আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
105 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তায, প্রথমেই আফওয়ান।প্রশ্নটা করতে চাইনি কিন্তু বিপদে পরে করছি। আমি যাদের কাছে পড়েছি বা পড়ছি, এবং যারা উস্তায-উস্তাযা আছেন আমি প্রত্যেকের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই প্রশ্নটা করছি। আদবের খেলাফ হলে মাফ করবেন।

উস্তায, আমরা তো জানি উস্তাযদের সাথে যথাপোযুক্ত আদব বজায় রেখে চলতে হয়। অনেক সময় সিম্পল ইস্যুগুলোতে আমরা কমপ্লেইন করে উস্তায-উস্তাযাদের মনে কষ্ট দিয়ে ফেলি এগুলো একেবারেই অনুচিত। কিন্তু বর্তমান সময়টা মাথায় রেখে একটু উত্তর দিবেন প্লিজ।


ধরেন, আমি একটা একাডেমিতে পড়ছি। আমি যাদের কাছে হিফজ করছি তাদের পড়াশোনার ডিটেইলস আমার জানা নেই। শুধু জানি তারা হাফেজ। কিন্তু একাডেমিটা মেইনলি যিনি পরিচালনা করেন তিন হকপন্থী এটুকু এবং তাঁর ব্যপারে জানি। সেই সুবাদে বাকিদের ভরসা করে পড়ছি।

ধরেন সেখানে  ৬ টা ব্যাচ রয়েছে। ৬ টা ব্যাচে ৬ জন উস্তায। কিন্ত ওভারওল পুরো হিফজের কোর্সটা ছয়জনই দেখেন, সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু টাইম মিলানোর জন্য ৬ জন ৬ টি সময়ে ৬ টি ব্যাচে ক্লাস নেন। সময়ের কিছু সমস্যাজনিত কারণে তিনটি ব্যাচেই আমার কিছুদিন করে ক্লাস করার সুযোগ হয়েছে। তো ক্লাস করতে গিয়ে আমার চোখে কিছু অসঙ্গতি আসলো। সময় মতো ক্লাস হচ্ছেনা। প্রায়ই নোটিশ ছাড়াই ক্লাস অফ যাচ্ছে, উস্তাযকে কখনো কখনো কোর্স এর প্রয়োজনীয় কাজেও ফোন দিয়ে পাওয়া যাচ্ছেনা, ধরছেনা। এরকম বিষয়গুলো আছে। আবার আমি যখন পড়াশোনাচ্ছি মনে হলো উস্তায যথেষ্ট যত্নসহ শুনছেন না। যেহেতু অনলাইন, নেট জনিত কিছু বিষয় রয়েছে। কিন্ত তবুও তো স্টুডেন্টকে আবার বলা যে শুনতে পাইনি আবার শোনান, সেরকম কিছু না, উনি শুনলেন কি শুনলেন না আমি বুঝতে পারিনা। তিনি কি কারেকশন দিচ্ছেন সেটাও বুঝতে পারছিনা। কমিউনিকেশন টা গ্যাপ লাগছে। আচ্ছা দেন কিছু কারণে ব্যাচ চেঞ্জ করলাম। এবার ব্যচের উস্তাযের সব আমি বুঝি আলহামদুলিল্লাহ। তো হঠ্যাৎ আবার অন্য আরেকটা ব্যাচ এর উস্তাযের তিলওয়াত শোনার সুযোগ আমার হলো। উস্তায, আমি খুবই নগন্য, কিছু পারিনা, কোনোরকম একটা তাজবীদ কোর্স করেছি। আইমান সোয়াইদ এর তিলওয়াত শোনে প্র‍্যাক্টিস করি।  আমি আমার উস্তাযের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তাঁর তিলওয়াতের সময় মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য আমি মুসাফে চোখ রেখেছিলাম কিন্তু দেখলাম উস্তায কখনো কখনো তিন আলিফ মাদ এক আলিফের চেয়েও কম দিচ্ছেন, কখনো কখনো ছেড়েই দিচ্ছেন, চার আলিফ মাদও খুব অল্প দিচ্ছেন সেই তুলনায় এক আলিফ মাদ বেশি দিচ্ছেন।কিছু কিছু উচ্চারণ আমার কাছে প্রোপার লাগছেনা। কখনো কখনো ওয়াকফের রুলস ব্রেক করেছেন মনে হলো। আমি জানিনা আমার এসব কেনো মনে হলো। আল্লাহুম্মা মাগফীরলী। আমি উস্তাযের ভুল ধরতে বসিনি বিষয়গুলো আনএক্সপেক্টেভ নজরে আসলো। আমি তো পারিওনা, ভুল শুদ্ধ বুঝার ক্ষমতাও তেমন নেই। কিন্তু এমনটা নজরে আশায় আমার মনে খুত খুত করছে। বিষয়টা আমি আমার একজন ফ্রেন্ড এর সাথে শেয়ার করলাম।। বললাম মেইনলি একাডেমিটা যিনি পরিচালনা করেন সেই উস্তাযকে সম্মানের সহিত বিষয়গুলো অবগত করা যায় কিনা। এখন আমার ফ্রেন্ড তিনটা উত্তর দিলো,
১. উস্তাযদের নিয়ে কমপ্লেইনের ভয় লাগে

