আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম,আমি একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। সম্প্রতি কোম্পানি আমাকে একটি পেনশন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে।

এই সফটওয়্যারের মূল কাজ হলো, ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা জমা রাখবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর তারা তাদের প্যাকেজ অনুযায়ী মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করবে।

তবে সফটওয়্যারে একটি অতিরিক্ত ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীর জমাকৃত টাকার উপর একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হারে সুদ (interest) যোগ হবে।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো:

১. আমরা কোনো ব্যাংক বা সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি কাজ করছি না।
২. এই সফটওয়্যারটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কিনে ব্যবহার করতে পারবে।
৩. যারা ব্যবহার করবে, তারা চাইলে সুদের ফিচারটি ব্যবহার নাও করতে পারে।
৪. এছাড়াও, সফটওয়্যারে বিকল্পভাবে “প্রফিট শেয়ারিং” বা বিনিয়োগভিত্তিক (interest-free) মডেলও রাখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা বিনিয়োগ করে লাভের অংশ দিতে পারবে।

এ অবস্থায় আমার প্রশ্ন হলো:
এই ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করা বা এতে কাজ করা বা যদি আমি সুদের ফিচারে কাজ না করি তাহলে কি ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে, বিশেষ করে যেখানে সুদের ফিচারটি একটি অপশন হিসেবে রাখা হয়েছে, কিন্তু ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়?

1 Answer

0 votes
by (770,280 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/9053/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে যে যেহেতু সুদ হারাম। 
তাই সুদী লেনদেনে সহযোগিতা করাও হারাম।সুতরাং ওয়েবসাইট যদি সুদী সম্পর্কিত হয়,বা ওয়েব সাইটে যদি সুদ ভিত্তিক কাজ বেশী থাকে,তাহলে এমন ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয়া কখনো জায়েয হবে না।

কিন্তু যদি ওয়েব সাইটটি সুদ ভিত্তিক না হয়,বা সুদের কাজ নিতান্তই কম থাকে,তাহলে রুখসত থাকবে।
,
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ   

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
 
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মুসলমানগণ তার শর্তের উপর থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২৮৯০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪০৩৯}
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি সুদের ফিচারে কাজ না করেন, তাহলে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনার চাকরি বৈধ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...