আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
19 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (18 points)
edited by

বর্তমানে অনেক ডিজিটাল প্রডাক্ট, বিভিন্ন অ্যাপ/সফটওয়্যারের পেইড ভার্শন কম দামে বিক্রি হয়, যেমন ক্যাপকাট, চ্যাটজিপিটি অ্যাডোবি ফটোশপ ইত্যাদি। এগুলো মূলত কিছু ট্রিকস ব্যবহার করে করা হয়। যেমনঃ

১। অনেক কোম্পানি উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে (যেমন: তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া বা ভারত) তাদের সেবার দাম অনেক কম রাখে। বিক্রেতারা VPN (Virtual Private Network) ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ঐসব দেশে দেখায় এবং ঐ দেশের মুদ্রা ও ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কম দামে সাবস্ক্রিপশন কেনে। এরপর তা অন্য দেশের গ্রাহকদের কাছে বেশি লাভে, কিন্তু মূল দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে। এটি কোম্পানির ভৌগোলিক ব্যবসার নীতিমালার পরিপন্থী।

২। অধিকাংশ প্রিমিয়াম সেবা শুরুতে ১ মাস বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য 'ফ্রি ট্রায়াল' দেয়। বিক্রেতারা বিশেষ ধরনের ভার্চুয়াল কার্ড (BIN - Bank Identification Number) ব্যবহার করে বা ভুয়া পেমেন্ট তথ্য দিয়ে বারবার নতুন ইমেইল দিয়ে এই ফ্রি ট্রায়ালগুলো চালু করে। গ্রাহক যখন টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কেনে, বিক্রেতা তাকে আসলে এই ফ্রি ট্রায়াল অ্যাকাউন্টটি ধরিয়ে দেয়। মেয়াদ শেষ হলে আবার নতুন অ্যাকাউন্ট দেওয়া হয়। এতে কোম্পানির প্রাপ্য পাওনা ফাঁকি দেওয়া হয়।

৩। অ্যাডোবি (Adobe) বা ক্যানভার (Canva) মতো কোম্পানিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০-৮০% পর্যন্ত ছাড় দেয়। বিক্রেতারা ডার্ক ওয়েব বা গ্রে মার্কেট থেকে ভুয়া .edu (Educational) ইমেইল কিনে সেই ছাড় গ্রহণ করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা একটি ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা 'টিম' তৈরি করে সেখানে সাধারণ মানুষকে শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্ত করে দেয়, যা প্রকৃতপক্ষে জালিয়াতি।

৪। কোম্পানিগুলো অনেক সময় ৫-৬ জন বা তার বেশি মানুষের জন্য 'ফ্যামিলি প্ল্যান' বা 'টিম প্ল্যান' অফার করে। বিক্রেতা নিজে একটি বড় প্ল্যান কিনে অপরিচিত ৫-৬ জন গ্রাহকের কাছে আলাদা আলাদা 'স্লট' বা অংশ বিক্রি করে দেয়। অধিকাংশ কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, এই ফ্যামিলি মেম্বারদের একই পরিবারের বা একই ছাদের নিচে বসবাসকারী হতে হয়। অপরিচিত মানুষের কাছে এভাবে অংশ বিক্রি করা কোম্পানির Terms of Service বা চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।

৫। শেয়ার্ড অ্যাকাউন্ট: একটি প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টে একাধিক ব্যক্তিকে অ্যাক্সেস দেওয়া হয়, যা প্ল্যাটফর্মের নিয়মবিরুদ্ধ।
__________________________

 মূলত রাশিয়া বা চীন ভিত্তিক কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে এই ধরণের অ্যাকাউন্টগুলো বাল্ক বা পাইকারি হারে পাওয়া যায়। অনেক সময় এগুলো হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট বা চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনা অ্যাকাউন্টও হতে পারে। দেশি বিক্রেতারা সেখান থেকে কিনে স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে।

আমি যদিও নিজে সরাসরি ইলিগ্যাল পদ্ধতি অবলম্বন করে এগুলো সোর্সিং করছি না, শুধু পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে কিনতে চাচ্ছি। কিন্তু এটা জানা সম্ভব না যে পাইকারি বিক্রেতা কোন পদ্ধতিতে এগুলো সংগ্রহ করেছে। তবে সন্দেহ থেকে যায়, যেহেতু অধিকাংশ পদ্ধতি ইলিগ্যাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 প্রশ্ন ১- এসব অ্যাকাউন্ট পাইকারি কিনে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করা কি জায়েজ হবে?

 প্রশ্ন ২- যদি ঐসকল সাইট থেকে নিজে কিনে শুধু ব্যক্তিগত কাজের জন্য ব্যবহার করি, সেটা কি জায়েজ হবে?

 প্রশ্ন ৩- আমার পরিচিত/বন্ধু-বান্ধবকে আমার কার্ড দিয়ে ঐসব সাইট থেকে সাবস্ক্রিপশন কিনে দেই, বিনিময়ে লাভ ছাড়া শুধু ক্রয়মূল্য নিয়ে নেই, সেটা কি জায়েজ হবে?

 প্রশ্ন ৪- এসব সফটওয়্যার কোম্পানী/পাইকারি বিক্রেতারা অধিকাংশই কাফির দেশে অবস্থিত। কাফিরদের মাল এভাবে ভক্ষণ/খেয়ানত/হক নষ্ট করা কি স্বাভাবিক অবস্থায় জায়েজ আছে?

1 Answer

0 votes
ago by (812,550 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ধোকা এবং প্রতারণা সম্পর্কে হাদীসে ধমকি বর্ণিত হয়েছে,হযরত আবু-হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ( مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ ، فَلَيْسَ مِنَّا ، وَمَنْ غَشَّنَا ، فَلَيْسَ مِنَّا ) 
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন-
যে ব্যক্তি আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্র ধরলো, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।এবং যে কাউকে ধোকা দিলো সেও আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।(সহীহ মুসলিম-১৪৬)
ভিন্ন এক সুত্রে বর্ণিত আছে,
হযরত আবু-হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أبي هريرة رضي الله عنه – أيضاً - ، وفيه : مَنْ غَشَّ ، فَلَيْسَ مِنِّي
ভাবার্থঃ
যে কাউকে ধোকা দিলো সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।(সহীহ মুসলিম-১৪৭)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) এসব অ্যাকাউন্ট পাইকারি কিনে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করা জায়েয হবে না।

(২) যদি ঐ সকল সাইট থেকে নিজে কিনে শুধু ব্যক্তিগত কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়, সেটা রুখসতযোগ্য হবে।

(৩) আমার পরিচিত/বন্ধু-বান্ধবকে আমার কার্ড দিয়ে ঐসব সাইট থেকে সাবস্ক্রিপশন কিনে দেই, বিনিময়ে লাভ ছাড়া শুধু ক্রয়মূল্য নিয়ে নেই, সেটাও রুখসতযোগ্য হবে যদি দেশে ক্রয়মূল্য বেশী হয়।

(৪) কাফিরদের মালও অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা বা ব্যবহার করা জায়েয হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...