আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
108 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (6 points)
edited by
আমি এবং আমার টিম লিড ক্লায়েন্ট ভিজিটে এসেছিলাম। আসা যাওয়ার ব্যয় এবং খাওয়া দাওয়া যাবতীয় খরচ কোম্পানি বহন করেছে। যে ক্লায়েন্টের ওখানে গিয়েছিলাম উনি বলেছিল আপনাদের খরচ দিব দরকার হলে আসা যাওয়ার। কিন্তু আমরা সেটা নিব না। এখন আসবার পর উনি জোর করে দিতে গিয়েছে। আমরা কোনভাবেই না নিলে, বলছে যে আপনারা কি চেয়েছেন? চান নি। আমি এটা নিজে থেকে দিচ্ছি তো আপনারা নিবেন না কেন? আমি তো আপনাদের আসতে বলেছি। আমার টিম লিড নেয় তারপরেও না নিতে চাইলে বলে এটা আমি আপনাদের দুজনকে দিলাম নেন। এরপরে আমার টীম লিড নেয়।
ক্লায়েন্ট খুচরা টাকা দিয়েছিল ২০ টাকার বান্ডিল। তাই আমি ভা্ঙটি করার জন্যে টীম লিডের কাছে চাইলে, উনি আনুমানিক হারে অর্ধেক টাকা আমাকে দিয়ে দেয়।আম গুননে উনাকে নোট টাকা দিতে চাইলে, উনি বলে গুনা লাগবে না। আমি কারণ জানতে চাইলে উনি বলে সব কিছু বোঝা লাগবে না।

আমি হতভম্ব হয়ে টাকা রেখে দেয়। এখন এই টাকা কি হালাল হবে? আমার করণীয় কি? এটা কি হাদিয়া হবে? উনি নিজেও হারাম সম্পর্কে সচেতন মানুষ। আমি অস্বস্তিতে ভুগছি।
উল্লেখ্য: এর বিনিময়ে বর্তমানে বা ভবিষ্যৎ এ কোন এক্সট্রা সুবিধা দেওয়া বা অন্য কিছুর বিষয় নেই।
by (6 points)
যদি এই টাকা নেওয়া হারাম হয় তবে আমি এটা আফিসে সরাসরি দিতে পারবো না। আমাকে এটা হয় অফিসের সবাইকে একদিন নাস্তা করিয়ে দিতে হবে, বা লুকিয়ে অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রেখে দিতে পারি বা সদকা করে দিতে হবে।

