আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
34 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (6 points)
আমার খালামনি তার ২১ বছরের সংসার রেখে নানুর বাসায় চলে এসেছেন বর্তমানে ৩.৫ বছর হয়ে গিয়েছে। একটা ছেলে আছে ১৬ বছরের। হাজবেন্ডকে নিয়ে সমস্যা। হাজবেন্ডের মাথায় সমস্যা, সাইক্যাট্রিক্ট দেখাতে চান না। শুধু বলে আমার খালামুনির সমস্যা। জেনেটিকালি সমস্যা এটা, ওনার মার আছে। মিডিয়ায় চাকরি করে (সাংবাদিক)। অনেক সন্দেহ কারী, পিরে বিশ্বাসী, তাবিজ করে আমার খালামণিকে, আক্বীদায় অনেক অনেক ভুল, টোটালি শিরক কারী উনি, সেজদা করেন মাজারে, নামাজ পড়েন না। (খুবই কম পড়েন)

আমার মামা, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বীদায় বিশ্বাসী, আমার নানা, পরিবারের বাকি সবাইও। খালামনির হাজবেন্ড আমার নানার বাড়ির কাউকে পছন্দ করেন না। আগে আসতে দিতেননা, মাসখানেক পর পর ফোনের সিম চেঞ্জ করতেন, যাতে কথা বলতে না পারে। বিয়ে শান্তি মতন করেই হয়, কিনতু বিয়ের পর পর থেকেই কোনো দায়িত্ব পালন করতেন না। তার আমার খালামনি সাথে সংসার করতে কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু ওনার কোনো কিছু ধরতে দিতেন না, কিন্তু গুছাতে দিতেন মাসে ১বার, ২ বার। ওনার কথা ওনার জিনিষ ওনার। বাসায় কোনো জিনিষ কিনলে, খাবার দাবার হোক বা আলমারি, খাট, বা খালামনির জন্য জামা কাপড় কিনলেও , খালামনির কোনো কথা শুনতে নারাজ। বিয়ের ৭-৮ মাস পর আমার খালামনি চলে আসতে চায় একেবারে, এসেও পড়েন। কিন্তু আমার নানু আর মামা পাঠিয়ে দেন। এরপর ৩ বার বাচ্চা (মেয়ে) মারা যায় (এর মাঝে দিয়ে ছেলে হয়) ওনাদের।


একটা ছেলে হয়, তখন উনি খুব ভালো থাকে, তারপর আবার নোংরা বেবোহার করতে শুরু করেন (প্রেগনেসিতেই)। সন্দেহ করতে শুরু করেন। ছেলের বয়স যখন ৬-৭ তখন, নামাজের কথা বলে, ছেলের সাথে জায়নামাজে বসে, আমার খালামনির ব্যাপারে নোংরা নোংরা করা বলেন, ছেলেকে নিজের দিকে নেয়ার জন্য। ছেলে যখন বুঝতে শুরু করে বাবার ব্যাপারে, আর খালামনির সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা, তখন তার বাবা উল্টা পাল্টা কথা বলে, আরও খারাপ ব্যবহার করেন, বলে নানুর বাসা থেকে আমার খালাতো ভাইয়ের উপর তাবিজ করা হয়েছে, যাতে বাবার কথা বিশ্বাস না করে, কথা না শুনে।
ছেলের 8 এ উঠল আমার খালামনি একেবারে চলে আসেন, ২০২১ সালে। ওনাকে নেয়ার জন্য ওই পীরের কাছে যান খালু বার বার। আমার নানুর বাড়ির সবার কাছে রিকোয়েস্ট করেন। এর আগেও একবার রিকোয়েস্ট করে নিয়ে যায়(প্রথম বার এসে পড়ার পর, তারপর আর নোংরা ব্যবহার করেন)। আমার খালামনি ডিভোর্স দিতে বললে, বলেন জীবনেও দিবে না। এখন ৩ বছর পর ডিভোর্স লেটার পাঠায়, আমার খালাতো ভাই বুঝতে চাচ্ছে না। অনেক বড় তাও। আমার খালামনি যেতে চাচ্ছেন না, ডিভোর্স চাচ্ছেন। কিন্তু ওনার ১৬ বছরের ছেলে এসে এসে কান্না করে। নানুর বাসায় প্রায়ই আসে , এটাতে সমস না। ওর বাবা বলেন আরেকটা বিয়ে করবেন, এটা আমার খালাতো ভাই চায় না। তাই মাকে নিয়ে যেতে চায়। খালাতো ভাই অনেক অবাধ্য, মা বাবা কারো কথা শুনেন না, সারা দিনরাত নেশার মতো মোবাইল ইউজ করে, অনেক রাগ, রাগে বাসা থেকে বের হয়ে যায়, ফ্রেন্ড এর বাসায় তাহলে কন্টাক্ট করা যায় না। পড়ালিখা বলতে গেলে প্রায় ছেড়ে দিয়েছে, সারাদিন বড় বড় ছেলেদের সাথে আড্ডা মারে, ঘুরা ফিরা করে।
বুঝাই যায়, মা - বাবাকে ইউজ করে। নিজের স্বাধীনতার জন্য। এই অবাধ্যতার জন্য কোনো আমল আছে কি ? যেটা আমার খালামনি করতে পারবেন ?
আর সংসারের কথা হলো, আমার খালামনি একটুও যেতে চান না। খালু নানান ভাবে মানসিক টর্চার করেন, গালিগালাজ করেন। লাস্ট বার টানাটানি করে আমার খালামনির একটা হাতে অনেক ব্যথা পান, এখনো সেই ব্যথা যায় নি, এটার আমল দিলেও মুনাসিব হতো, আলহামদুলিল্লাহ্। কিন্তু ছেলে জন্য খারাপ লাগে আমার খালামনির। এখন ওনার কি করা উচিত ?
উনি কি কোনো আমল করতে পারেন, বা উনি না যেতে চাইলে, ছেলেকে বুঝানোর জন্য আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কোনো আলম আছে কি ??

