আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (11 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।
১. আমার বাবা পর্দা নিয়ে কটাক্ষ করে একটা কথা বলার পরে আমার অনেক রাগ উঠে যায়। তখন বলি, "তুমি তো নামাজ পড়লে তো লাভ নাই, ঈমান না থাকলে তো লাভ নাই।"
তখন বাবা বলেন, "না গেলাম, তোমরা যাইয়ো(অর্থাৎ জান্নাতে)"। তখন আমার আরো রাগ উঠে, জান্নাত জাহান্নাম এত সস্তা? তখন আমি বলি, " আচ্ছা তুমি জাহান্নামেই থাইকো"। এটা তার স্পর্ধা দেখে রেগে বলেছি, যে জাহান্নামের ভয়াবহতা জানলে এত সহজে এসব বলতেননা। তখন বাবা বলে, "এটা কি তোমরা ঠিক করবা কে কোথায় যাবে?" তখন তাকে বোঝাই যে পর্দা আল্লাহর বিধান তাই এটাকে কটাক্ষ করলে আল্লাহর উপরে নিজেকে জায়গা দেয়া হয়, এটা কুফর। তখন তিনি বলেন যে আগে যে মহিলারা পর্দা করেনাই তারা কি জাহান্নামে যাবে? তারা তো উলঙ্গ থাকেনাই৷
তখন প্রসঙ্গ অন্যদিকে চলে যায়। একসময় তিনি বলেন যে এটা তো আল্লাহর দোষ যে পুরুষকে এমন বানিয়েছে, এজন্য মহিলাদের পর্দা করতে হয়। তখন বলি যে আল্লাহ তো মহিলাদেরও দূর্বলতা দিয়েছেন, শারীরিক দূর্বলতা৷ এজন্য পুরুষরা পরিশ্রম করে।আর বলি যে আল্লাহকে তো আমরা প্রশ্ন করবনা, আল্লাহ আমাদেরকে করবেন। আমাদের সব তো আল্লাহরই দেয়া। আল্লাহ তো আর মানুষ না। তখন বাবা অন্য প্রসঙ্গে কথা বলা শুরু করেন।

যাইহোক, এখন আমি যে উপরের জাহান্নাম বিষয়ক কথাগুলো বললাম, এটা তো আমার বলার অধিকার নাই৷ আল্লাহ তো চাইলে বাবাকে মাফ করে দিতেই পারেন, আমিই জাহান্নামে চলে যেতে পারি।
এখন আল্লাহর রাগ থেকে বাঁচতে আমি কী করতে পারি?
তওবা করেছি, কালিমা পড়েছি আর ঠিক করেছি যে দাওয়াতের কোর্স করার আগপর্যন্ত মাতব্বরি করে কথা বলবনা। বাবার কাছে ক্ষমা না চাইলে কি আল্লাহ ক্ষমা করবেন? বাবার সাথে একদমই এরকম সম্পর্ক নাই, ক্ষমা চাইলে হয়তো এমন ভুলও বুঝতে পারেন যে ইসলামে বোধহয় পর্দা নাই। আমি ঠিক করেছি মেসেজ দিয়ে সুন্দর করে লিখে বলব।
২. আমার মা একদিন বলেন যে তিনি একটা স্বপ্নে পুলিশ দেখেছেন৷ তখন আমি বলি যে এটা তো না বললেই হত৷ কিন্তু মাকে দেখে মনে হল যে স্বপ্নটা ভালো স্বপ্ন, নাহলে বলতেননা। এর কয়দিন পরে আমি স্বপ্নে দেখি একটা গাড়িতে পুলিশ এসেছে। আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিনা কারণ আমি কোনো অপরাধ করিনি। আর পুলিশটাকেও মনে হচ্ছে ন্যায়বিচারক।
এর কয়দিন পরে আমার বোনকে কথায় কথায় বলি যে মা তো পুলিশ স্বপ্ন দেখেছে। তখন আমার বোন বলে সেও নাকী পুলিশ স্বপ্ন দেখেছে। পুলিশ এসে নাকী ফোন চেক করতে চাইছে আর আমার বোন টেকনিক করে বেঁচে গেছে, দেখায়নি।
এই স্বপ্নগুলোর ব্যাখ্যা কী?
by (11 points)
লিখে বলব যেহেতু এবিষয়ে কথা বলতে গেলে আবার তর্ক বেঁধে যেতে পারে উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলব।

1 Answer

0 votes
by (756,150 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
আপনান বাবার উক্ত কথাবার্তা দ্বারা তার ঈমান থাকবে না। 
আপনার উচিত, বাবার সাথে তর্কে না জড়ানো। হেকমত ও নরম ভাষায় তার সাথে কথা বলা। যাইহেক, আপনি বাবার কাছে উচ্ছবাক্য করার কারণে ক্ষমা চাইবেন।এবং তার হেদায়তের জন্য দু'আ করতে থাকবেন।আল্লাহ আপনার বাবাকে হেদায়েত দান করুক।আমীন।

(২)
خير لنا و شر علي أعدائنا والحمدلله رب العالمين
(ভালো আমাদের জন্য,খারাপ আমাদের শত্রুদের জন্য,সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার।)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَال: (الرُّؤْيَا ثَلاثٌ : فَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ ، وَحَدِيثُ النَّفْسِ ، وَتَخْوِيفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنْ رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا تُعْجِبُهُ فَلْيَقُصَّ إِنْ شَاءَ وَإِنْ رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلا يَقُصَّهُ عَلَى أَحَدٍ وَلْيَقُمْ يُصَلِّي ) 
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বপ্ন তিনি প্রকার। (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) বান্দার মনের খেয়াল এবং (৩)শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব তোমাদের কেউ পছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে তা ইচ্ছা করলে অপরের কাছে ব্যক্ত করতে পারে। আর সে অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে যেন তা ব্যক্ত না করে এবং উঠে নামায পড়ে।( সহীহ বুখারী-৭০১৭) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/734

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
বর্ণিত স্বপ্নের ব্যখ্যা জানার চেয়ে কল্যাণকর হল, করণীয় সম্পর্কে জানা।আপনারা যথাসাধ্য দান সদকাহ করবেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...