0 votes
50 views
in খাদ্য ও পানীয় (Food & Drink) by (46 points)
১. ডাক্তাররা কাঁচা ডিম দুধের সাথে মিলিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বা শরীলের জন্য ভালো বলেন। ডিম কাঁচা খাওয়া সম্পর্কে শরীয়তের বিধান কি?

২. আমি শুনেছিলাম, মুরগি জবাই করার সময় ৩টা রগ কাটতে হয় ভালো মতো, নাহলে সেই মুরগি খাওয়া যাবে না। এটা কি সঠিক?

৩. অনেক ক্ষেত্রে জানার উপায় থাকে না, মুরগি টা কি ঠিক মত জবাই হয়েছে কিনা, যেমন বিসমিল্লাহ বলা, ৩ টা রগ পরিপূর্ণ কাটা, ড্রেসিং করানো হয়েছে কিনা? এক্ষেত্রে উক্ত মুরগি খাওয়া যাবে কিনা?

৪. মুরগি ড্রেসিং করানো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।
৫. শশা ও খেজুর একসাথে খেলে সাস্থ্য বাড়ে। এমন কোনো হাদিস কি রাসূল স. থেকে প্রমাণিত?

৬. বাবা মা বেনামাজী হলে নাকি তাদের হাতের খাবার খাওয়া নিষেধ! উক্ত বিষয় কি সঠিক?
৭. মুরগি জবাই কিভাবে করবে এবং জবাই করার পর কি কি করনীয় রান্নার আগ পর্যন্ত তা যদি বলে দিতেন।

৮. কোনো প্রাণী জবাই এর ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার যদি জোরে না বলে মনে মনে বলে বা নিজে শুনতে পারে তাহলে কি সেই জবাই সঠিক হবে কি?

1 Answer

0 votes
by (468,000 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)
যে সমস্ত জিনিষ ভক্ষণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয, সে সমস্ত জিনিষকে রান্নার সাথে সম্পর্কযুক্ত করা যাবে না। ডিম খাওয়া জায়েয চায় রান্না করে হোক বা রান্না ছাড়াই হোক, সর্বাবস্থায়-ই জায়েয।

(২)
শুধুমাত্র শাহ রগকে কেটে দিলেই হবে।

(৩)
https://www.ifatwa.info/686 নং ফাতাওয়ায় বলেছি যে,
হাদিস শরিফে এসেছে, আয়েশা রাযি. বলেন, একদল লোক নবী রাসুলুল্লাহ ﷺ -কে জিজ্ঞেসা করল, ‘এক নও মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে। আমরা জানি না যে, তার জবেহকালে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কি না।’ তিনি বললেন, ﺳَﻤُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻭَﻛُﻠُﻮﻩُ ‘তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তা ভক্ষণ কর।’ (বুখারি ২০৫৭, ৫৫০৭ )
উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবন হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
ﻭﻳﺴﺘﻔﺎﺩ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻳﻮﺟﺪ ﻓﻲ ﺃﺳﻮﺍﻕ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻣﺤﻤﻮﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﺤﺔ ، ﻭﻛﺬﺍ ﻣﺎ ﺫﺑﺤﻪ ﺃﻋﺮﺍﺏ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ … ﻷﻥ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻻ ﻳﻈﻦ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﺇﻻ ﺍﻟﺨﻴﺮ ، ﺣﺘﻰ ﻳﺘﺒﻴﻦ ﺧﻼﻑ ﺫﻟﻚ
‘এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, মুসলমানদের বাজারে যে গোশত পাওয়া যায় তা হালাল হিসেবে গণ্য হবে। কেননা, মুসলমানের সব বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো ধারণা রাখতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীত স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যায়।’(ফাতহুল বারী ৯/৭৮৬)

সুতরাং মুসলিম দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ গুলোতে  গোশত খাওয়া জায়েয রয়েছে।এক্ষেত্রে সন্দেহ প্রবণতা পরিহার করা উচিত।মুসলমানকে এবং মুসলিম সমাজের মানুষকে বিশ্বাস করাই স্বাভাবিকতা। অবশ্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নিশ্চয়ই এসব থেকে দূরে থাকতে হবে।

(৪)
গরম পানিতে ভিজানো ব্যতিত অন্যকোনো ভাবে ড্রেসিং করতে হবে। গরম পানিতে ভিজিয়ে ড্রেসিং করলে,সেটা ভক্ষণ করা জায়েয হবে না।

(৫)
কুরআন হাদীসের সারমর্ম থেকে একথা বুঝা যায় যে, যতবেশী ফেট কমিয়ে রাখা যাবে,ততই ভালো।
সুতরাং ওজন বাড়ানোর জন্য খেজুর শশা মিলিয়ে খাওয়ার কথা হাদীসে আসার প্রশ্নই আসে না। পাকস্থলীর তিনভাগের একভাগ ভরে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

(৬)
না, সঠিক নয়।

(৭)
জবাই করার পর যা ভালো মনে হয়,সেটাই আপনি করতে পারবেন।আরবরা শিখ পুড়ে খেতো।আপনি চাইলে সেভাবেও খেতে পারবেন।

(৮)
কোনো প্রাণী জবাই এর ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার যদি জোরে না বলে মনে মনে বলে বা নিজে শুনতে পারে, তাহলেও সেই জবাই সঠিক হবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/880


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...