আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
558 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (48 points)
edited by
আসসালামুআলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ।

কেউ স্ত্রীকে নিয়ত ছাড়া যদি বলে তুমি আমার জন্য হারাম তাহলে কি তালাক হয়।মানে স্বামী স্ত্রী  কেউ ধরেন জানেই না এমনটা বললে তালাক হতে পারে শুনেও নি কোনদিন।এমনকি কেনায়া তালাক সম্পর্কেও শুনে নি ধরেন কোনদিন।পরে জানছে ধরেন।তাহলে কি তালাক হবে? অনেক আলেম বলে তালাক হয় আবার কেউ কেউ বলে নিয়ত ছাড়া বললে তালাক হয় না।তাই জানার জন্য আপনার কাছে প্রশ্ন করেছি।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


তালাক এটি খুবই মারাত্মক একটি শব্দ। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}

ফাতাওয়ার কিতাবে আছেঃ- 

أفتى المتأخرون فى “انت على حرام” بأنه طلاق بائن للعرف بلا نية (رد المحتار، زكريا-4\466، كرتاشى-3\253)

মুতায়াখখিরিনে উলামায়ে কেরামগন ফতোয়া প্রদান করেছেন "তুমি আমার উপর হারাম" বললে নিয়ত ছাড়াই বায়েন তালাক পতিত হবে। 
সমাজের প্রচলনের কারনে।
(ফাতাওয়ায়ে শামী ৪/৪৬৬)

في البحر الرائق: لو قال لها: أنت علي حرام، والحرام عنده طلاق وقع وإن لم ينو.وذكر الإمام ظهير الدين لا نقول لا تشترط النية ولكن نجعله ناويا عرفا.

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে, তুমি আমার উপর হারাম। আর হারাম শব্দটিকে সে তালাকের অর্থেই বুঝে থাকে তাহলে স্বামী তালাকের নিয়ত না করলেও তালাক পতিত হবে। ইমাম জহীরুদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা এ কথা বলি না যে, এ ক্ষেত্রে নিয়তের শর্ত নেই, নিয়ত ছাড়াই তালাক হয়ে যাবে। বরং আমরা বলি—সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি এমনিতেই নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। (আল-বাহরুর রায়িক : ৩/৫২৩)

في البحر الرائق: لو قال لها: أنت علي حرام، والحرام عنده طلاق وقع وإن لم ينو.
 (البحر الرائق، زكريا-3\523، كويته-3\300)

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে, তুমি আমার উপর হারাম। আর হারাম শব্দটি তালাকের অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই স্বামীর তালাকের নিয়ত না করলেও তালাক পতিত হবে। (আল-বাহরুর রায়িক : ৩/৫২৩)

فى الفتاوى التاتارخانيه: انت علي حرام والفتوى أنه يقع به البائن، وان لم ينو لغلبة الاستعمال.
 (تاتارخانية-4\448، رقم: 6637)

স্বামীর বক্তব্য “তুমি আমার উপর হারাম” এর দ্বারা তালাক বাইন পতিত হওয়ার উপরই হচ্ছে ফাতাওয়া। এ ধরনের বক্তব্যের বহুল ব্যবহার তালাকের জন্য হওয়ার দরুন স্বামী তালাকের নিয়ত না করলেও তালাকে বাইন পতিত হবে। (আল-ফাতাওয়াত তাতারখানিয়া : ৪/৪৪৮)

শরীয়তের বিধান হলো কেহ যদি তার স্ত্রীকে বলেঃ
তুমি আমার উপর হারাম,আমার জন্য হারাম।
তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।
এখানে নিয়তের প্রয়োজন নেই।
(ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ৯/২৮৪)

وإن الحرام في الأصل کنایة یقع بہا البائن، لأنہ لما غلب استعمالُہ في الطلاق لم یبق کنایة، ولذا لم یتوقف علی النیة أو دلالة الحال إلخ (الشامي زکریا: ۴/۵۳۰)

সারমর্মঃ

হারাম শব্দ প্রকৃত পক্ষে কিনায়া বাক্য,এর দ্বারা বায়েন তালাক পতিত হয়৷।  
তালাকের ক্ষেত্রে হারাম শব্দটির ব্যবহার ব্যাপক হওয়াতে এটি আর কিনায়া বাক্য হিসেবে নেই।

তাই নিয়ত না থাকলেও তালাক পতিত হবে।
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (3/ 252):

"ومن الألفاظ المستعملة: الطلاق يلزمني، والحرام يلزمني، وعلي الطلاق، وعلي الحرام فيقع بلا نية للعرف.

 (قوله: فيقع بلا نية للعرف) أي فيكون صريحا لا كناية، بدليل عدم اشتراط النية وإن كان الواقع في لفظ الحرام البائن لأن الصريح قد يقع به البائن كما مر، لكن في وقوع البائن به بحث سنذكره في باب الكنايات، وإنما كان ما ذكره صريحا لأنه صار فاشيا في العرف في استعماله في الطلاق لا يعرفون من صيغ الطلاق غيره ولا يحلف به إلا الرجال، وقد مر أن الصريح ما غلب في العرف استعماله في الطلاق بحيث لا يستعمل عرفا إلا فيه من أي لغة كانت، وهذا في عرف زماننا كذلك فوجب اعتباره صريحا كما أفتى المتأخرون في أنت علي حرام بأنه طلاق بائن للعرف بلا نية مع أن المنصوص عليه عند المتقدمين توقفه على النية".

সারমর্মঃ

এগুলো শব্দ নিয়য় ছাড়া বললেও তালাক পতিত হবে।
হারাম শব্দ প্রকৃত পক্ষে কিনায়া বাক্য,এর দ্বারা বায়েন তালাক পতিত হয়৷।  
তালাকের ক্ষেত্রে হারাম শব্দটির ব্যবহার ব্যাপক হওয়াতে এটি আর কিনায়া বাক্য হিসেবে নেই।

তাই নিয়ত না থাকলেও তালাক পতিত হবে।

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।
এক্ষেত্রে স্বামীর তালাকের নিয়ত থাকা না থাকার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। উক্ত স্বামীর জন্য স্ত্রীর সাথে ঘর-সংসার বহাল রাখতে হলে পুনরায় নতুন করে বিবাহ (আকদ) করা জরুরি।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...