আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
86 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আমি (একজন মেয়ে) একসময় হারাম সম্পর্কের মধ্যে ছিলাম। সেই সময়ে একদিন ছেলেটি আমাকে ফোন করে বলল, “চলো আমরা বিয়ে করি, তুমি বলো ‘আমি কবুল করছি।’” এরপর আমরা দুজনেই তিনবার করে বলেছিলাম “আমি কবুল করছি।” আমার সামনে কোনো সাক্ষী ছিল না, এবং আমি জানি না তার সামনে কেউ ছিল কি না। আমার বাবা-মাও এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ছেলেটা সব দিক দিয়ে আমার থেকে গরিব এবং অশিক্ষিত ছিল।পরে আমি তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। তারপর অনেক বছর পর আমি আমার পছন্দ মত অন্য একজনকে বিয়ে করি। আমিই আমার বাবাকে জানিয়েছিলাম যে আমি এই ছেলেকে বিয়ে করতে চাই। বিয়েতে অনেক অতিথি উপস্থিত ছিলেন, সাথে দুইজন সাক্ষীও ছিলেন। আমার বাবা, আমি এবং আমাদের পুরো পরিবার এই বিয়ে নিয়ে খুশি ছিল।বিয়ের সময় ইজাব-কবুলে (Marriage Proposal and Acceptance) প্রথমে আমার স্বামী “কবুল” বললেন। যখন আমার পালা আসে, আমি কিছুক্ষণের জন্য দ্বিধা করলাম, কারণ মনে হচ্ছিল যদি আমি সঙ্গে সঙ্গে বলি, মানুষ খারাপ ভাবতে পারে। তাই আমি তখন “কবুল” বলিনি। ভেবেছিলাম আবার জিজ্ঞেস করলে বলব কিন্তু এরপর আমার বাবাই বললেন, “হ্যাঁ, সে রাজি আছে।” এরপর আমি এবং আমার স্বামী দুজনেই বিয়ের কাগজে (Nikahnama) স্বাক্ষর করি।

আমার বিয়েতে সব সম্পূর্ণরূপে আমার ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছিল।

আরেকটা কথা হলো সাক্ষর দেওয়ার পর আমি উকিলকে বলি আমিতো কবুল উচ্চারণ করি নি, তিনি আমার বাবা এবং স্বামীর সামনে আমাকে জিজ্ঞেস করেন আপনি কি বিয়েতে রাজি ছিলেন? আমি বললাম, জ্বি। এই কথা সাক্ষীরা শোনে নি।তখন তিনি বললেন বিয়ে হয়েছে আপনার।আরেকটা কথা হলো কেন যেন বিয়ের সময় আমার মনে এমনিতেই আসতেছিল যে না আমি এই বিয়েতে রাজি না।কেন আমি মনে মনে এমনটা বললাম আমি জানি না।তারপর খাওয়া শেষ করে আমাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

আমার বিয়ে কি বৈধ হয়েছে??. ১ম বারের টা কি বাতিল হয়েছে??

1 Answer

0 votes
by (805,920 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
দারুল উলূম দেওবন্দের একটি ফাতাওয়ায় লোকদের সহজতার জন্য এ সম্পর্কে বলা হয় যে, যদি পাত্র পাত্রী উভয় বিয়ে নিয়ে সন্তুষ্ট ও সম্মত থাকে, এবং মৌখিক ইজাব কবুল না করে বরং দস্তখত করে নেয়, তাহলে সহজতার নিমিত্তে এই বিয়ে বিশুদ্ধ হয়ে যাবে।

Fatwa:209-1375/L=1/1440
اگر لڑکی کو یہ معلوم تھا کہ یہ نکاح نامہ ہے اور لڑکی نے بغیر کسی جبر واکراہ کے اس پر دستخط کردیا تھا تو نکاح صحیح اور درست ہوگیا۔

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সাধারণ শুধুমাত্র দস্তখত দ্বারা বিয়ে সংগঠিত হয় না। তবে যদি কখনো অজ্ঞতাবশত দস্তখত দ্বারা বিয়ে হয়ে যায়, মুখে ইজাব কবুল না হয়, এবং সংসারও হয়ে যায়, তাহলে উক্ত বিবাহকে বৈধ বিবেচনা করা হবে। এটা মূলত মূল বিধান থেকে সরে এসে সহজতার জন্য কিছু সংখ্যক ফুকাহায়ে কেরাম মতামত দিয়েছে। হ্যা, আমাদের দৃষ্টিতে এমতাবস্থায়ও বিবাহ নবায়ন করে নেওয়া উচিত।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/8800

সম্মণিত প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরনমতে আপনার প্রথম বিয়ে যেহেতু মুবাইল কলে হয়েছে, তাই সেই বিবাহ শুদ্ধ হয় নাই তবে দ্বিতীয় বিবাহ হয়েছে। বিবাহ নবায়ন লাগবে না। তারপরও মনের মধ্যে সন্দেহ বারংবার উদিত হলে, আপনি বিবাহকে নবায়ন করে নিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
বিয়ে নবায়ন করে কিভাবে? এখানে কি অগের সাক্ষী দের রাখতে হবে?
by (805,920 points)
নতুন ভাবে বিয়ে করা। নতুন মহরের মাধ্যমে শরয়ী সাক্ষীর উপস্থিতিতে (চায় আগের সাক্ষী হোক বা নতুন সাক্ষী হোক) ইজাব কবুলের নামই বিয়ে নবায়ন। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...