আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
199 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আমি গার্মেন্টস এ জব করি, মার্চেন্ডাইজার পোস্ট এ।

আমার আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে জব হয়েছে "প্রিন্সিপাল অফিসার গার্মেন্টস " পোস্ট এ।
যেখানে, মেইন কাজ হলো - বিভিন্ন গার্মেন্টস যারা ব্যাংকের সাথে এলসি, দেশের বাহিরে থেকে কেনা কাটা, পেমেন্ট, ইত্যাদি দেখা শোনা করা লাগবে ব্যাংকের হয়ে।

এখন আমি কি এই জব এ জয়েন করবো? সেটা কি আমার জন্য হালাল হবে?

দয়া করে কোরআন হাদিসের আলোকে আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন।

1 Answer

0 votes
by (769,800 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

আমাদের দেশে যারা নিজেদেরকে শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক বলে দাবী করে,তারা যদি বাস্তবেই ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ব্যাংক চালায়,যেমনটি তারা দাবী করে থাকে,এর বিপরিত যদি কোনো কিছু প্রমাণিত না হয়, তাহলে সেখানে টাকা রাখা,লভ্যাংশ নেওয়া জায়েয হবে।  
★তবে আমাদের জানা মতে বাংলাদেশে কোন ব্যাংকই সঠিক পদ্ধতিতে ইসলামীক রুলস মেনে ব্যাংকিং করছে না। 
তাই এখানে ঢালাও ভাবে চাকুরী জায়েজ হবেনা।

বিস্তারিত জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন,
যেখানে সন্দেহ প্রবণতা থাকে, ইসলামি ব্যাংক গুলো শরয়ী বিধি মালাকে ফলো করছে কি না? হ্যা আমাদের জানামতে তারা ফলো করে না। সেই ভিত্তিতে আমরা বলবো আপনি প্রশ্নে উল্লেখিত জব-এ জয়েন হবেননা।

তবে সূদী সেক্টর ব্যতীত ভিন্ন সেক্টরে চাকুরীর করা অনুমোদন রয়েছে। 

বিস্তারিত জানুনঃ- 

যেসব পদ সুদি অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত নয়, যেমন- সিকিউরিটি, গাড়ি চালনা, মালি, সাধারণ শ্রমিক ইত্যাদি এসব চাকরি করা যাবে। শুধু সুদ দেয়া, নেয়া, সাক্ষী থাকা, লেখালেখি, কমিশন, অ্যাজেন্ট তথা সরাসরি সুদসংশ্লিষ্ট কাজগুলো করা জায়েয হবে না। 

কেননা, হাদীস শরীফে এসেছে, 

জাবের রাযি. বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ

‘রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ ভক্ষণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং সাক্ষীগণকে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, (গুনাহের ক্ষেত্রে) তারা সবাই বরাবর।’ (মুসলিম ১৫৯৮)

তবে সর্বাবস্থায় এখানে চাকরি না করাটাই হবে তাকওয়ার পরিচায়ক। 

কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর। (সূরা তাগাবুন ১৬)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لاَ يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لاَ بَأْسَ بِهِ حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ

কোন বান্দা ক্ষতিকর কাজে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে বৈধ অক্ষতিকর বিষয় না ছেড়ে দেয়া পর্যন্ত মুত্তাকীদের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারবে না। (তিরমিযি ২৪৫১)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...