ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ব্যবসা করলে, ফেসবুকে অ্যাড দেয়ার জন্য যে ডলার কাটে, তখন অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট কেটে নেয় যেটা পরবর্তীতে ফেসবুক বাংলাদেশ সরকারকে পরিশোধ করে। এখন এটা থেকে মুক্তির একটা উপায় হলো ১৩ সংখ্যার একটা অথেনটিক Business Identification Number(BIN) ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে দেয়া।
এতে করে ফেসবুক বুঝতে পারে যে এই পেইজ সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছে, একে আর আলাদা করে ১৫% চার্জ করার দরকার নেই। এই BIN পাওয়া যায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে সরকারীভাবে নিবন্ধন করলে। তখন সরকারকে ম্যানুয়ালি ট্যাক্স/ভ্যাট পরিশোধ করতে হয় নিয়মিত।
কিন্তু যারা ছোট ব্যবসায়ী, যাদের পক্ষে সরকারীভাবে নিবন্ধন করা সম্ভব নয় (আর্থিক অসঙ্গতি এবং ডকুমেন্টের অভাবের কারণে), তাদের পক্ষে ১৫% ভ্যাট দেয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য। তাই তাঁরা এই ১৫% ভ্যাটের হাত থেকে বাঁচার জন্য অন্য নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের BIN ফেসবুকে জমা দিয়ে থাকে। এতে করে নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি ভ্যাট খুব সম্ভবত যুক্ত হয় না। কিন্তু বিনা অনুমতিতে তাদের BIN ব্যবহার করা হচ্ছে। এরকম নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের BIN অনলাইনে খুঁজলে পাওয়া যায়, আবার অনেকে এগুলো ৩০০-১০০০ টাকায় বিক্রি করে।
প্রশ্ন ১- অন্যের এই ১৩ সংখ্যার BIN তাদের অনুমতি ছাড়া বেচাকেনা করা জায়েজ আছে?
প্রশ্ন ২- অন্যের BIN এভাবে ব্যবহার করা জায়েজ হবে? ব্যবহার করলে ব্যবসা ও উপার্জন হালাল হবে?
প্রশ্ন ৩- অন্যের BIN নিজের ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে ভেরিফাই করে নিলে পরে আর BIN রিমুভ/পরিবর্তন করা যায় না। আমি অলরেডি এটা করে ফেলেছি, সেক্ষেত্রে কি করণীয়?
প্রশ্ন ৪- এই কৌশল অবলম্বন করার ফলে সরকার ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এতে করে কি আমি গুনাহগার হবো? আমার তো সামর্থ্য নেই ভ্যাট পরিশোধ করার।
প্রশ্ন ৫- যদি ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ সামর্থ্য হয় ভ্যাট পরিশোধ করার, কিন্তু সেক্যুলার সরকার হওয়ার কারণে আমি ভ্যাট দিতে অনিচ্ছুক হই এবং এটা ফাঁকি দেই, সেক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কি হবে?