আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
75 views
in পবিত্রতা (Purity) by (13 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।
পিরিয়ড ভালো হয়ে যায় ৫-৬দিনেই।এরপরে কোনো ফ্লো থাকে না।কোনো স্রাব আসে না।১০-১২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর স্রাব দেখা যায় হালকা,কিন্তু ঐটাতে কোনো রং থাকে না,স্বচ্ছ থাকে।কোনো রঙিন স্রাব না দেখায় গোসল করে পবিত্র হওয়ার পর ২-৩ ওয়াক্ত নামায পড়ে ফেললে,যোনিমুখে রাখা টিস্যুতে শুধু একটা ব্রাউন বিন্দুর মতো দেখা যায়।বাইরে নিজে থেকে কোনো স্রাব আসেনা,শুষ্ক থাকে।কিন্তু জরায়ুর একটু ভিতরে টিস্যু নিলে বা আংগুল দিয়ে জরায়ুর গভীরে প্রবেশ করালে সেটাতে ঘিয়া বা হালকা স্বচ্ছ ছায় কালার সুতার মতো দেখা যায়।যেহেতু এটা নিজে থেকে ভেসে বাইরের দিকে আসেনা পিরিয়ডের স্রাবের মতো,সেহেতু এটাকে কি পিরিয়ড ধরা যাবে?আর ৩-৪ দিন এমন শুষ্ক থাকে যোনিপথ।পরিপূর্ণ সাদাস্রাব আসা শুরু হয় পিরিয়ড ভালো হওয়ার আরও ৩-৪ দিন পর।এই ৩-৪ দিন কি তাহলে নামায-রোযা ছাড়া থাকব?
(২)সাদাস্রাব দেখে পবিত্র হয়ে গোসলের পর অনেক সময়ই আবার ৩-৬ ঘন্টা পর ঘিয়া বা ফ্যাসকা হালকা হলুদ স্রাব দেখা যায় ১-২টা সুতার মতো।এরপরে আর কিছু দেখা যায় না।তখন কি আবার গোসল করতে হবে।
বিদ্র:পিরিয়ডের সব মাসআলা আমি জানি,পড়েছি অন্বকবার।কিন্তু আমার পবিত্রতা নির্ণয় করতে প্রত্যেক মাসেই দ্বিধায় পরে যাই।

1 Answer

0 votes
by (92,400 points)
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/43176/  নং ফাতাওয়াতে আমরা বলেছি যে,
প্রথমেই কিছু মাসয়ালা জেনে নেইঃ
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা ৩ তিন, আর সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল, হলুদ, সবুজ, লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে। যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬) 
,
হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক, সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা। (কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)
,
তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা। (ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)
আরো জানুনঃ-
,
★শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়, বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।   

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,
عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "
তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন। (মুয়াত্তা মালিক-১২৭)
,
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ الْعَشَرَةَ فَالطُّهْرُ وَالدَّمُ كِلَاهُمَا حَيْضٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً أَوْ مُعْتَادَةً
মাঝেমধ্যে হায়েয হওয়া আবার মাঝেমধ্যে বন্ধ হওয়া, দশ দিনের ভিতর সবকিছুই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। চায় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন ঐ মহিলা প্রথমবার হোক বা এ ব্যাপারে অভ্যস্ত থাকুক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭, কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৮, কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/১৭২)
,
★ উভয় হায়েজের মাঝে কমপক্ষে পনেরো দিন পবিত্রতা ধরতে হবে। হায়েজ শেষ হওয়ার পরদিন থেকে পনেরো দিন গণনা করা হবে।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটাকে ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা ধরতে হবে। নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।
,
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!
,
আপনি প্যাড ব্যবহার করে সেটার প্রতি লক্ষ্য করবেন, যদি স্পষ্ট সাদা আসে, তাহলে তো এটি হায়েজ নয়। নামাজ আদায় করতে হবে।
আর যদি প্যাডে হালকা বাদামি রঙ মনে হয়, সেক্ষেত্রে সেটিকে হায়েজ ধরবেন।
যদি প্যাড দেখার পরেও আপনি সন্দিহান হোন যে সাদা কিনা? সেক্ষেত্রে প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার প্রতি মাসে যে অভ্যাস গত ভাবে যতোদিন দিন ব্লিডিং থাকে, সেই হিসাবে এই মাসে আপনি ততোদিন হায়েজ ধরবেন।
আরো বিস্তারিত জানুন - https://ifatwa.info/110155/ 

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...