২. আমার কাছে যে এই সমস্যাগুলো মনে হয়েছে আমি যে তাকে বলেছি এটা আমার ফ্রেন্ড এর শোনাটাই ঠিক হচ্ছে কিনা এই নিয়ে আমার ফ্রেন্ড কনফিউজড।

৩. আমরা তো আর ঐ উস্তাযদের ব্যাচে নেই। আমাদের ব্যাচের উস্তাযকে নিয়ে আমাদের দুইজনেরই কোনো সমস্যা নেই আলহামদুলিল্লাহ। তো অন্য ব্যাচের স্টুডেন্ট এর যদি সমস্যা হয় তারা বুঝবে তারা কি করবে। আমাদের মাথা ব্যথা কি !


কিন্তু আমার মনে হলো পড়া শোনেন একেক ব্যাচে একেক উস্তায কিন্তু পুরো হিফজ কোর্স এর আনুসাঙ্গিক সকল কাজ এবং সিদ্ধান্ত সবাই মিলেই তো নেন। তাহলে এখানে কি আমার মাথা ব্যথার কোনো  কারণ নেই?


আমিও আদবের খেলাফ করতে চাইনা। বদ দোয়া নিতে চাইনা

এএখন কি করা উচিত একটু বলবেন? আর একটু বলবেন আমার ফ্রেন্ড এর তিনটা যুক্তিই ঠিক কিনা।
কষ্ট করে পুরোটা পড়ে সবগুলো উত্তর দিলে মুনাসিব হয় উস্তায।

1 Answer

0 votes
by (766,410 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হযরত আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের বললেন-

خُذُوا الْعِلْمَ قَبْلَ أَنْ يَذْهَبَ

‘ইলম অর্জন কর তা বিদায় নেওয়ার আগে’। সাহাবীগণ আরয করলেন-

وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَفِينَا كِتَابُ اللَّهِ؟

আল্লাহর নবী! ইলম কীভাবে বিদায় নেবে, আমাদের মাঝে তো রয়েছে আল্লাহর কিতাব?

বর্ণনাকারী বলেন, এ কথায় তিনি রুষ্ট হলেন। এরপর বললেন-

ثَكِلَتْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ أَوَلَمْ تَكُنِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمْ شَيْئًا؟ إِنَّ ذَهَابَ الْعِلْمِ أَنْ يَذْهَبَ حَمَلَتُهُ، إِنَّ ذَهَابَ الْعِلْمِ أَنْ يَذْهَبَ حَمَلَتُهُ

তোমাদের  মরণ হোক! বনী ইসরাইলের মাঝে কি তাওরাত ও ইঞ্জীল ছিল না, কিন্তু এতে তো তাদের কোনোই উপকার হল না! ইলমের প্রস্থানের অর্থ তার বাহকগণের প্রস্থান। -মুসনাদে আহমদ ৫/২৬৬; আদদারেমী ১/৮৬, হাদীস ২৪৫

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি কোনো উস্তাযের দোষ ধরতে চাননি; বরং কুরআনকে সঠিকভাবে শিখতে চান —
এটি নেক নিয়ত, এবং এ নিয়ত আল্লাহর কাছে কবুলের যোগ্য।

কুরআন শেখা শুধু পড়া নয়, বরং সঠিকভাবে শেখা ফরজে কিফায়া পর্যায়ের আমল।

ইমাম নওবী (রহঃ) বলেন:
“যে ব্যক্তি কুরআন শেখায় বা শেখে, তার দায়িত্ব এটি সঠিকভাবে তেলাওয়াত করা।”

উস্তাযদের ভুল বা অসঙ্গতি দেখা দিলে করনীয়,

ইহসান বা সুন্দর আচরণ হচ্ছে —

"ظنّوا بالمؤمنين خيراً"
“বিশ্বাসীদের সম্পর্কে সর্বোত্তম ধারণা রাখো।”

