আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
572 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (21 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম
আমার ফুফাতো ভাই দ্বীনদার বলা চলে, দ্বীনের পথে তার যাত্রা শুরু। সে তার ফ্যামিলি মাধ্যমে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি সবকিছু শুনে রাজি হই যেহেতু সে দ্বীনের পথে আছে। কিন্তু আমার ফ্যামিলি রাজি হচ্ছেনা। কিছুদিন আগে আমার খালাতো ভাই এর কথা বললে আমি না করে দেই কারন তাকে আমার কোনো দিক দিয়েই পছন্দ হয়নি। এখন ফুফাতো ভাই এর সাথে আব্বু আম্মু বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছেমা কারন ছেলের নিজস্ব বাড়ি নেই আর পড়াশোমার যোগ্যতাও আমার চেয়ে কম। তবে আলহামদুলিল্লাহ হালাল ইনকাম আছে যথেষ্ট। এতে আমার কোনো সমস্যা নাই, আমি কেবল তার দ্বীনদারিতা দেখে রাজি হয়েছি।

আব্বু আম্মু চাচ্ছে কালকে রাতে খালাকে ডেকে এনে জোর করে খালাতো ভাই এর সাথে বিয়ে দিতে। কিন্তু রাজিনা খালাতো ভাইকে বিয়ে করতে। খালাতো ভাইকে না করলে বললো এলাকার যাকে পাবে তার সাথেই বিয়ে দিয়ে দিবে তবুও ফুফাতো ভাই এর সাথে দিবেনা।
আমার ছোটো ফুফু বললো যেহেতু ছেলে মেয়ে রাজি, ছেলের পরিবারও রাজি তাহলে যদি এমন ঝামেলা আমার আব্বু আম্মু করে তাহলে ছোটো ফুফুর সাথে ফুফুর বাসায় চলে যেতে। ওখান থেকে ছোটো ফুফু আমার অভিভাবক হিসেবে থেকে বড় ফুফুর ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে।

এভাবে এই পরিস্থিতিতে বিয়ে করা কি জায়েজ আছে? আমি কি এটা করতে পারবো? তারাতো জোর করে আমাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাচ্ছে। মাবাবা রাজি না থাকলে ফুফু কি অভিভাবক হিসেবে বিয়ে দিতে পারবে?
by (37 points)
ছেলে বদ-দ্বীন হলে মেয়ের অধিকার আছে বিয়ে না করার। বদ-দ্বীন ছেলের কাছে বিয়ে দিতে অভিভাবক জোড় করতে পারবে না। যদি জোর করে তাহলে মেয়ের পছন্দমত দ্বীনদার ছেলে দেখে বিয়ে করার অধিকার আছে।

1 Answer

0 votes
by (806,910 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
পূর্বে অনেক ফাতাওয়াতে আমরা উল্লেখ করেছি যে,মাতাপিতার সম্মতি ব্যতীত কখনো কোনো মুসলমান যুবক যুবতীর জন্য কোর্ট মেরেজ করা সমীচীন হবে না,মঙ্গলজনক হবে না।মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হলেই কেবল বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।জানুন- https://www.ifatwa.info/994, কুফু সম্পর্কে জানতে https://www.ifatwa.info/780
চার মাযহাবের অবস্থান দলীল সহ বিস্তারিত জানুন- https://www.ifatwa.info/1525

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
এভাবে বিয়ে করলে যদিও বিয়ে হয়ে যাবে।তবে এভাবে মাতাপিতাকে অখুশি রেখে বিয়ে করা কখনো কাম্য হতে পারে না। সুতরাং আপনি মাতাপিতাকে সাথে নিয়েই বিয়ে করার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। মাতাপিতার চাহিদাকৃত পাত্র যদি বেদ্বীন হয়, এবং আপনার পছন্দসই পাত্র যদি দ্বীনদার হয়। অন্যদিকে মাতাপিতাকে বুঝানো কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয়, তাহলে আপনি যা ভালো মনে করেন, তাই করতে পারেন।তবে এক্ষেত্রেও মাতাপিতাকে রাজি করিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া উচিৎ।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (806,910 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...