আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
114 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম মুফতি সাহেব

 আমার স্বামী তার রাগের সময় আমাকে বলেছিলো " তোমার যদি মনে হইয়া থাকে তোমার বান্ধবীরা ঠিক ,আমি তোমাকে ভালোবাসি না, কেয়ার করি না, প্রোটেক্টিভ না তোমার জন্য তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, Soon।"

এর বিপরীতে আমি তাকে উত্তর দিয়েছিলাম:

"এর থেকে আমার মৃত্যু ভালো।"

স্বামী (পুনরায় জোর দিয়ে)বলে:

যেটা বলছি সেটাই করবা, যদি বিন্দু মাত্র মনে হইয়া থাকে।"

 এরপর আমি বলেছিলাম,
"আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি অনেক বেশি সারাজীবন বাসবো এই কালেও ওই কালেও।"
তারপর অন্য বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে আমাদের মধ্যে।
১. স্বামীর এমন কথায় যেখানে তিনি আমাকে বলেছেন "তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা" এই কথায় কি ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক স্ত্রীর কাছে তালাক প্রদানের কোনো অধিকার বা 'তাফউইজে তালাক' (তালাকের ক্ষমতা অর্পণ) হস্তান্তরিত হয়েছে?

২. এই কথা বলার পর যদি দুই মাস অতিবাহিত হয়ে যায় এবং এর মধ্যে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকে, তবে কি দুই মাস পরেও সেই কথার ওপর ভিত্তি করে স্ত্রীর তালাক দেওয়ার কোনো শরয়ি অধিকার অবশিষ্ট থাকে? নাকি এই প্রস্তাব বা অধিকার একটি নির্দিষ্ট মজলিস বা সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(وَأَمَّا) بَيَانُ صِفَةِ الْحُكْمِ الثَّابِتِ بِالتَّفْوِيضِ: فَمِنْ صِفَتِهِ أَنَّهُ غَيْرُ لَازِمٍ فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ حَتَّى تَمْلِكَ رَدَّهُ صَرِيحًا أَوْ دَلَالَةً لِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ جَعْلَ الْأَمْرِ بِيَدِهَا تَخْيِيرٌ لَهَا بَيْنَ أَنْ تَخْتَارَ نَفْسَهَا وَبَيْنَ أَنْ تَخْتَارَ زَوْجَهَا، وَالتَّخْيِيرُ يُنَافِي اللُّزُومَ وَمِنْ صِفَتِهِ أَنَّهُ إذَا خَرَجَ الْأَمْرُ مِنْ يَدِهَا لَا يَعُودُ الْأَمْرُ إلَى يَدِهَا بِذَلِكَ الْجَعْلِ أَبَدًا،
তাফবীযে তালাকের মাধ্যমে অর্জিত তালাকের অধিকার স্ত্রীর জন্য গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয় নয়।এমনকি স্ত্রী প্রকাশ্যে বা ইশারায় সেই অধিকার কে ফিরিয়ে দেয়ারও ক্ষমতা রাখে। কেননা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, স্ত্রীর হাতে অর্পিত অধিকারটি তার ইচ্ছাধীন।স্ত্রী চাইলে সে তার অধিকার কে বাস্তবায়িত করতে পারে, আবার সে স্বামীকে গ্রহণ করেও নিতে পারে।সুতরাং ইচ্ছাগত বিষয় অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ের সম্পূর্ণ বিরোধী।
এ হিসেবে বলা যায় যে,যখন স্ত্রী তার স্বামী কর্তৃত প্রদত্ত তালাকের অধিকারকে ফিরিয়ে দেবে তখন পূর্বে প্রদত্ত অধিকার দ্বারা স্ত্রী আর নিজের উপর তালাক প্রয়োগ করতে পারবে না।(বরং নতুন করে আবার স্বামী অধিকার দিলে স্ত্রী তালাকের মালিক বনবে।)
(বাদায়ে সানায়ে-৩/১১৭)


التَّفْوِيضُ الْمُعَلَّقُ بِشَرْطٍ إمَّا أَنْ يَكُونَ مُطْلَقًا عَنْ الْوَقْتِ وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ مُوَقَّتًا فَإِنْ كَانَ مُطْلَقًا بِأَنْ قَالَ إذَا قَدِمَ فُلَانٌ فَأَمْرُك بِيَدِك فَقَدِمَ فُلَانٌ فَأَمْرُهَا بِيَدِهَا إذَا عَلِمَتْ فِي مَجْلِسِهَا الَّذِي قَدِمَ فِيهِ
তাফবীযে তালাক হয়তো কোনো সময়ের সাথে নির্দিষ্টি থাকবে না, অথবা সময়ের সাথে নির্দিষ্ট থাকবে।যদি কোনো সময়ের সাথে নির্দিষ্ট না থাকে, যেমন কেউ বলল, যখন ঐ ব্যক্তি আসবে, তখন তোমার বিষয়(তাফবীযে তালাক) তোমার হাতে ন্যস্ত থাকবে, যেদিন ঐ ব্যক্তি আসবে, সেদিন স্ত্রী তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত হবে। যে মজলিসের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আসবে, সেই মজলিসে স্ত্রী তালাক-কে গ্রহণ করতে পারবে।মজলিস শেষ হওয়ার পর আর পারবে না।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৯৬)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/9409


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) স্বামীর এমন কথায় যেখানে তিনি আপনাকে বলেছেন "তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা" এই কথায় শরিয়ত মোতাবেক স্ত্রীর কাছে তালাক প্রদানের কোনো অধিকার বা 'তাফউইজে তালাক' (তালাকের ক্ষমতা অর্পণ) হস্তান্তরিত হয়েছে।

(২) এই প্রস্তাব বা অধিকার একটি নির্দিষ্ট মজলিস বা সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...