1 Answer

0 votes
by (92,400 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/15514/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
হাদিয়া শব্দের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে 'মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ' কিতাবে এভাবে বর্ণিত রয়েছে,
هَدِيَّةٌ التَّعْرِيفُ:أ - الْهَدِيَّةُ فِي اللُّغَةِ: هِيَ الْمَال الَّذِي أُتْحِفَ وَأُهْدِيَ لأَِحَدٍ إِكْرَامًا لَهُ، يُقَال: أَهْدَيْتُ لِلرَّجُل كَذَا: بَعَثْتُ بِهِ إِلَيْهِ إِكْرَامًا، فَالْمَال هَدِيَّةٌ (١) .وَاصْطِلاَحًا عَرَّفَهَا الْحَنَفِيَّةُ بِأَنَّهَا: تَمْلِيكُ عَيْنٍ مَجَّانًا.
হাদিয়া শব্দের শাব্দিক অর্থ হল,ঐ মাল যাকে কারো সম্মানার্থে দেয়া হয় বা খরছ করা হয়। যেমন কেউ বলল,আমি অমুককে তা দিয়েছি।
আমি তার সম্মানার্থে তার নিকট এই জিনিষ প্রেরণ করেছি।যেহেতু মাল দ্বারাই হাদিয়া আদান-প্রদাণ করা হয়,তাই হাদিয়ার অপর নামই হল মাল/সম্পদ।হানাফি ফুকাহায়ে কেরামদের পরিভাষায় হাদিয়া বলা হয়,ফ্রিতে কাউকে কোনো জিনিষের মালিক বানিয়ে দেয়া। (৪২/২৫২)
 .
কোরআনে কারীমে হাদিয়া শব্দের ব্যবহার রয়েছে, শুনুন: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﻣُﺮْﺳِﻠَﺔٌ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢ ﺑِﻬَﺪِﻳَّﺔٍ ﻓَﻨَﺎﻇِﺮَﺓٌ ﺑِﻢَ ﻳَﺮْﺟِﻊُ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ - ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﺎﺀ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺗُﻤِﺪُّﻭﻧَﻦِ ﺑِﻤَﺎﻝٍ ﻓَﻤَﺎ ﺁﺗَﺎﻧِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِّﻤَّﺎ ﺁﺗَﺎﻛُﻢ ﺑَﻞْ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑِﻬَﺪِﻳَّﺘِﻜُﻢْ ﺗَﻔْﺮَﺣُﻮﻥَ
(৩৫) আমি তাঁর কাছে কিছু 'উপঢৌকন' পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে। (৩৬) অতঃপর যখন দূত সুলায়মানের কাছে আগমন করল, তখন সুলায়মান বললেন, তোমরা কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে সুখে থাক। (সূরা আন্-নামল-৩৫-৩৬)
.
হাদিয়ার ফযিলত সম্পর্কে হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে
ﻭﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : « ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘﺒﻞُ ﺍﻟﻬﺪﻳﺔ ﻭﻳُﺜﻴﺐُ ﻋﻠﻴﻬﺎ »
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং তার বিনিময়/প্রতিদান ও দিতেন। (সহীহ বুখারী-২৪৪৫)
.
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﻟﻮ ﺃُﻫـﺪﻳـﺖ ﺇﻟـﻲَّ ﺫﺭﺍﻉٌ ﻟﻘﺒـﻠﺖُ، ﻭﻟﻮ ﺩُﻋﻴﺖُ ﺇﻟﻰ ﻛُﺮﺍﻉٍ ﻷَﺟﺒﺖُ »
হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি কেউ আমার নিকট জন্তুর বাহু হাদিয়া পাঠায়,তাহলে আমি তা কবুল করব।আর যদি কেউ আমাকে পায়ের খুরা রেঁধেও দাওয়াত দেয়, তাহলেও আমি জবাব দিবো। (সহীহ বুখারী-৪৮৮৩)
.
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﺗﻬﺎﺩﻭﺍ ﺗﺤﺎﺑﻮﺍ »
হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তোমরা পরস্পর হাদিয়া দাও তবে তোমাদের পরস্পর মহব্বত সৃষ্টি হবে। (আল-আদাবুল মুফরাদ) ইরওয়াউল গালিল-৬/৪৪
.
হাফেয ইবনে আব্দুল বার রাহ বলেন,
ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﺒﻞ ﺍﻟﻬﺪﻳﺔ ﻭﻧﺪﺏ ﺃﻣﺘﻪ ﺇﻟﻴﻬﺎ، ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻷﺳﻮﺓ ﺍﻟﺤﺴﻨﺔ ﺑﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ . ﻭﻣﻦ ﻓﻀﻞﺍﻟﻬﺪﻳﺔ ﻣﻊ ﺍﺗﺒﺎﻉ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺃﻧﻬﺎ ﺗﻮﺭﺙ ﺍﻟﻤﻮﺩﺓً ﻭﺗُﺬﻫﺐ ﺍﻟﻌﺪﺍﻭﺓ 
রাসূলুল্লাহ সা. হাদিয়াকে গ্রহণ করতেন, এবং হাদিয়া দিতে উম্মতকে উৎসাহ দিতেন। এতেই নিহিত রয়েছে রাসূলুল্লাহ সা. এর উত্তম আদর্শ ও নমুনা।সুন্নাতের অনুসরণে হাদিয়ার তাৎপর্য হল যে, তা মহব্বত সৃষ্টি করে ও শত্রুতাকে দূর করে। (ফতহুল মালিক-৯/৩৫৮-৩৫৯) 
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1382 
.
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!
.
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি ক্লায়েন্ট আপনাদের দুজনকে ব্যক্তিগত ভাবে উক্ত টাকা হাদিয়া দিয়ে থাকেন তাহলে নেওয়া জায়েজ হবে। আর যদি যাতায়াত খরচ দিয়ে থাকেন। আবার যেহেতু আপনাদের কোম্পানির পক্ষ থেকেও যাতায়াত খরচ দেওয়া হচ্ছে তাই তখন উক্ত টাকার ব্যাপারে কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তার অনুমতি থাকলে আপনাদের নেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। 

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...