আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
128 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (19 points)
আসসালামু আলাইকুম  হুজুর। আগের প্রশ্ন: https://ifatwa.info/128636/  তার সাথে যোগাযোগ  বন্ধ করেছি। হুজুর কি করে আমল বাড়াবো, দুনিয়াবি পড়াশুনার পাশাপাশি কি কি করতে পারি।আর কিভাবে শয়তান এর ধোকা থেকে বাচতে পারি? ইবাদত আমলে কিভাবে consistency মেন্টেইন করবো?
হুজুর অনুগ্রহ করে উচ্চারণ  সহ একটি কুরান এপ সাজেস্ট করুন।
আগের প্রশ্নের উত্তের আমায় দ্রুত বিবাহের উপদেশ দেয়া হয়েছে,,, কিন্তু তা তো সম্ভব না, আমার পরিবার মুসলিম না।তাহলে আমি কি করতে পারি?  আর আমি বিবাহ করেছিলাম ঠিকই,, কিন্তু পরবর্তী তে সম্পর্কটা তো হারাম ছিল,,,আমি কি তাহলে কখনো ভালো স্বামী পাবো?

হুজুর,যদি শরীরের কোনো জায়গায় ইনফেকশন বা এমন কিছু হয়,আর ৫ ওয়াক্ত ই গরম পানি ব্যবহারের সু্যোগ না থাকে তাহলে ঔই পার্টিকুলার জায়গায় পানি না দিলে ওজু হবে?

আমি যতটুকু জানি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে নাজায়েজ জিনিস জায়েজ হয়,উদাহরণ সরুপ  মিথ্যা বলা,বা ওজুর বিষয়ে তায়ামুম,,,,,আরও অনেক কিছু।আমি কি করে সিউর হব যে আমার সমস্যা এনাফ ভেলিড ছাড় দেয়ার জন্য?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

আনাস রাযি. বলেন, রাসুল ﷺ (উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য) সব সময় এই দোয়া করতেন, 

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِىْ عَلىٰ دِيْنِكَ 

হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তর আপনার দীনের উপর দৃঢ় করে দিন।

আনাস রাযি. বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার উপর এবং আপনার আনিত শিক্ষার উপর ঈমান এনেছি। এখন আপনার মনে কি আমাদের সম্পর্কে কোনো সন্দেহ আছে? ( যে বেশি বেশি এই দোয়া করেন!) রাসুল ﷺ উত্তর দিলেন হ্যাঁ! সব অন্তর আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মধ্যে পড়ে আছে। আল্লাহ যেভাবে চান, এগুলোকে পরিবর্তন করেন। (তিরমিযি ২১৪০ তাকদির অধ্যায়)

★সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করবেন।

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ দোয়া করতেন,

اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَن زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا

হে আল্লাহ আমাকে তাকওয়ার তওফীক দান করুন এবং নাফসকে পবিত্র করুন, আপনিই তো উত্তম পবিত্রকারী। আর আপনিই আমার নাফসের মুরুব্বী ও পৃষ্ঠপোষক। (মুসলিম ২৭২২)

সুতরাং আপনিও দোয়াটি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

নেককারদের সোহবত গ্রহণ করুন। তাদের সাথে বেশি উঠাবসা করুন।

মাহরাম পুরুষ এর সাথে মাস্তুরাত জামাতে যেতে পারেন।
এতে নফস নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাওবার উপর অটল থাকা আপনার জন্য সহজ হবে। 

 আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সূরা আত তাওবাহ ১১৯)

অধিকহারে ইস্তেগফার করুন। প্রয়োজনে এর জন্য প্রত্যেক নামাজের পর একটা নিয়ম করে নিন। যেমন, প্রত্যেক নামাজের পর ৫০/১০০/২০০ বার أسْتَغْفِرُ اللهَ   অথবা أسْتَغْفِرُ اللهَ وَأتُوبُ إلَيهِ অথবা  اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي পড়ার নিয়ম করে নিতে পারেন। 

★কখনো একাকী নিভৃতে থাকবেন না। কেননা একাকীত্ব গোনাহ চিন্তা করার কারণ হতে পারে। আপনার সময়কে উপকারী বিষয়ে ব্যয় করতে সচেষ্ট হোন। ঈমান ও ইসলামের পরিবেশে সময় ব্যয় করুন।

আপনাকে বেশি পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করার ও শোনার পরামর্শ দিচ্ছি। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا

আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। (সূরা আনফাল ২)

অনুরূপভাবে আমরা আপনাকে বুঝে বুঝে নবীদের কাহিনী, সাহাবায়ে কেরামের জীবনী পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। 

