আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
13 views
ago in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (12 points)
edited ago by
আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব।
আমার বাবা জজকোর্টে চাকরি করতেন। সেখানেই আমার মামার জন্য একটা চাকরির ব্যাবস্থা করার জন্য তিনি অফিসেরই আরেক ব্যাক্তিকে চাকরি হওয়ার জন্য ঘুস বাবাদ ২ লাখ টাকা দেন।

পরে সেই ব্যাক্তি চাকরি দিতে অক্ষম হন। এবং কিছু টাকা ফিরিয়ে দেন। এখন তার কাছে থেকে মোট পাওনা ১ লাখ ৩১ হাজার।

ঐ ব্যাক্তি টাকা দিচ্ছে না অনেক বছর থেকেই। এদিকে মামা আমার বাবাকে চাপ দিচ্ছেন টাকা তুলে দেয়ার জন্য। এদিকে আব্বারও চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন। কিন্তু টাকা তোলা এখন সম্ভব হচ্ছে না ঐ প্রতারক ব্যাক্তির কারণে।

মামার দাবি ছিলো ঐ ব্যাক্তির উপর মামলা করে দেয়ার যাতে চাপে পরে সে টাকা দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু আব্বা যেহেতু সরকারি চাকরিতে ছিলেন তাই তার চাকরির যেনো কোনো সমস্যা না হয় তাই আব্বা মামলা দেয়ার পক্ষে ছিলেন না (কারণ সরকারি চাকুরেদের কোনো মামলায় সম্পৃক্ততা থাকলে চাকরির সসস্যার সম্ভাবনা থাকে)। এদিকে মামা পিরাপিরি করলে আম্মা মামাকে বলেন তুই আপাতত চুপ থাক। প্রয়োজনে তোর দুলাভায়ের রিটায়ার্ডের পরে আমাদের পকেট থেকে তোকে তোর পাওনা দিয়ে দিবো।

এখন গতো দেড় বছর আগে আমার আব্বা চাকরি থেকে রিটায়ার করেন এবং আমার আম্মাও দেড় বছর আগে ইন্তেকাল করেন।

এমতাবস্থায় মামা সেই পুর্বের কথা আমাকে মানে তার বড়ো ভাগিনা তথা আমাকে জানায় এই লেনদেনের বিষয়ে।

এটা নতুন করে আমি আব্বাকে জানালে তিনি বলেন যখন আমরা প্রথম টাকা দেই তখন তাদেরকে রিস্ক মাথায় রেখে টাকা দিতে বলেছিলাম। মানে কোন ধরনের সমস্যা হলে সেখানে আমার আব্বার দায় থাকবে না।

কিন্তু একথা মামাকে এসে বললে তিনি বলেন এতোদিন আগের কথা উনার মনে পড়তেছে না। মামা অবশ্য বাস্তবিক ভাবেই পুর্বের/অতীতের কথা তেমন মনে রাখতে পারেন না (এমন গুণের অধিকারী আমার আম্মাও ছিলেন)।  আর লেনদেরটি হওয়েছিলো ২০১১ সালে।

মামা অবশ্য ক্ষতিপূরণ দিলে সেটা তিনি নিবেন এমনই ভাব প্রকাশ করতেছেন। কিন্তু কোন ঝগড়াঝাঁটি তিনি করবেন না হয়তো। এখন আমার বাবার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যকতা কতটুকু ইসলামী শরীয়ার আলোকে যদি সেটা বিস্তারিত জানাতেন খুবই ভালো হতো।

আমরা আসলে ইসলামী শরিয়ার আলোকে এই লেনদেনটাকে কিভাবে সমাধান করতে পারি?

জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসিরান।

1 Answer

0 votes
ago by (809,370 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহাম।
জবাবঃ-
অন্যর মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত কারো জন্য হালাল হয় না।বিদায় এসব পরিত্যাজ্য।
কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓً ﻋَﻦ ﺗَﺮَﺍﺽٍ ﻣِّﻨﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻜُﻢْ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ
তরজমাঃ-হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সূরা নিসা(২৯)

এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
عن ابن عباس قال;قال رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم ﻻ ﻳﺤﻞ ﻣﺎﻝ ﺍﻣﺮﺉ ﻣﺴﻠﻢ ﺇﻻ ﺑﻄﻴﺐ ﻧﻔﺲ ﻣﻨﻪ " 
নবী কারীম সাঃ বলেনঃ"কোন মুসলমানের জন্য  অন্য কোনো মুসলমানের মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল হবে না। (তালখিসুল হাবীর-১২৪৯)আরো জানুন- https://www.ifatwa.info/3747

সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
এই টাকা আপনার বাবার উপর ওয়াজিব হবে না। তবে যদি লেনদেনের সময় আপনার বাবা নিজের উপর জরুরী করে নিয়ে থাকেন, তাহলে এখন বাবার ওয়াজি হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...