আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
81 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (5 points)
edited by

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

সম্মানিত মুফতি সাহেব ইফতা বিভাগের খিদমতে বিনীত নিবেদন এই যে—

আমি নিয়মিত আপনাদের প্রকাশিত ইফতোয়া ও প্রশ্নোত্তরসমূহ পাঠ করে থাকি। এতদিন প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয়নি। আজ প্রথমবার একটি মাসআলা স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আপনাদের নিকট প্রশ্ন পেশ করছি।

প্রায় তিন বছর আগে আমি কেবল জানার উদ্দেশ্যে মুফতি ইমদাদুল্লাহ সাহেবকে ফোন করে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করেছিলাম। প্রশ্নটি ছিল— একজন ব্যক্তি যদি ওয়াসওয়াসার রোগে আক্রান্ত থাকে এবং সে যদি স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার সময় তালাক উচ্চারণ করে বা ডিভোর্স দেয়, তাহলে কি সে তালাক কার্যকর হবে? তখন আমাকে জানানো হয়েছিল যে, এ অবস্থায় তালাক কার্যকর হবে না, অর্থাৎ তালাক পতিত হয়নি।

কিন্তু পরবর্তীতে আমি আপনাদের ইফতা বিভাগের প্রকাশিত আরও কিছু ফতোয়া ও মাসআলা পড়েছি, যেখানে বলা হয়েছে— ওয়াসওয়াসার রোগী যদি রোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো জোর-জবরদস্তি ছাড়া, শান্তচিত্তে ও স্বেচ্ছায় তালাক প্রদান করে, তাহলে সে তালাক পতিত হয়ে যাবে।

এখন এ বিষয়ে আমার কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা বিনীতভাবে পরিষ্কার করে জানার আবেদন জানাচ্ছি—

১. প্রথম ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয়নি বলা হয়েছিল—এর নির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? আর ইফতায় প্রকাশিত সেই সব ফতোয়ায়, যেখানে প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে ওয়াসওয়াসার রোগী স্বেচ্ছায় তালাক দিয়েছে—সে ক্ষেত্রে কেন তালাককে কার্যকর হয়েছে বলা হয়েছে?

২. আরও স্পষ্টভাবে জানতে চাই—

  • ক।পূর্বে কি এমন কোনো কওল বা মত অনুসরণ করা হতো যে, ওয়াসওয়াসার রোগী স্বেচ্ছায় তালাক দিলেও তা কার্যকর হবে না?কারন একটি মাসালায় দেখলাম একজনকে বলা হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত দুজন মুসলিম ডাক্তার ও পরিবারের কেউ  সাক্ষ্য দিবেনা যে সে সুস্থ হয়েছে তার তালাক হবে না।আরেক জায়গায় দেখলাম বলা হয়েছে ওয়াসওয়াসার রুগি সারাদিন কুফরি কথা বল্লেও কাফের হবে না।

  • খ।নাকি বর্তমানে আপনারা কওল পরিবর্তন করেছেন যে, ওয়াসওয়াসার রোগী যদি সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় ও নিজ ইচ্ছায় তালাক প্রদান করে, তবে তা কার্যকর হবে?

  • গ।অথবা আপনারা কি এই কওল অনুসরণ করেন যে একজন ওয়াসওয়াসার রুগি যদি পুরুষ হয় সে যদি তার তালাক দেওয়ার নিয়ত ছাড়া বউয়ের সাথে মজা করে সেচ্ছায় শান্তচিত্তে তালাক দেয়  বা বলে তুমাকে তালাক দিলাম যদিও নিয়ত নেই কিন্তু মজা করে ইচ্ছা করে জুর জবরদস্তি ছাড়াই  এমনি বলেছে। সেই তালাক  কি হবে না নাকি হবে ?যদি সেইই রকম কিছু হয়ে থাকে দলিল দিয়ে বুজিয়ে দিবেন।কারন আমি দেখেছি যে তালাকের জন্য নিয়ত লাগে না।আর যদি এক্ষেত্রে তালাক  হয়ে থাকে সেটাও বুজিয়ে দিবেন দয়া করে।

