আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
930 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আস সালামু আলাইকুম। আমার ২টা জিনিস জানার ছিল।
১। আমাদের হোস্টেলে প্রতি রুমে ৪ জন করে ছাত্র থাকতে হয়।  এর মধ্যে অনেকেই হিন্দু।  ওরা আবার টেবিলে মূর্তি রাখে। ওস্তাদ ঐ রুমে কি নামাজ পড়া যাবে??
বাসার ছোটবাচ্চাদের খেলনা ঘোড়া, টেডিবিয়ার বা পুতুলের ক্ষেত্রেও কি একই হুকুম???

২। ওস্তাদ, যদি কারো ঘন ঘন স্বপ্ন দোষ হয় তাহলে সে কি করতে পারে?  এটা থেকে বাঁচার জন্য কিছু উপায় বলে দিলে ভালো হত।

1 Answer

0 votes
by (92,400 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

মানব বা প্রাণী আকৃতির পুতুল ও শোপিস ঘরে ঢুকানো আর মূর্তি প্রবেশ করানো একই বিধান। এসবই হারাম।

ছোট বাচ্চাদের খেলনা ঘোড়া, পুতুলের ক্ষেত্রেও একই হুকুম।

 

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন তখন বাইতুল্লাহর আশে পাশে তিনশ ষাটটি মূর্তি বিদ্যমান ছিল। তিনি প্রত্যেক মূর্তির দিকে হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করছিলেন এবং বলছিলেন:

 

جاء الحق وزهق الباطل، إن الباطل كان زهوقا، جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد.

 

সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল। সত্য আগমন করেছে আর মিথ্যা না পারে কোনো কিছু সূচনা করতে, না পারে পুনরাবৃত্তি করতে। (সহীহ বুখারী হা. ২৪৭৮, ৪২৮৭, ৪৭২০; সহীহ মুসলিম হা. ১৭৮১)

 

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ্য় প্রবেশ করে ইবরাহীম আ. ও মারইয়াম রা.-এর ছবি দেখলেন। তখন তিনি বললেন, এঁরা তো (যাদের চিত্র এই লোকেরা অঙ্কন করেছে) (আল্লাহর এই বিধান) শুনেছেন যে, ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যাতে কোনো চিত্র থাকে। (সহীহ বুখারী হা. ৩৩৫১;সহীহ ইবনে হিববান  হা. ৫৮৫৮)

 

 

হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে।’ (সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২)

 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

 

إن الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيامة يقال لهم : أحيوا ما خلفتم.

 

‘যারা এই সব প্রতিকৃতি প্রস্তুত করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছিলে তাতে প্রাণ সঞ্চার কর।’ (সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫১; সহীহ মুসলিম হা. ২১০৭)

 

 

আবু যুরআ রাহ বলেন-

 

دخلت مع أبي هريرة في دار مروان، فرأى فيها التصاوير، فقال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : قال الله عز وجل : ومن أظلم ممن ذهب يخلق خلقا كخلقي فليخلقوا ذرة، وليخلقوا حبة، أو ليخلقوا شعيرة.

 

আমি আবু হুরায়রা রা.-এর সঙ্গে মারওয়ানের গৃহে প্রবেশ করলাম। সেখানে কিছু চিত্র তাঁর দৃষ্টিগোচর হল। তিনি তখন বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন-

 

ومن أظلم ممن ذهب يخلق خلقا كخلقي

 

ওই লোকের চেয়ে বড় জালেম আর কে যে আমার সৃষ্টির মতো কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চায়। (তাদের যদি সামর্থ্য থাকে তবে) সৃষ্টি করুক একটি কণা, একটি শষ্য কিংবা একটি যব! (সহীহ মুসলিম হা. ২১১১; সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫৩)

 

 

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

 

لا تدخل الملائكة بيتا فيه تماثيل أو تصاوير

 

 ‘ফেরেশতারা ওই ঘরে প্রবেশ করেন না যাতে মূর্তি বা ছবি রয়েছে।’ (সহীহ মুসলিম ২১১২)

 

আরো বিস্তারিত জানুন - https://ifatwa.info/4001/

 

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যদি নামাজের সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি অনুসরণ করে নামাজ আদায় করেন,তাহলে তা কবুলও  হবে ইনশাআল্লাহ । তবে যদি নামাজের সামনে থাকে তাহলে নামাজ মাকরুহ হবে।

উল্লেখ্য যে, আপনি আপনার রুমমেট হিন্দুদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে পারেন এবং বুঝিয়ে (জোরপূর্বক নয়) মূর্তিগুলো ঘর থেকে বের করে দিতে বলতে পারেন।

আরো একটি বিষয় হলো, হিন্দুদের সাথে একই রুমে থাকলে অনেক সময় ঈমান-আমলে ত্রুটি হয়। তাই অন্যত্র রুম ভাড়া নেওয়া আপনার জন্য উত্তম হবে।

২. আজে বাজে চিন্তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। দোয়া দরুদ পড়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাছ, ফালাক, নাস ও আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমাবেন এবং ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হওয়ার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শও নিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)
by
আসসালামু আলাইকুম, আমার বাসায় ২জন ছোট বাবু আছে। তাদের অনেক পুতুল, ঘোড়া মানে প্রানী জাতীয় খেলনা আছে তার জন্য আমি অন্য রুমে নামাজ পরি সেই রুমে কোনো খেলনা থাকে না। তাহলে কি আমার নামাজ হবে?  
by (92,400 points)
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
হ্যাঁ, আপনার নামাজ সহীহ হবে৷ তবে আপনি প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন ঐ পুতুলগুলো বাড়ী থেকে সড়িয়ে ফেলার জন্য৷

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...