আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
46 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
আমার এক ফুপাতো বোনের (L আপু)ছেলের সাথে মনমালিন্য হওয়ায় সে ব্লক করে দিতে বললে আমি তাকে ব্লক করে দেই।

ফুপাতো বোনের ছেলে আর আমি একই ক্লাসে পড়তাম তবে জায়গা ভিন্ন। তার খালা (s আপু) র সাথে আমার ফেসবুকে এড ছিলো। তারপর তারই বড় বোনের ছেলে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিলে না চিনতে পারায় s আপু কে আমি জিজ্ঞাসা করলে তার পরিচয় দিয়ে আমাকে একসেপ্ট করতে বলে। তারপর ফুপাতো বোনের ছেলের সাথে প্রথমে স্বাভাবিক কথা হলেও পরে সে এক মেয়ে কে পছন্দ করা নিয়ে হাত কাটা সহ সুইসাইড ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলে এবং ছবি দেয়৷ স্কুলে পড়তাম তখন বুঝতাম না তেমন আর সহ্য ও করতে পারতাম না সহজে।আর বলতেও পারতাম না তেমন বুঝিয়ে। তখন কিছুটা এড়িয়ে চলতাম। তারপর অনেক দিন পর কিছু কাজের কারনে আমার বাবা ফুপাতো বোনের বাড়িতে যায়। তার কিছুদিন আগে আমাকে উইশ করা নিয়ে ফেসবুকে আমার বোনের ছেলে একটা স্টোরি দিয়েছিলো সে সম্পর্কে s আপু সব বাবা কে বলে। কি কি বুঝিয়েছে জানিনা। তখন বাবা বাসায় এসে আমাকে বকে। স্বভাবতই বাবা আমাদের অনেক আদর করেন। অন্য কারো কথা শুনেই সহজে বকবেন এমন ছিলেন না। বাবার সাথে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকলে,আমি কস্ট পেয়ে এই বিষয় টা আমার বোনের ছেলেকে বলি যে আমি s আপু কে না করেছিলাম ফেসবুক সম্পর্কে এসব বিষয় বলতে তাও সে বাবা কে বলে দেয়।  একসময় সে তার খালার কিছুটা সাপোর্ট নিয়েই আমাকে ব্লক করে দিতে বলে। আমিও রাগের মাথায় ব্লক করে দেই। (পরে আপু নাকি বলেছে সে জানতো না এসব নিয়ে ঝামেলা হবে এগুলো আরও অনেক পরে জানায়।)
বোনের ছেলের সাথে আমার অন্য কোনো সম্পর্ক ছিলো না।
তারপর তার সাথে যোগাযোগ করার তেমন সুযোগ আমার হয়ে উঠেনি। আইডিও অনেক পরে ডিলেট করে দেই। এখন আমার প্রায় ইউনিভার্সিটি শেষের দিকে। বোনের ছেলে বাসার কাছে আসলে আব্বু তাকে অনেক বার বললেও আমাদের বাসায় সে আসে না। আমি চেয়েছিলাম তখন বলে ঝামেলা শেষ করে দিবো কিন্তু তা আর হয়নি। এখন সে নাকি দেশের বাহিরে। যোগাযোগ করার তেমন সুযোগ আমার কাছে এখনো নেই। বোনদের সাথে সম্পর্ক থাকলেও বোনের ছেলের সাথে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ হয়না।
এতে কি আমার আত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার গুনাহ হবে?
সে তো আমার নন মাহরাম যেটা আগে এতো বুঝতাম না এখন আমার করনীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
নারীদের জন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে যাওয়া, তাদেরকে সালাম করা, তাদের সাথে কথাবার্তা বলা, শরয়ী দৃষ্টিকোণে নাজায়েয ও হারাম। শরীয়তে সিলাহ রেহমি বা আত্মীয়তার সম্পর্ককে অটুট রাখার তাগিদ করা হয়েছে, তবে অবশ্যই শরীয়তের গন্ডির ভিতরে থেকে। বরং শরীয়তের চাহিদা হল, শরয়ী বিধি বিধানের ভিতরে থেকে আত্মীয়তার সম্পর্কের খেয়াল রাখা। যেমন রদ্দুল মুহতার কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

لما فى ردالمحتار مع الدر المختار:
''فإذا نجيز الكلام مع النساء للأجانب ومحاورتهن عند الحاجة إلى ذلك، ولا نجيز لهن رفع أصواتهن ولا تمطيطها ولا تليينها وتقطيعها لما في ذلك من استمالة الرجال إليهن وتحريك الشهوات منهم، ومن هذالم يجز أن تؤذن المرأة''.(کتاب الصلاۃ، باب شروط الصلاة، مطلب في ستر العورة، ج: 3، ص: 72، ط: سعید)
জরুরতের সময় নারীদের জন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বলা জায়েয। তবে তখনো উচ্ছসিত ভাবে নরম ভঙ্গিতে আকর্ষণীয় করে কথা বলা নিষেধ। কেননা এতে করে ফিতনার দ্বার উন্মোক্ত হতে পারে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2674

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে বোনের ছেলে যে কি না আবার গায়রে মাহরাম, তার সাথে সুসম্পর্ক না থাকলে কোনো গোনাহ হবে না। আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্ট হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...