আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (46 points)
স্ত্রী যদি বলে আমাকে ভুলে থাকতে পারবা?তহ এরপর স্বামী যদি বলে না।কিন্তু স্ত্রী তালাক চায় নি।কিন্তু কথার পরিবেশ এমন ছিল সিদ্ধান্ত নেওয়া তালাক দিবে কিনা নাকি থাকবে।কিন্তু একবার ও স্ত্রী তালাক চায় নি।এটা বলতেছিল যে স্বামীর সাথে থাকলে মা বাবার সংসার ভেঙে যাবে তাই  থাকতে পারবে না কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে মানে বাবার সাথে কথা বলে জানাবে কিন্তু তালাক চায় নি একবার ও।কারণ তালাক চায়লে স্বামী নিয়ত ছাড়া বললেও তালাক হয়ে যাবে ভেবে।স্বামী ধরেন বারবার বুঝাচ্ছিল সে স্ত্রীকে চায়।আর স্ত্রী ও কি করবে বুঝতে পারিতেছিল না।কি স্বামীর সাথে থাকবে নাকি মা বাবার কথা শুনবে।তারপর  স্বামী যদি বলে তুমার ভালোর জন্য যদি তুমাকে ছেড়ে দিতে হয় তাহলে দিব।এরপর যদি বলে দেখ কি বলে তুমার বাবা যেটা বলে সেটা কর মানে ভবিষ্যতে কথা বলবে আর তখন করতে বললে এতে কি কোন সমস্যা হয়???...? পরে আবার সবকিছু ঠিক হয়ে একে অপরের সাথে থাকলে মানে সে সিদ্ধান্ত নিলে ঠিকি? মূলত ধরেন কেউ চায় না তালাক হোক।আর ধরেন স্বামী এটাও বলেছিল কি বলে দেখ তুমার বাবা বাসায় পরে জানাবে মানে ডিভোর্স হয়ে গেলে অনেক বছর পর গিয়ে তার বাসায় জানাবে এমনটা।এর কিছুদিন কেনায়া শব্দ নিয়ে জানার পর ভয়ে এমন হলে  স্ত্রীর মানে তাদের সম্পর্ক ঠিক আছে কিনা তারউপর বাবা মায়েট এমন আচরণ  তাহলে কি কোন সমস্যা হয়?স্বামী ধরেন এটার পর বারবার বলত তুমি কিভাবে আমাকে ছেড়ে দিতে চায়ছ?মূলত ফোনে কথা হয়েছিল।মেয়ে বলতেছিল বাবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবে তবু তালাক চায় নি তার মনে হচ্ছিল হয়ত যদি সবকিছু ভাল হয়ে যায়।তার বাবা মা চাচ্ছিল সংসার না করাতে কিন্তু তবু স্ত্রী বাবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবে এমনটা বলতেছিল তার বারবার মনে হচ্ছিল যদি সবকিছু ভালো হয়ে যায় ।স্বামী বুঝতেছিল স্ত্রী তাকে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে কিন্তু স্বামী এটাও বুঝাচ্ছিল সে ছেড়ে দিতে চায় না তবু যদি দিতে হয় দিবে।বাসায় বলবে মানে তার বাসায় পরে বলবে।তারপর বলে তুমার বাবা কি বলে সেটা কর।

মূলত পরে সিদ্ধান্ত হয় ঐদিন যে স্ত্রী  স্বামীকে চায়।উপরেট গুলো এমনিতে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া।কেউ কাউকে ছাড়তে চায় না।কথার মাঝে এটাও বললে স্ত্রী যে সব ছবি আছে সব ডিলেট করে দিতে স্ত্রীর।স্বামী যদি বলে তুমার ছবি দিয়ে কিছু করব না ছবি দিয়ে তুমাকে ব্ল্যাকমেইল করার ইচ্ছে নাই অনেকে বলেছিল করতে কিন্তু না করব না।এসব উপরের কথা গুলো বলার মাঝে বললে কি কোন সমস্যা হয়?

1 Answer

0 votes
by (91,950 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/103624/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে, 
ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।
আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে, ওসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায় এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন। যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না ।
আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন।
আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন - https://idaars.com/courses/waswasa/
,
ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার আমলঃ
ইবনে হাজার আল-হাইছামি তাঁর ‘আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা’ গ্রন্থে (১/১৪৯) এসেছে, তাঁকে এর প্রতিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان – فإنه متى لم يلتفت لذلك لم يثبت بل يذهب بعد زمن قليل كما جرب ذلك الموفقون , وأما من أصغى إليها وعمل بقضيتها فإنها لا تزال تزداد به حتى تُخرجه إلى حيز المجانين بل وأقبح منهم
অর্থাৎ, এর ঔষধ একটাই সেটা হচ্ছে– ওয়াসওয়াসাকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও। কেননা কেউ যদি সেটাকে ভ্রুক্ষেপ না করে তাহলে সেটা স্থির হবে না। কিছু সময় পর চলে যাবে; যেমনটি তাওফিকপ্রাপ্ত লোকেরা যাচাই করে পেয়েছেন। আর যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসাকে পাত্তা দিবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে সে ব্যক্তির ওয়াসওয়াসা বাড়তেই থাকবে; এক পর্যায়ে তাকে পাগলের কাতারে নিয়ে পৌঁছাবে কিংবা পাগলের চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌঁছাবে।
,
এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে– বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়া, আউযুবিল্লাহ্ পড়া তথা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ رَدَّ اَمْرَهُ عَلَى الْوَسْوَسَة
সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’ (নাসাঈ)
,
ইবনে হাজার আল-হাইতামি রহ. বলেন,
له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان
ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)
,
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!
,
১. আপনি সব রকম ওয়াসওয়াসা পরিহার করে চলবেন। কারণ, ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)
.
২. প্রশ্নে আরো সংক্ষেপে মূল শব্দটি বললে তখন উত্তর দেওয়া সহজ হয়। প্রশ্নে এক কথা বারবার ও কথাগুলো এলোমেলা এসেছে। 
৩. স্বামীর কথা “যদি তুমাকে ছেড়ে দিতে হয় তাহলে দিব” এটা ভবিষ্যত মূলক শব্দ। তাই এটা বলার দ্বারা তালাক হবে না। 
৪. “মেয়ে বলতেছিল বাবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবে” স্ত্রীর উক্ত কথার দ্বারা কোনো তালাক পতিত হয়নি। 

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...