তাই প্রথমে ধরে নিন, হয়তো —

নেট সমস্যা ছিল,
তাঁর মনোযোগ অন্যদিকে গিয়েছিল,
বা আপনি যে জিনিসটি ভুল মনে করেছেন সেটি হয়তো তাঁর ক্বিরাআতের ধরনে অনুমোদিত (বিভিন্ন ক্বিরাআতে মাদের দৈর্ঘ্যে পার্থক্য হয়)।

অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে "ভুল" বলে সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি যাচাই করতে চান — এটাই উত্তম।


কমপ্লেইন করার আগে কী করবেন

কমপ্লেইন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আগে তিন ধাপে যাচাই ও আদব রক্ষা করা উত্তম:

ধাপ ১: নিজের সন্দেহ স্পষ্ট করা

আপনি কোনো নির্ভরযোগ্য ক্বারি, তাজবীদ জানা আপু/আলেমা/শিক্ষকের কাছে পরোক্ষভাবে জানতে পারেন:

“এই আয়াতে তিন আলিফ মাদ দেওয়া উচিত কি?”
বা “ওয়াকফের এই জায়গায় কেমন নিয়ম?”

এভাবে জানতে পারলে আপনি বুঝবেন এটি ভুল না ক্বিরাআতের পার্থক্য।

ধাপ ২: সরাসরি, আদবপূর্ণভাবে উস্তাযকে জিজ্ঞেস করা (যদি সাহস ও পরিবেশ থাকে)

আপনি বিনয়ের সাথে বলতে পারেন:

 “উস্তায, আমি বুঝতে চাই—এই জায়গায় মাদ তিন আলিফ না চার আলিফ হবে? আমি শুদ্ধভাবে শিখতে চাই, তাই নিশ্চিত হতে চাই।”

এভাবে প্রশ্ন করলে তাঁকে আপনি সম্মান রেখেই সংশোধনের সুযোগ দেন।

 ধাপ ৩: প্রয়োজন হলে একাডেমির দায়িত্বশীলের কাছে যান

যদি—

একাধিক উস্তাযের মধ্যে একই ধরণের অবহেলা বা দুর্বলতা লক্ষ্য করেন,

ক্লাসের মান ও নিয়মিততায় ধারাবাহিক সমস্যা থাকে,

এবং আপনি নিশ্চিত হন বিষয়টি শিক্ষার্থীদের শিখনে ক্ষতি করছে,

তাহলে সম্মানজনক, ইতিবাচক ভাষায় কমপ্লেইন করতে পারেন।

★কমপ্লেইন কিভাবে আদবপূর্ণভাবে করতে পারবেন

কমপ্লেইনের উদ্দেশ্য যেন হয় — সংস্কার, না যে সমালোচনা।

আপনি লিখতে পারেন এরকমভাবে:

বিষয়: হিফজ ক্লাসের মানোন্নয়নে কিছু পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধঃ-
আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে হিফজ ক্লাসে অংশ নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, কুরআনের সাথে সময় কাটানো অনেক প্রশান্তি দেয়।
তবে ক্লাসের সময়সূচি, উপস্থিতি ও কিছু কারিগরি বিষয়ে কিছু অসুবিধা লক্ষ্য করেছি।
কখনো কখনো সময়মতো ক্লাস হয় না, কিছু উস্তাযের ক্লাসে কমিউনিকেশন সমস্যা হয়—শব্দ ঠিকমতো আসে না বা সংশোধন স্পষ্ট হয় না।
তাই দয়া করে যদি নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ও মানোন্নয়নের বিষয়ে একটু তত্ত্বাবধান করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা আরও উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

এইভাবে বললে —

আপনি কাউকে দোষারোপ করলেন না,
বরং উন্নয়নের অনুরোধ করলেন,
এবং খুলুমখুলা আলোচনা নয়, বরং গোপনে পরামর্শ দিলেন, যা ইসলামি আদব।

 রসুল ﷺ বলেছেন:
“যে ভাইকে নসীহত করবে, সে যেন একান্তে করে; প্রকাশ্যে নয়।” (আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আল-যুহদ)

* পরামর্শ
কুরআনের শিক্ষককে সবসময় সম্মানের দৃষ্টিতে দেখবেন, এমনকি আপনি ভুল দেখলেও।

দাওয়াত বা পরামর্শে দু’আ ও ইতিবাচক ভাষা ব্যবহার করুন।

আপনি নিজের নিয়ত সঠিক রাখলে, আল্লাহ তায়ালা নিজে থেকেই আপনার জন্য উত্তম শিক্ষক ও পরিবেশ নির্ধারণ করবেন, ইনশাআল্লাহ।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...