আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
15 views
ago in সুন্নাহ-বিদ'আহ (Sunnah and Bid'ah) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম,
আমি ওযুর সময় কিছু দু'আ করি নিজের জন্য। যেমন, হাত ধৌত করার সময় বলি 'আল্লাহ আমার এই দু'হাতকে আপনি সমস্ত প্রকার গোনাহ থেকে হেফাজত করুন, ডান হাতে আমল নামা দিয়েন বাম হাতে দিয়েন না, এই দু'হাত দিয়ে মুত্তাকিনের ইমাম গড়ার তৌফিক দান করুন। কুলি করার সময় বলি, গিবত এবং হারাম ভক্ষণ থেকে হেফাজত করুন। মাথা মাসেহ এর সময় বলি উপকারী জ্ঞান অর্জন করার তৌফিক দান করুন। এভাবে প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার সময় দু'আ করে নেই। তবে আমি জানি এগুলো মাসনুন দু'আ না। প্রতিবার ওযুর সময় আমি এভাবে নিজের জন্য দু'আ করি। মাঝে মাঝে এগুলো পরিবর্তন করি। যেমন কখনো বলি আল্লাহ এই দু'হাত দিয়ে আপনার সন্তুষ্টির জন্য বেশি বেশি দান সদাকাহ করার তৌফিক দান করুন অথবা রান্নার হাত ভালো করে দিন। এই যে আমি এভাবে দু'আ করি এগুলো কি বিদ'আত? বা অনুত্তম? ওযুর মাঝের যে একটা দু'আ আছে তা আমার মুখস্থ নেই অনেক বার চেষ্টা করেও মুখস্থ করতে পারিনি তবে ওযুর শেষে কালিমা শাহাদাত পাঠ করি। এখন এই যে ওযূর মধ্যে দু'আ গুলো করি এগুলো কি বিদ'আত?
২) রাতে যখন আমি আঁকাশ দেখি তখন নিজের জন্য দু'আ করে নেই। যেমন, আল্লাহ আমার গোনাহ গুলো কে ক্ষমা করুন, ফজরে ওঠার তৌফিক দিয়েন। চাঁদ দেখে মনে মনে বলি, চাঁদের থেকে সুন্দর ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর দরুদ পড়ে নেই। এটাও কি বিদ'আত? আমার কি এগুলো পরিহার করা উচিত?
৩) অনেক সময় অনেকে অনেক রকম আচরণ করে যেগুলোতে আমার খারাপ লাগে। পরক্ষনে তারা আবার জিজ্ঞেস করে মন খারাপ করেছি কিনা! আমি বলি, 'না, করিনি।' এটা কি মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত?


৪) রান্না করার সময় ভাজি জাতিও কিছু হলে, লবন চেক করতে গিয়ে একটু বেশি খেয়ে ফেলি এর জন্য কি চুরি করার গোনাহ হবে? শাশুড়ি বলে রেখেছেন আমার যখন যা মনে চাবে আমি যেন নির্দ্বিধায় খাই। যেহেতু আমি তাদের সামনে খাইনা সেহেতু এভাবে খাওয়া কি চুরি? আমার কি শাশুড়ির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে?

1 Answer

0 votes
ago by (807,900 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি থেকে বর্ণিত,
(وعن أبي سعيد الخدري - رضي الله عنه - أن النبي - صلى الله عليه وسلم - قال: " «ما من مسلم يدعو بدعوة ليس فيها إثم ولا قطيعة رحم إلا أعطاه الله بها إحدى ثلاث: إما أن يعجل له دعوته، وإما أن يدخرها له في الآخرة، وإما أن يصرف عنه من السوء مثلها " قالوا: إذا نكثر، قال: " الله أكثر» " (رواه أحمد) .
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,কোনো মুসলমান যদি এমন প্রকারের দু'আ করে, যাতে গোনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতার প্রসঙ্গ উল্লেখ না থাকে, তাহলে তিনটি প্রকারের যেকোনো এক প্রকার প্রতিদান আল্লাহ তাকে দান করবেন।(১)হয়তো আল্লাহ তা'আলা অতিসত্বর তার দু'আ-কে কবুল করে ফেলবেন।(২)
নতুবা আখেরাতের জন্য সেই দু'আকে সংরক্ষিত করে রাখবেন।(দুনিয়াতে সেই দু'আ কবুল করা তার জন্য মঙ্গলজনক নয়,সেইজন্য আখেরাতে দিবেন)(৩)
কিংবা সেই পরিমাণ কোনো মন্দ জিনিষ তার থেকে ফিরিয়ে রাখবেন।সাহাবায়ে কেরাম বললেন,তাহলে আমরা অবশ্যই বেশী বেশী করে দু'আ করবো। রাসূলুল্লাহ সাঃ  বললেন, আল্লাহও অধিক অধিক দু'আ কবুল কারী এবং দানকারী।(সুতরাং তোমরা বেশী বেশী দু'আ করলে আল্লাহও বেশী বেশী দিবেন)(মিশকাতুল মাসাবিহ-২২৫৯) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/987

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নে যতগুলো বিষয় উল্লেখ করেছেন, এভাবে দু'আ করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না। যেই যেই মুহুর্তে হাদীসে দু'আ বর্ণিত রয়েছে, সেই সেই সময় ও মুহূর্তে হাদীসে বর্ণিত সেই দু'আ সমূহ পাঠ করা সুন্নত।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...