আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
294 views
in সালাত(Prayer) by (10 points)
১। চরম ভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যাক্তি যে কিনা কারো সাথে কথা বলতে চায় না বাহিরে যেতে চায় না এরকম ব্যাক্তি যদি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় না করে বাসায় যোহর আদায় করে তাহলে কোনো সমস্যা আছে???

২। ঘুমের মধ্যে যদি জুমার নামাজ এর সময় চলে তাহলে যোহর আদায় করলে হবে?

1 Answer

0 votes
by (809,370 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-

(১)
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত,রবের কাছে নিজেকে সমর্পণ করার সেটাই মোক্ষম সময়।এমতাবস্থায় বেশী বেশী আল্লাহকে স্বরণ করা, আল্লাহর সামনে নিজেকে হাজির করা,তাওবাহ ইস্তেগফার সহ যাবতীয় নেককাজ ও ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়াই উচিৎ।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।(সূরা বাকারা-১৫৩)

হযরত হুযাইফা রাযি থেকে বর্ণিত
عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ:«كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ، صَلَّى»
রাসূলুল্লাহ সাঃ যখন চিন্তিত হতেন,তখন নামাযে দাড়িয়ে যেতেন।(সুনানু আবি-দাউদ-১৩১৯)

চিন্তিত অবস্থায় নামায ছাড়াও বিভিন্ন দু'আ পড়ার কথা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।এর মধ্য থেকে একটি দু'আ হল এই,
ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাঃ চিন্তিত হলে নিম্নোক্ত দু'আটি বলতেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ»
(সহীহ মুসলিম-২৭৩০)


চিন্তা পেরেশানিতে আরো অনেক আ'মল বর্ণিত রয়েছে।তবে চিন্তা পেরেশানি জামাত তরকের উযর হিসেবে কোথাও বর্ণিত হয়নি।সুতরাং চিন্তা-পেরেশানির সময়েও জামাতে নামায পড়তে হবে।জুম্মার নামায মসজিদে গিয়ে পড়তে হবে।অযথা জুমুআহ এর নামায পরিত্যাগ করা যাবে না।তবে যদি কেউ জুম্মাকে পরিত্যাগ করে ফেলে,তখন তার জন্য হুকুম হল,সে যেন যোহরের নামায পড়ে নেয়।


(২)
ঘুম শরয়ীভাবে উযর হিসেবে পরিগণিত। সুতরাং ঘুমের কারণে যদি কারো জুমুআহ তরক হয়ে যায়,তাহলে এক্ষেত্রে কোনো গোনাহ হবে না। সে যোহরকে আদায় করে নেবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 339 views
0 votes
1 answer 384 views
...