আমার খালামনি তার ২১ বছরের সংসার রেখে নানুর বাসায় চলে এসেছেন বর্তমানে ৩.৫ বছর হয়ে গিয়েছে। একটা ছেলে আছে ১৬ বছরের। হাজবেন্ডকে নিয়ে সমস্যা। হাজবেন্ডের মাথায় সমস্যা, সাইক্যাট্রিক্ট দেখাতে চান না। শুধু বলে আমার খালামুনির সমস্যা। জেনেটিকালি সমস্যা এটা, ওনার মার আছে। মিডিয়ায় চাকরি করে (সাংবাদিক)। অনেক সন্দেহ কারী, পিরে বিশ্বাসী, তাবিজ করে আমার খালামণিকে, আক্বীদায় অনেক অনেক ভুল, টোটালি শিরক কারী উনি, সেজদা করেন মাজারে, নামাজ পড়েন না। (খুবই কম পড়েন)
আমার মামা, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বীদায় বিশ্বাসী, আমার নানা, পরিবারের বাকি সবাইও। খালামনির হাজবেন্ড আমার নানার বাড়ির কাউকে পছন্দ করেন না। আগে আসতে দিতেননা, মাসখানেক পর পর ফোনের সিম চেঞ্জ করতেন, যাতে কথা বলতে না পারে। বিয়ে শান্তি মতন করেই হয়, কিনতু বিয়ের পর পর থেকেই কোনো দায়িত্ব পালন করতেন না। তার আমার খালামনি সাথে সংসার করতে কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু ওনার কোনো কিছু ধরতে দিতেন না, কিন্তু গুছাতে দিতেন মাসে ১বার, ২ বার। ওনার কথা ওনার জিনিষ ওনার। বাসায় কোনো জিনিষ কিনলে, খাবার দাবার হোক বা আলমারি, খাট, বা খালামনির জন্য জামা কাপড় কিনলেও , খালামনির কোনো কথা শুনতে নারাজ। বিয়ের ৭-৮ মাস পর আমার খালামনি চলে আসতে চায় একেবারে, এসেও পড়েন। কিন্তু আমার নানু আর মামা পাঠিয়ে দেন। এরপর ৩ বার বাচ্চা (মেয়ে) মারা যায় (এর মাঝে দিয়ে ছেলে হয়) ওনাদের।
একটা ছেলে হয়, তখন উনি খুব ভালো থাকে, তারপর আবার নোংরা বেবোহার করতে শুরু করেন (প্রেগনেসিতেই)। সন্দেহ করতে শুরু করেন। ছেলের বয়স যখন ৬-৭ তখন, নামাজের কথা বলে, ছেলের সাথে জায়নামাজে বসে, আমার খালামনির ব্যাপারে নোংরা নোংরা করা বলেন, ছেলেকে নিজের দিকে নেয়ার জন্য। ছেলে যখন বুঝতে শুরু করে বাবার ব্যাপারে, আর খালামনির সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা, তখন তার বাবা উল্টা পাল্টা কথা বলে, আরও খারাপ ব্যবহার করেন, বলে নানুর বাসা থেকে আমার খালাতো ভাইয়ের উপর তাবিজ করা হয়েছে, যাতে বাবার কথা বিশ্বাস না করে, কথা না শুনে।
ছেলের 8 এ উঠল আমার খালামনি একেবারে চলে আসেন, ২০২১ সালে। ওনাকে নেয়ার জন্য ওই পীরের কাছে যান খালু বার বার। আমার নানুর বাড়ির সবার কাছে রিকোয়েস্ট করেন। এর আগেও একবার রিকোয়েস্ট করে নিয়ে যায়(প্রথম বার এসে পড়ার পর, তারপর আর নোংরা ব্যবহার করেন)। আমার খালামনি ডিভোর্স দিতে বললে, বলেন জীবনেও দিবে না। এখন ৩ বছর পর ডিভোর্স লেটার পাঠায়, আমার খালাতো ভাই বুঝতে চাচ্ছে না। অনেক বড় তাও। আমার খালামনি যেতে চাচ্ছেন না, ডিভোর্স চাচ্ছেন। কিন্তু ওনার ১৬ বছরের ছেলে এসে এসে কান্না করে। নানুর বাসায় প্রায়ই আসে , এটাতে সমস না। ওর বাবা বলেন আরেকটা বিয়ে করবেন, এটা আমার খালাতো ভাই চায় না। তাই মাকে নিয়ে যেতে চায়। খালাতো ভাই অনেক অবাধ্য, মা বাবা কারো কথা শুনেন না, সারা দিনরাত নেশার মতো মোবাইল ইউজ করে, অনেক রাগ, রাগে বাসা থেকে বের হয়ে যায়, ফ্রেন্ড এর বাসায় তাহলে কন্টাক্ট করা যায় না। পড়ালিখা বলতে গেলে প্রায় ছেড়ে দিয়েছে, সারাদিন বড় বড় ছেলেদের সাথে আড্ডা মারে, ঘুরা ফিরা করে।
বুঝাই যায়, মা - বাবাকে ইউজ করে। নিজের স্বাধীনতার জন্য। এই অবাধ্যতার জন্য কোনো আমল আছে কি ? যেটা আমার খালামনি করতে পারবেন ?
আর সংসারের কথা হলো, আমার খালামনি একটুও যেতে চান না। খালু নানান ভাবে মানসিক টর্চার করেন, গালিগালাজ করেন। লাস্ট বার টানাটানি করে আমার খালামনির একটা হাতে অনেক ব্যথা পান, এখনো সেই ব্যথা যায় নি, এটার আমল দিলেও মুনাসিব হতো, আলহামদুলিল্লাহ্। কিন্তু ছেলে জন্য খারাপ লাগে আমার খালামনির। এখন ওনার কি করা উচিত ?
উনি কি কোনো আমল করতে পারেন, বা উনি না যেতে চাইলে, ছেলেকে বুঝানোর জন্য আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কোনো আলম আছে কি ??
একবার ডিভোর্স পেপার পাঠানো হয়েছে ওনার পক্ষ থেকে, 1.5 মাস হয়ে গিয়েছে, ডিভোর্স পেপার জোরদার করার জন্য অনেক অনেক মিথ্যা কথা লিখেন, মানে প্রায় নিজের সমস্যা গুলো খালামুনীর ব্যাপারে দিয়ে , লিখে দেন। নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাস পর ডিভোর্স একা একা কার্যকর হয়ে যাবে।
আমার খালামনির বয়স ৫০ হয়ে গিয়েছে উনি এখন আর যেতে চান না। ওনার ছেলেকে ঠিক পথে আনার, বাধ্য হওয়ার, বুঝানোর জন্য ওনার করণীয় কি ?