আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
66 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ,
১.উস্তাজ, আমার বিয়ের সময় দেনমোহর ৩ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয় এবং আমি ৩৫ টাকা আদায় করি। মেয়ের অভিভাবক আমাকে ৩ লক্ষ  টাকা দেনমোহরে ৩৫ হাজার টাকা আদায় বাকি টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করার নিমিত্তে বিয়ের প্রস্তাব করেন। অতপর আমি  প্রস্তাবকে গ্রহণ করে নেয়। আমার স্ত্রীকেও আমি বলেছি বাকি টাকা আমি ধীরে ধীরে  পরিশোধ করে দিবো ইনশাআল্লাহ। আমার স্ত্রীও মেনে নিয়েছেন।  শুনেছি,  দেনমোহর বাকি থাকলে   প্রথম সহবাসের পূর্বে স্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হয় কিন্তু আমার সেটা জানা ছিল না।  আমার স্ত্রীও আমাকে কোনো বাধা দেননি।

 আমি জানতে চাচ্ছিলাম যে, এখানে আমার কোনো গুনাহ হয়েছে কি?

আমি অবশ্য পরবর্তীতে আমার স্ত্রীকে বলেছি,  তিনি বলেছেন, আমাকে উপভোগ করার অনুমতি আপনাকে দিয়েছি।

২. আমার স্ত্রী পরবর্তীতে দেনমোহর প্রসঙ্গে বলেছেন,  বেশি কষ্ট হলে আপনাকে দেনমোহর দিতে হবে না।এখন দেনমোহর কি মওকুফ ধরে নিবো নাকি সময়-সুযোগ হলে দিতে হবে এরকম ধরে নিবো।
৩. আমার স্ত্রী যদি আমার দেনমোহর মাফ করে দেন। পরবর্তীতে আমি চাইলে কি সেটা তাকে দিতে পারবো?

1 Answer

0 votes
by (92,040 points)
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/9646/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে, 
মহর উভয় মিলেই নির্ধারণ করবে। পাত্রপক্ষ এবং পাত্রীপক্ষ উভয় পক্ষ মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে মহর নির্ধারণ করবে।
,
মহর দাতা মূলত পাত্র এবং গ্রহিতা মূলত পাত্রী। এই দুজনের অনুমতিক্রমে উভয়ের পরিবারের লোকজন মহর নির্ধারণ করবে। ক্রয়-বিক্রয়ের মত যেকোনো এক পক্ষ প্রথমে মহরের প্রস্তাব দিবে এবং অন্যপক্ষ মহরের প্রস্তাবকে গ্রহণ করে নিবে। যদি পাত্রীপক্ষ বেশী মহরের দাবী করে, তাহলে পাত্রপক্ষ চাইলে তাদের দাবীকে মানতে পারে, আবার চাইলে মহরকে কম করারও প্রস্তাব দিতে পারে এবং সম্ভব না হলে, সেখানে রিশতা না জুড়তে পারে। সেটা পাত্র পক্ষের সম্পূর্ণ নিজস্ব অধীকার। মহরের আলোচনা উঠার পর যে বিয়ে করতেই হবে, বিষয়টা আসলে এমন নয়, বরং তাদের ভাঙ্গা গড়ার অধীকার থাকবে।
মহর যতটুকু পরিশোধ করা যায়, ততটুকু হওয়াই কাম্য ও উচিৎ।
,
https://ifatwa.info/54326/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
মহর দুই প্রকার যথা,
(১) مهرمعجل  মহরে মু'আজ্জল তথা এমন মহর যা তারাতারি পরিশোধ করা হবে। এমন মহর পরিশোধের পূর্ব পর্যন্ত স্ত্রী চাইলে নিজেকে স্বামী থেকে দূরে রাখতে পারবে।
(২) مهر مؤجل  মহরে মু'য়াজ্জল, তথা এমন মহর যা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে। এমন মহরের বেলায় স্ত্রী নিজেকে স্বামী থেকে দূরে রাখতে পারবে না।
فِي كُلِّ مَوْضِعٍ دَخَلَ بِهَا أَوْ صَحَّتْ الْخَلْوَةُ وَتَأَكَّدَ كُلُّ الْمَهْرِ لَوْ أَرَادَتْ أَنْ تَمْنَعَ نَفْسَهَا لِاسْتِيفَاءِ الْمُعَجَّلِ لَهَا ذَلِكَ عِنْدَهُ خِلَافًا لَهُمَا-
(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩১৭)
.
وَإِذَا كَانَ الْمَهْرُ مُؤَجَّلًا أَجَلًا مَعْلُومًا فَحَلَّ الْأَجَلُ لَيْسَ لَهَا أَنْ تَمْنَعَ نَفْسَهَا لِتَسْتَوْفِي الْمَهْرَ عَلَى أَصْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ - رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى -، كَذَا فِي الْبَدَائِعِ 
(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩১৮)
,
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!
,
১. মহর সম্পূর্ণ স্ত্রীর হক। স্ত্রী যদি চায় যে, মহর পরিশোধ ব্যতীত সে স্বামীকে কাছে আসতে দিবে না, তাহলে স্বামী কাছে যেতে পারবে না। কিন্তু যদি স্ত্রী অনুমতি দিয়ে দেয়, তাহলে মহর পরিশোধ ব্যতীতও স্বামী তার স্ত্রীর নিকট পৌছতে পারবে।
এ বিধান হলো যদি বিয়ের সময় আলোচনা থাকে যে, মহর তাড়াতাড়ি পরিশোধিত হবে। কিন্তু যদি আলোচনা থাকে যে, মহর বাকীতে পরিশোধ করা হবে, তাহলে এমতাবস্থায় স্ত্রী তার স্বামীকে মহরের পরিশোধের জন্য আটকাতে পারবেনা।
.
২. সময় সুযোগ হলে পরিশোধ করে দিয়েন ইনশাআল্লাহ।
৩. মহর দাতা মূলত পাত্র এবং গ্রহিতা মূলত পাত্রী। সুতরাং বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর স্ত্রী চাইলে খুশি মনে, স্বেচ্ছায় মহর কমিয়ে দিতে পারে বা একেবারে মাফ করে দিতে পারে। এই অধিকার স্ত্রীর আছে। তবে এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর থেকে লিখিত আকারে নিলে স্বামীর জন্য আরো ভালো হয়।
তবে অবশ্যই উত্তম হলো সময় সুযোগ হলে পরিশোধ করে দেওয়া। 

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 760 views
...