাব নেকাব পরিধানের কথা বলবেন। এবং পাশাপাশি মাহরাম বা বাড়ির কোনো বৃদ্ধ মানুষকে পাশে বসিয়ে রাখবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (46 points)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 
আসসালামু আলাইকুম
৪ নং প্রশ্নের ক্ষেত্রে মেয়েটিকে পড়ানো নাজায়েজ জেনেও এখন যদি তাকে পড়াই তাহলে পড়ানোর জন্য টাকা নেওয়াটা কি হারাম হবে নাকি শুধু পড়ানোটাই নাজায়েজ হবে? 

৬ নং প্রশ্নের ক্ষেত্রে কিভাবে সমাধানে আসা যায় দয়া করে জানাবেন। 
by (805,980 points)
(৪) পড়ানোটা নাজায়েয। টিউশন ফ্রি যেহেতু শ্রমের বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই নাজায়েয হবে না।
by (805,980 points)
(৬) যত টাকা নিয়েছেন, এই টাকা দিয়ে কিছু কিনে ঐ ছাত্রর বাবা মাকে বা ছাত্রকে কিছু কিনে দিয়ে দিবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...