আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
10 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম।

আমার ছোট ভাইয়ের বয়স ১১ পার হয়েছে।যখন ওর বয়স ১০ পার হয় তখন আমি ওকে নামাজ পড়ার কথা বলি এবং সে আমার কথা শুনে নামাজ পড়া শুরু করে। কিন্তু আমাদের মা নামাজ পড়েন না।বাবা নেই। তিনিও নামাজ পড়তেন না। আমার আরেকটি ভাই আছে সেও নামাজ পড়ে না।আমি আর আমার ছোট ভাইটা নামাজ পড়ি।আমি ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ। ছোট ভাইটাকে কোরআন পড়া শিখানো হয়েছে।যখন থেকে কোরআন পড়া শিখতে পেরেছে তারপর থেকে আর কোরআন পড়তে চায় না। স্কুলের পড়া,খেলাধুলা আছে,সময় নাই এইসব অজুহাত দিয়ে পড়তে চায় না। কিন্তু আগে যখন পড়তে বলতাম তখন পড়তো। খেলাধুলার প্রতি খুব আকর্ষন বেড়ে গেছে। সারাদিন ই খেলতে চায়।আগে এরকম ছিল না।আগে আমার কথা খুব শুনতো। কিন্তু এখন শুনতে চায় না। নামাজ এখনো পড়ে জামাতে। নামাজ শুরু হওয়ার ১০-১৫মিনিট আগে থেকেই ওকে জানিয়ে দেই, নামাজে যেতে বলি।তখন সে যাই যাচ্ছি বলতে থাকে।আমি ওকে বারবার বলি যাও তাড়াতাড়ি। কিন্তু ও যাচ্ছি যাচ্ছি বলতে বলতে জামাতে দেরি করে ফেলে।আগে এই সমস্যাটা কম ছিল। কিন্তু ও এখন প্রায় ই এমন করে।তর্ক ও করে এখন। আমলের অবস্থা আগের থেকে খারাপ হয়ে গেছে।

১) ছোট ভাইকে কিভাবে দ্বীন মানাবো? কিভাবে দ্বীনি শিক্ষা দিবো?

২) যেহেতু আমার মা দ্বীন মেনে চলেন না, নামাজ টুকুও পড়েন না সেক্ষেত্রে বড় বোন হিসেবে ছোট ভাইকে দ্বীন মানানোর জন্য আমার কি করণীয়??

৩) ছোট ভাইটার দ্বীনি কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল ও নেই।ও একাই দ্বীন মানে এরকম।আমরা যে গ্ৰামে থাকি সেখানে দ্বীনি বন্ধু তো দূরে থাক ভালো কোনো ছেলেপেলেই নেই। আশেপাশের কেউই দ্বীন মানে না।এমন অবস্থায় কি করণীয়?ওকে ঘরে রাখবো সবসময়?বাহির খেলতে দেবো না?এমনটা ওই মানবেও না।নাকি বাহিরে কম খেলতে বলবো নাকি স্বাভাবিক ভাবেই খেলবে?

৪) কোনো আদেশ দিলে সহজে শুনতে চায় না।আম্মুর কথাও শুনতে চায় না। ইদানিং এই সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। অনেক অবাধ্য হয়ে গেছে।এরকমটা হওয়ার কারণ কি? এবং কি করলে ও আমাদের কথা শুনবে?

৫) খেলাধুলা প্রতি অনেক আগ্রহ বেড়ে গেছে। অনেক খেলতে চায়।এটা কিভাবে দূর করবো?

৬) আমি যদি ওকে আলেম বা হাফেজ বানাতে চাই তাহলে বোন হিসেবে এটা চাওয়া কি ঠিক হবে?কারণ যেহেতু আম্মুর দ্বীনের বুঝ নাই।

৭)যদি আম্মুকে বুঝিয়ে ওকে মাদ্রাসায় পড়াতে চাই তাহলে কি এটা ঠিক হবে? পরবর্তীতে যদি ও খারাপ হয়ে যায় তখন আমাকে দোষ দিতে পারে যে,আমি মাদ্রাসায় পড়ার কথা বলেছিলাম।তাহলে ওকে স্কুলে পড়াটা ঠিক হবে নাকি মাদ্রাসায়? আমার মনে হয় স্কুলে দ্বীন মেনে চলাটা একটু কঠিন।

৮)ওকে দ্বীনি শিক্ষা দিতে চাইলে কিভাবে দিবো?মানে কোনটা আগে শেখাবো কোনটা পড়ে দেখাবো?কোন বই থেকে দেখাবো?

৯) ছোটদের দ্বীন শেখার জন্য কোন বইগুলো পড়বো এবংওকে পড়তে দিবো সাজেস্ট করবেন।

১০) কিভাবে ওকে শাসন করবো? কোন জায়গায় কি পরিমান কঠোর হবো?কোন জায়গায় কোমল হবো বুঝতে পারি না অনেক সময়।যেমন:ওকে খেলাধুলা কম করতে বললাম।ও কথা শুনলো না।আমি বারবার বললাম,বুঝালাম তাও শুনলো না।তখন কি করবো ? কঠোর হবো?একটু মারবো?নাকি ব্যাপার টা ছেড়ে দিবো?

১১) অনেক সময় ওকে কোনো একটা কথা বারবার বলার পড়েও যখন ওই শুনে না তখন আমি ওর সাথে কিছু সময় কথা বলা বন্ধ করে দেই। নামাজ পড়ার সময় হলেও ওকে বলি না, নামাজের সময় জানিয়ে দেই না।পরে অবশ্য নিজে নিজেই নামাজ পড়তে যায় কিন্তু দেরি করে ফেলে। আবার এভাবে কথা বলা বন্ধ রাখলে কিছু সময় পড়ে অবশ্য আমার কথা মানে। আমার এভাবে কথা বলা বন্ধ রাখা কি ঠিক?

১২) অনেক সময় ওই কথা না শোনার কারণে ওকে মেরেছি। একটু খারাপ আচরণ ও করেছি। তখন জানা ছিল না যে, ছোটদের প্রহার করা যায় না।যখন জানতে পেরেছি তখনো কয়েকবার ওই কথা না শোনার কারণে রাগ করে ওকে মেরেছি। আবার সংশোধনের জন্যে ও মেরেছিলাম।এর জন্য কি আমাকে ওর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে? নাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই হবে?

এত বড় প্রশ্নের জন্য মাফ করবেন হুজুর। বিস্তারিত উওরগুলো দিবেন হুজুর।জাযাকাল্লহু খইরন।আমাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করবেন।

Please log in or register to answer this question.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...