একবার ডিভোর্স পেপার পাঠানো হয়েছে ওনার পক্ষ থেকে, 1.5 মাস হয়ে গিয়েছে, ডিভোর্স পেপার জোরদার করার জন্য অনেক অনেক মিথ্যা কথা লিখেন, মানে প্রায় নিজের সমস্যা গুলো খালামুনীর ব্যাপারে দিয়ে , লিখে দেন। নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাস পর ডিভোর্স একা একা কার্যকর হয়ে যাবে।


আমার খালামনির বয়স ৫০ হয়ে গিয়েছে উনি এখন আর যেতে চান না। ওনার ছেলেকে ঠিক পথে আনার, বাধ্য হওয়ার, বুঝানোর জন্য ওনার করণীয় কি ?

1 Answer

0 votes
by (90,870 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

স্বামীর জন্য জরুরি হলো স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা, তার সাথে সদব্যবহার করা।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

ألا واستوصوا بالنساء خيرا، فإنما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شيئا غير ذلك

শোন হে! তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর। তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে। তোমরা তাদের কাছ থেকে এছাড়া আর কিছুর অধিকার রাখো না। (জামে তিরমিযী, হাদীস: ১০৮৩

,

https://ifatwa.info/91615/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-

ﻭَﻋَﺎﺷِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑ

নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। (সূরা নিসা-১৯)

,

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

,

স্বামীর উপর আবশ্যক হলোঃ- স্ত্রীর সাথে উত্তম ব্যবহার করা। স্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনে একান্তে বসা ও খোশগল্প করা।

অবসরে স্ত্রীর সঙ্গে একান্তে বসে কিছু গল্পগুজব করা, তার মনের কথা জানা-বোঝা, তার কোনো চাহিদা থাকলে তা জেনে নিয়ে পূরণ করা স্বামীর জন্য জরুরি।  প্রয়োজন মাফিক স্ত্রীকে সময় দেয়া।

বিস্তারিত জানুনঃ-

https://ifatwa.info/26084/

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

,

১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার খালার সাথে খারাপ ব্যবহারের কারণে অবশ্যই আপনার খালু গোনাহগার হবে।

২. আর যেহেতু তার পক্ষ থেকে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছে ডিভোর্সড পেপারে কী কী লেখা ছিলো? ইত্যাদি বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় বিস্তারিত উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ডিভোর্স পেপার নিয়ে নিকটস্ত কোনো নির্ভরযোগ্য ইফতা বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

.

৩. আমাদের পরামর্শ থাকবে যে, উভয় পরিবারের মুরুব্বী ও তাদের পরিবারের মুরুব্বীদের মাঝে বিষয়টি জানিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করতে পারেন। আবার আপনার খালার পরিবারের লোকদের সাথে পরামর্শ ক্রমে ও ইস্তেখারা করে ডিভোর্স বা অন্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...