আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (35 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ


১. আমি সেলাই করি। মাঝেমধ্যে ভুল হয়, আবার মাঝেমধ্যে সেলাই রিভিউ অনেক ভালো আসে। আমি চেষ্টা করি ভালো করে সেলাই করে দেওয়ার। কিন্তু অনিচ্ছায় কিছু ভুল হয় বা কাস্টমার কেমন চায় তা উল্লেখ করে না দিলে নিজের মতো করে মেইক করা হয়। তখন কাস্টমার সন্তুষ্ট হয়, কখনও আবার খুব রেগে যায়। কিন্তু আমি তো টাকার বিনিময়ে ড্রেস বানাই। এই ভুলগুলোর জন্য কি বান্দার হক নষ্ট হবে? কোনো ফল্ট পেলে আমি বলি যে নিয়ে আসেন আমি ঠিক করে দিবো ইনশাআল্লাহ।
২. কোনো ত্রুটি থাকলে কাস্টমারকে যদি বলি আপু এটা ঠিক করা যাবে, আপনি নিয়ে আসেন ঠিক করে দিচ্ছি। তারপরও কেউ কেউ বাজে আচরণ করে আমার সাথে। আমি সমাধান করে দিতে চাইলেও এরকম আচরণ খারাপ করা জায়েজ কি। আমার ভুলগুলো এমন না যে কাপর কেটে ড্রেস নষ্ট করে ফেলি। বরং মাঝেমধ্যে সেলাইয়ে একটু সমস্যা হয়। যেমন বাঁকা ত্যাড়া, মাপে একটু কমবেশি, এজাতীয়। যা ইজিলি ঠিক করে নেওয়া যায়, এবং আমি ঠিক করার অফার করি। এরপরও কি কোনো কাস্টমারের জন্য আমার সাথে বাজে আচরণ করা জায়েজ হবে, যেহেতু আমি ভুল করেছি এবং টাকার বিনিময়ে কাজ করেছি?


৩. যেদিন ভুল করি ওইদিন আমার স্বামীও বকাঝকা করেন আর রেগে যান অনেক। তার কথা ভুল করলে কাস্টমার আসবে না। আমার তখন আরও কষ্ট লাগে। আমি বিজনেসের শুরুতে বলেছিলাম আমি একেবারে পুরোপুরি প্রফেশনাল না। আমি মেয়ে মানুষ, সারাদিন খাওয়ার ঠিক থাকে না। কাজের জন্য অনেককিছু ঠিকমতো করে উঠতে পারি না। আমার অসুস্থতা আছে, একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কাটিং টেবিলে, অথবা অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। দুইবার ডিএনসির পর আমার ব্যাকপেইন অনেক বেড়ে গেছে। এসব নিয়েও আমি যথেষ্ট চেষ্টা করি, তবু কথা শুনতে হয়, তুইতোকারি শুনতে হয়। আমি আমার স্বামীকে কিভাবে বুঝাতে পারি ওস্তাদ?
আমাদের রিজিক তো নির্ধারিত। আমার ভুলের জন্য বা আমার পারফেক্ট কাজের জন্য নির্ধারিত রিজিকের চেয়ে বেশি পাবো কি? ভুলগুলোর জন্য স্ত্রীকে এভাবে মানসিক কষ্ট দেওয়া, তুইতোকারি করা, ধমক দেওয়া ঠিক কিনা, স্ত্রীর মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা স্বামীর কোনো দায়িত্বের মধ্যে পরে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ধোকা এবং প্রতারণা সম্পর্কে হাদীসে ধমকি বর্ণিত হয়েছে,হযরত আবু-হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ( مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ ، فَلَيْسَ مِنَّا ، وَمَنْ غَشَّنَا ، فَلَيْسَ مِنَّا ) 
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন-
যে ব্যক্তি আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্র ধরলো, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।এবং যে কাউকে ধোকা দিলো সেও আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।(সহীহ মুসলিম-১৪৬)
ভিন্ন এক সুত্রে বর্ণিত আছে,
হযরত আবু-হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أبي هريرة رضي الله عنه – أيضاً - ، وفيه : مَنْ غَشَّ ، فَلَيْسَ مِنِّي
ভাবার্থঃ
যে কাউকে ধোকা দিলো সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।(সহীহ মুসলিম-১৪৭)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যেহেতু আপনি ঠিক করে দেন, তাই আপনার কোনো গোনাহ হবে না। 
(২) কেউ বাজে আচরণ করলে আপনি ধৈর্য্য ধারণ করবেন। আপনাকে সহ্য করতে হবে।
(৩) ভালভাবে কাজ শিখে তারপর কাজে যোগদান করা উপনার উচিত ছিলো।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...