আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
22 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
edited ago by
কারোর দ্বারা প্রচন্ড মানসিক কষ্ট পেলে তার জন্য আল্লাহর কাছে শাস্তির জন্য দোয়া  করা যাবে? সে আমার বিপদকে কাজে লাগিয়ে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলো, আমার চরিত্র নিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছে জঘন্য কুৎসা  রটালো।  উল্লেখ্য তার দ্বারা এতোটা মানসিক যন্ত্রণার শিকার হইছি যে, আমি মানসিক ভাবে এখন অসুস্থ প্রায়। প্রতিটা মূহুর্তে ঐ জঘন্য কুৎসার কথা মনে পরে আর মাথায় যন্ত্রণা কাজ করে। হলে একই রুমে থাকতে হয় বিধায় এড়িয়ে চলা সম্ভব হয় নাহ। আর সে আমার এতো ক্ষতি করার পরেও, চরিত্র নিয়ে এতো জঘন্য কুৎসা রটানোর পরেও আমি কখনো তার ক্ষতি করিনি, চেষ্টাও করিনি, কখনো অভিশাপ দেইনি, খারাপ আচরণ করিনি গুনাহের ভয়ে । শুধু চুপ করে সহ্য করেছি। কোনো প্রতিক্রিয়া করিনি। আর তাছাড়া আমি এসব করতে পারি নাহ। কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে ওর শাস্তির জন্য দোয়া করতে চাই অন্তত। তার দ্বারা এতোটা মানসিক আযাবের শিকার হইছি, যে এখন আমি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরতেছি। ওর চেহারা দেখলেই ওর আচরণের কথা মনে পরে আর ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা কাজ করে। আমার হাত পা কাপতে থাকে এমন। আমি তোহ দুনিয়ায় ওর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করিনি অন্তত আল্লাহর কাছে ওর বিচারের দোয়া করতে পারি? কিন্তু আমি ভয় পাইতেছি । এটাও কি গুনাহ হবে( উল্লেখ্য সে একজন মেয়ে, তার সাথে হলে আমাকে রুম শেয়ার করে থাকতে হয়, আর তার হেদায়েত এর দোয়া করা আমার পক্ষে অসম্ভব প্রায়। আমি সেইরকম মানসিক অবস্থায় নেই। একজন মুসলিম নারীর কাছে তার চরিত্র, ইজ্জত আর সম্মানের মূল্য  তার জীবনের চেয়েও বেশি,  কেউ যদি সেইদিকে আঙুুল তোলে এতোটা বিভৎস ভাবে যে অপর প্রান্তের মানুষটা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরে, তখন তার পক্ষে আর হেদায়েত এর দোয়া করা সম্ভব হয় নাহ)

1 Answer

0 votes
ago by (91,470 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/73943/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
নির্দিষ্ট ভাবে কোনো মুসলিম ব্যক্তির উপর অভিশাপ দেওয়া জায়েজ নেই।
 কেননা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
سَالِمٌ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوْعِ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِنَ الْفَجْرِ يَقُوْلُ : اللهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا وَفُلَانًا بَعْدَ مَا يَقُوْلُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَأَنْزَلَ اللهُ {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} إِلَى قَوْلِهِ {فَإِنَّهُمْ ظَالِمُوْنَ} رَوَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ.
সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফজরের সলাতের শেষ রাকআতে রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ (আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন। হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা)’, ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলার পর এটা বলতেনঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক এবং অমুককে লানত করুন। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ ….. فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা জালিম।”(সূরা আলু ‘ইমরান ৩/১২৮)
.
[সহিহ বুখারী, অধ্যায়: তাফসীর, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর বাণীঃ এই বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই।]
এ হাদিস থেকে জানা গেল, আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্টভাবে কোন কাফিরকেও অভিশাপ দেয়ার অনুমতি দেন নি।
এ মর্মে আরেকটা হাদিস:
উমর ইবনুল খত্ত্বাব রাঃ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তির নাম ছিল ‘আবদুল্লাহ, কিন্তু তাকে ‘হিমার’ (গাধা) উপাধিতে ডাকা হতো। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসাতো। একদিন মদপানের অপরাধের জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর দণ্ড প্রয়োগ করেছিলেন। এরপর আবার একদিন তাকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলে তিনি তাকে চাবুক মারার নির্দেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহ, এই লোকের উপর তোমার অভিসম্পাত হোক। কতবারই না তাকে এ অপরাধে আনা হল!
তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
«لَا تَلْعَنُوْهُ فَوَ اللهِ مَا عَلِمْتُ أَنَّه يُحِبُّ اللّٰهَ وَرَسُوْلَه»
“তাকে অভিশাপ দিও না। আল্লাহর শপথ! আমি তার সম্পর্কে জানি যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালোবাসে।” (বুখারী)
এ হাদিসে দেখা গেলো, প্রিয় নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দিষ্টভাবে একজন পাপী ব্যক্তিকে অভিশাপ দেয়ার অনুমতি দেন নি।
,
তবে মাজলুম জালেমের প্রতি বদ দুয়া করতে পারবে।
বিস্তারিত জানুনঃ  
.
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন!
.
মাজলুম ব্যক্তি জালেমের প্রতি বদ দুয়া করতে পারবে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি মাজলুম হয়, সেক্ষেত্রে জালেমের বিরুদ্ধে অভিশাপ করলে অনেক ক্ষেত্রে কবুল হয়।
তবে মাফ করে দেওয়া একজন মুমিনের বড় একটা গুণ। 

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...