আমি এই প্রশ্নটি কোনো আপত্তি, বিতর্ক বা অভিযোগের উদ্দেশ্যে নয়; বরং মাসআলাটি সঠিকভাবে বুঝে নেওয়ার নিয়তে এবং নিজের বিভ্রান্তি দূর করার জন্যই পেশ করেছি।

আশা করি, কুরআন–সুন্নাহ ও ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে আমাকে উপকৃত করবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের ইলম ও আমলে বরকত দান করুন। আমিন।

বিনীত নিবেদক
শাজাহান মোল্লা

1 Answer

0 votes
by (809,370 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
 وَعَنْ أَبِي اللَّيْثِ لَا يَجُوزُ طَلَاقُ الْمُوَسْوِسِ  يَعْنِي الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ عَنْ الْحَاكِمِ هُوَ الْمُصَابُ فِي عَقْلِهِ إذَا تَكَلَّمَ تَكَلَّمَ بِغَيْرِ نِظَامٍ 
ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যক্তি -যার বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে বসেছে,এবং ঐ ব্যক্তি বিবেকবুদ্ধিতে সমস্যা চলে এসেছে, তাদের তালাক গ্রহণযোগ্য নয়।(রদ্দুল মিহতার-৪/২২৪, বাহরুর রায়েক্ব-৫/৯১)


চার মাযহাব সম্ভলিত সর্ববৃহৎ ফেকহি গ্রন্থ "আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যা"গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে যে,
نَقَل ابْنُ عَابِدِينَ عَنِ اللَّيْثِ: فِي مَسْأَلَةِ طَلاَقِ الْمُوَسْوَسِ  أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ طَلاَقُ  الْمُوَسْوَسِ  ، قَال: يَعْنِي الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ
وَنَقَل ابْنُ الْقَيِّمِ: إِنَّ الْمُطْلِّقَ إِنْ كَانَ زَائِل الْعَقْل بِجُنُونٍ أَوْ إِغْمَاءٍ أَوْ وَسْوَسَةٍ لاَ يَقَعُ طَلاَقُهُ،  قَال: وَهَذَا الْمَخْلَصُ مُجْمَعٌ عَلَيْهِ بَيْنَ عُلَمَ ـ اءِ الأُْمَّةِ

- رِدَّةُ الْمُوَسْوَسِ:  
٢١ - إِنْ تَكَلَّمَ الْمُوَسْوَسُ  بِكَلاَمٍ يَقْتَضِي الرِّدَّةَ لَمْ يَكُنْ فِي حَقِّهِ رِدَّةٌ. صَرَّحَ بِذَلِكَ الْحَنَفِيَّةُ، يَعْنُونَ الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ
ইবনে আবেদিন শামী রাহ বর্ণনা করেন,ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যক্তি -যার বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে বসেছে-তার তালাক গ্রহণযোগ্য নয়।
ইবনুল কাইয়িম রাহ বলেন, যদি তালাক প্রদানকারী ব্যক্তির ওয়াসওয়াসা,বেহুশি বা পাগলামির দরুণ বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে থাকে, তাহলে তার তালাকও গ্রহণযোগ্য হবে না। এর উপর সমস্ত উলামাদের ঐক্যমত রয়েছে।

বিবেক বুদ্ধি লোপ পেতে বসা ওয়াসওয়াসা রোগীর এমন কোনো কথা বার্তা যা মুরতাদ হওয়াকে লাযিম করে দেয়, সেই কথাবার্তার দরুণ উক্ত ওয়াসওয়াসার রোগী মুরতাদ হবে না।(আল-মাওসু'আতুল ফেকহিয়্যাতুল কোয়েতিয়্যাহ-৪৩/১৫৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তালাকের ওয়াসওয়াসা গ্রস্ত ব্যক্তি সাধারণত মানষিক রোগী। কখন কি বলে তা তার মনে থাকে না। তার ধারণাতে থাকে না। এজন্য মানসিক রোগীর মত ওয়াসওয়াসা রোগীর তালাক কার্যকর হয় না। কিন্তু যদি সে মানষিক রোগীর মত না হয়, যা তার আলোচনা ও কথা বার্তা থেকে বুঝা যায়, তাহলে তালাক পতিত হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...