★অধিকহারে আল্লাহর যিকির করুন। কেননা, দুর্বল ঈমানের সুস্থতার জন্য যিকির খুবই উপকারী। আল্লাহর যিকির অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করে। মুমিনের অন্তর যিকিরের মাধ্যমে প্রশান্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়। (সূরা রা’দ ২৮)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
দ্বীনি ইলমের স্বল্পতা এবং দ্বীনি পরিবেশ দেখার দৈন্যতার দরুন এমনটি হচ্ছে।

আপনি দ্বীনি পরিবেশকে কখনো কাছ থেকে অবলোকন করেননি, দ্বীনদার কারো সাথে আপনার তেমন সখ্যতা কখনো গড়ে উঠেনি। 

এত্থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হল, যেহেতু আপনি একজন নারী, তাই নারী হিসেবে একজন দ্বীনদার নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। 

প্রয়োজনে অনলাইনে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করবেন। দ্বীনি কিতাবাদি পড়বেন। ইসলামের ইতিহাস ও ঈমানে প্রেরণা দেয়, এমন কিতাবাদি পড়বেন। আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুক।আমীন। এইভাবে আ'মল করে নিলে ধীরে ধীরে অলসতা কমে যাবে।

আরো জানুনঃ- 

★আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় পবিত্র কোরআনের সঠিক উচ্চারণ অসম্ভব। তাই কোরআনকে অন্য ভাষায় লেখা বা পড়া ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে নাজায়েজ। এতে কোরআনের শব্দ ও অর্থ বিকৃত করা হয়, যা সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত বাংলা উচ্চারণের কোরআন পড়ার কোনো সুযোগ নেই। 
(আল ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, পৃষ্ঠা : ৮৩০)

আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যারা সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত করে, তারা নেককার সম্মানিত ফেরেশতাদের সমতুল্য মর্যাদা পাবে এবং যারা কষ্ট সত্ত্বেও কোরআন সহিহ-শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা ও মেহনত চালিয়ে যায়, তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৫৪)

★কোরআন মাজিদ আল্লাহ তা’আলার কালাম।
আল্লাহ তাআলা তা আরবিতে অবতীর্ণ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে,
‘নিশ্চয় আমি আরবি কোরআন অবতীর্ণ করেছি।’ [সূরা ইউসুফ: ২]

তাই আমাদের জন্য জরুরি হলো আরবিতেই কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা। বাংলায় উচ্চারণ করা ঠিক নয়।
তাছাড়া আরবিতে এমন কিছু অক্ষর রয়েছে যেগুলোর প্রতিবর্ণ বাংলা ভাষায় নেই।
ফলে সে অক্ষরগুলো উচ্চারণ করার সময় ভুল উচ্চারণ করার কারণে আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
কুরআনের বাংলা উচ্চারণ এর ক্ষেত্রে ভূল হওয়াটা স্বাভাবিক।

আপনার জন্য উচিত বিশুদ্ধ ভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য শুরু হতে কাহারো কাছে শিক্ষা অর্জন করা,আর কোনো শুদ্ধ পড়নেওয়ালার কাছ হতে সুরা ফাতেহা সহ কমপক্ষে ৫ টি সুরা নামাজে তিলাওয়াত জন্য  শিখে নেয়া।

এভাবে বাংলা দেখে না পড়াই উচিত।
কেননা এখান ভূল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। 

★তাই আমরা বাংলা উচ্চারণ এর App এর পরামর্শ দিতে পারছিনা।

★শরীয়তের বিধান অনুসারে বিবাহের পরামর্শ থাকবে।
আপনি আপনার পরিবারের সাথে যদি থাকেন, সেক্ষেত্রে তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিবাহের চেষ্টা করবেন।

তারা যদি আপনার বিবাহের কোনরকম সাহায্য না করে, সেক্ষেত্রে অনলাইনে আপনি বায়োডাটা দিতে পারেন নির্ভরযোগ্য কোনো সাইটে, আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য ইনশাআল্লাহ দ্বীনদার কোন পাত্র মিলিয়ে দিবেন।

★ যদি সব জায়গায় পানি পৌঁছানো ক্ষতিকর হয় সেক্ষেত্রে অন্যান্য অঙ্গ ধৌত করে ক্ষতস্থানের উপর হাত ধরা মাসাহ করে নিলেই হয়ে যাবে। আর যদি সেই জায়গায় পানি পৌঁছানো ক্ষতিকর না হয়, সেক্ষেত্রে ক্ষতস্থানেও পানি পৌঁছাতে হবে।
চাউ গরম পানি হোক বা অন্য কোনোভাবে হোক।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...