জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার ১৩ বছর আগের নামাজ রোযা কাযা আদায় করতে হবেনা।
(০২)
আপনি যেহেতু তখন নাবালেগাহ ছিলেন,তাই আপনার উপর কাফফারা আবশ্যক হবেনা।
(০৩)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। সূরা বাকারা,১৮৭
★চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বে সেহরীর শেষ টাইম লিখে দেয়া থাকে, সুতরাং নিজ ইবাদতকে হেফাজত করার স্বার্থে সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বেই খাবারদাবার শেষ করা ও উচিৎ ও জরুরী।তবে যদি সঙ্গত কোনো কারণে দু-তিন মিনিট দেড়ী হয়ে যায়,তাহলেও রোযা হবে।কেননা ৩ মিনিট তো রিজার্ভ রয়েছে।যা প্রয়োজনের মূহুর্তে ব্যবহার করা হবে।কিন্তু ৩ মিনিট থেকে একটি মূহুর্তও আর ক্ষমাযোগ্য হবে না।
আরো জানুনঃ-
https://www.ifatwa.info/1959
আপনার এলাকায় আজকে সাহরীর শেষ টাইম কত?
আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর মধ্যেই যদি আপনি পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হয়ে যাবে।
আর যদি আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ৩ মিনিট পর পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হবেনা।
এ রোযা পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে হবে।
এক্ষেত্রে সময় সম্পর্কে কিছুই জানা না থাকলে আপনি প্রশ্নে উল্লেখিত মসজিদের মুয়ায্যিন সাহেবের থেকে জেনে নিবেন যে তিনি আসলে আজকে সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার কয় মিনিট পর আযান দিয়েছেন।
সব কিছু বিবেচনা করে আপনি যদি আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর মধ্যেই যদি আপনি পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হয়ে যাবে।
নতুবা এ রোযা হবেনা।
পরবর্তীতে এই রোযার কাজা আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে দিনের বেলা খাবার খেলে গুনাহ হবেনা। তবে রোযাদারদের সামনে খাবার খাওয়া যাবেনা।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর মধ্যেই যদি আপনি পানি পান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে উক্ত রোযা গুলি হয়ে যাবে।
কোনো কাজা কাফফারা আদায় করতে হবেনা।
আর যদি আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর খেয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে কাজা আদায় করতে হবে।
কাফফারা আদায় করতে হবেনা।
(০৪)
না,আদায় করতে হবেনা।
(০৫)
প্রশ্নের বিবরণ মতে কোনোটিই জায়েজ হবেনা।
হ্যাঁ যদি অসুস্থতা বশত কোনো অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তার যদি এভাবে চুল কেটে ফেলতে বলে সেক্ষেত্রে তার অনুমোদন রয়েছে।
মহিলাদের চুল কাটার ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
মাথায় ক্ষত থাকলে, ক্ষত এবং তার চারপাশের চুল প্রয়োজন অনুযায়ী কাটা যেতে পারে। একইভাবে, যদি মাথার চুল খুব লম্বা হয়ে যায় এবং মহিলা বৃদ্ধ এবং দুর্বল হয়ে পড়েন, যার ফলে ওযু করার সময় চুল মুড়িয়ে রাখা এবং সামলানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে তিনি নিতম্বের কাছে কিছু চুল কেটে ফেলতে পারেন। এছাড়াও, যদি চুলের প্রান্ত দ্বিখণ্ডিত হয়, যার ফলে চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং দেখতে অসুন্দর লাগে, তাহলে চুলের প্রান্ত কেটে ফেলা যেতে পারে। এগুলো ছাড়া, অন্যান্য সাধারণ পরিস্থিতিতে, নারীর জন্য চুল কামানো বা ছোট করা জায়েয নেই।
,
সুতরাং জটিল অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে চুল ছোট করা, এমনকি জরুরতবশতঃ কামানোরও (সম্পূর্ণ টাক হওয়ার) অনুমতি রয়েছে।
,
তবে সর্বাবস্থায় ফ্যাশনের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে মহিলারা তাদের চুল কাটতে পারবে
এবং নয় বৎসর বয়স থেকে চুল রাখা জরুরী,কেননা নয় বছর বয়স থেকেই মহিলার মধ্যে পুরুষ আকৃষ্টকারী অবয়ব সৃষ্টি হয়ে যায়,এবং তখন থেকেই পর্দা জরুরী হয়ে যায়।
বিস্তারিত জানুনঃ-
(০৬)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيْهِمَا فَقَرَأَ فِيْهِمَا(قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ)وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ) ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, প্রতি রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় যাওয়ার প্রাক্কালে সূরাহ ইখ্লাস, সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস পাঠ করে দু’হাত একত্র করে হাতে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে আরম্ভ করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন। [বুখারী শরীফ ৫০১৭.৫৭৪৮, ৬৩১৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪৮)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি পাক বিছানায় ঘুমানোর চেষ্টা করবেন।
আপনি যেই অবস্থায় থাকুন না কেনো,প্রত্যেক রাতে ঘুমানোর আগে অযু করবেন,আয়াতুল কুরসী পড়বেন,তিন কুল তিনবার পড়ে পুরো শরীর তিনবার ফুক দিবেন।
একাকী ঘুমাবেননা।
প্রয়োজলে লাইট জ্বালিয়ে রেখে ঘুমাবেন।
,
ইনশাআল্লাহ আর কোনো সমস্যা হবেনা।